ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো বলেছেন, ইতালীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের সূচনা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এখন তারা বাংলাদেশের অংশীদারদের এমন প্রযুক্তি দিতে চায়, যা টেকসই উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা (লজিস্টিকস) এবং বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ইতালির ১১টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। সফরে রয়েছেন ইতালির আঞ্চলিক ট্রেড কমিশনার আন্তোনিয়েত্তা বাক্কানারি, ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সি এবং ইতালির টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকদের সংগঠন এসিআইএমআইটির কর্মকর্তারা।
ইতালির আঞ্চলিক ট্রেড কমিশনার আন্তোনিয়েত্তা বাক্কানারি বলেন, টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি উৎপাদনে উৎকর্ষতার জন্য ইতালি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। নিখুঁত প্রকৌশল দক্ষতা ও আধুনিক শিল্প নকশার সমন্বয়ে তৈরি ইতালীয় যন্ত্রপাতি বিশ্বজুড়ে নির্ভরযোগ্যতা ও উচ্চমানের কর্মক্ষমতার জন্য সমাদৃত। আমরা শুধু যন্ত্র তৈরি করি না, বরং বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করি।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ইতালির টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ ইউরো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইতালির টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ACIMIT-এর অধীনে ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বছরে প্রায় ১৭০ কোটি ইউরো মূল্যের টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি রপ্তানি করে।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর পরিচালক চৌধুরী হানিফ শোয়েব এবং বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরী।
সফরসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাসহ চট্টগ্রামে ব্যবসায়িক উপস্থাপনা, বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) বৈঠক এবং বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সহায়তা করছে বাংলাদেশে ইতালির অনারারি কনসাল সালমান ইস্পাহানি।
বাংলাদেশ সফরে অংশ নেওয়া ইতালীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কালার সার্ভিসেস, কোরিনো ম্যাকিনে, দান্তি পাওলো, ডার্স্ট, এল.এ.আই.পি., লাওয়ার, পিন্টার কাইপো, রেজিয়ানি ম্যাকিনে, সালভাদে, টেকনোরামা এবং উগোলিনি।






