সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করেছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে ৪০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং মা আমেনা গফুর চ্যারিটেবল হসপিটাল, কসবায় সহযোগিতায় আয়োজিত ক্যাম্পে রোগীদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিভেজা সকালেও দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা ক্যাম্পে ভিড় করেন। বসুন্ধরা আই হসপিটাল থেকে আসা আট সদস্যের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দল দিনব্যাপী রোগীদের সেবা দেন।
পরীক্ষা শেষে যাদের ছানি, টেরিজিয়াম, নেত্রনালির সমস্যা বা অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগ শনাক্ত হয়, তাদের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব রোগীকে ঢাকায় অবস্থিত বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘বসুন্ধরার মাধ্যমে আমি আগে এক চোখের অপারেশন করিয়েছি। এখন অন্য চোখে সমস্যা হওয়ায় ক্যাম্পের খবর পেয়ে আবার ডাক্তার দেখাতে এসেছি।’
তাহমিনা বেগম নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘গাড়ি করে নিয়ে যায়, সেবা দিয়ে আবার বাড়ি পৌঁছে দেয়। এর চেয়ে বড় উপকার আর কী হতে পারে। জেলা বা ঢাকায় না গিয়ে বাড়ির কাছেই চিকিৎসা পাচ্ছি।’
আবুল খায়ের নামে আরেক রোগী বলেন, ‘বসুন্ধরার মতো এমন সুবিধা কেউ দেয় না। তারা চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেয়। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছে।’
বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মো. আহনাক শাহরিয়ার বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও করা হয়। সব সেবাই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।’
ক্যাম্প অর্গানাইজার মো. আবু তৈয়ব জানান, বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সারা দেশে প্রায় ১৫০টি বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং হাজারো রোগীর বিনামূল্যে চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বসুন্ধরা গ্রুপের এ মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।





