• ই-পেপার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ

২৬ চেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসুন্ধরার চক্ষু ক্যাম্প, অপারেশনসহ সব সেবা বিনামূল্যে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসুন্ধরার চক্ষু ক্যাম্প, অপারেশনসহ সব সেবা বিনামূল্যে
ছবি : কালের কণ্ঠ

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামে দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করেছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে ৪০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং মা আমেনা গফুর চ্যারিটেবল হসপিটাল, কসবায় সহযোগিতায় আয়োজিত ক্যাম্পে রোগীদের চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিভেজা সকালেও দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা ক্যাম্পে ভিড় করেন। বসুন্ধরা আই হসপিটাল থেকে আসা আট সদস্যের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দল দিনব্যাপী রোগীদের সেবা দেন।

পরীক্ষা শেষে যাদের ছানি, টেরিজিয়াম, নেত্রনালির সমস্যা বা অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগ শনাক্ত হয়, তাদের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব রোগীকে ঢাকায় অবস্থিত বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘বসুন্ধরার মাধ্যমে আমি আগে এক চোখের অপারেশন করিয়েছি। এখন অন্য চোখে সমস্যা হওয়ায় ক্যাম্পের খবর পেয়ে আবার ডাক্তার দেখাতে এসেছি।’

তাহমিনা বেগম নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘গাড়ি করে নিয়ে যায়, সেবা দিয়ে আবার বাড়ি পৌঁছে দেয়। এর চেয়ে বড় উপকার আর কী হতে পারে। জেলা বা ঢাকায় না গিয়ে বাড়ির কাছেই চিকিৎসা পাচ্ছি।’

আবুল খায়ের নামে আরেক রোগী বলেন, ‘বসুন্ধরার মতো এমন সুবিধা কেউ দেয় না। তারা চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেয়। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছে।’

বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. মো. আহনাক শাহরিয়ার বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও করা হয়। সব সেবাই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।’

ক্যাম্প অর্গানাইজার মো. আবু তৈয়ব জানান, বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সারা দেশে প্রায় ১৫০টি বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং হাজারো রোগীর বিনামূল্যে চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বসুন্ধরা গ্রুপের এ মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসে নাই : রিজভী

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসে নাই : রিজভী
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসে নাই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাই জনগণের প্রতি এই সরকারের দায়বদ্ধতা আছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সাভারে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও গাছের চারা বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা পরিবেশের এক চরম সংকটকালীন অবস্থায় রয়েছি। উন্নত দেশের তুলনা আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমরা পরিবেশ দূষণের দিক দিয়ে অনেক পিছনে অর্থাৎ ১৭৩ নাম্বারে আছি। আমরা নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলছি, খাল ভরাট-দখল করছি, পুকুর ভরাট করে ফেলছি। এই পরিবেশ আমাদের আক্রান্ত করছে, অসুস্থ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, আমাদের জিডিপির প্রায় ১৮-১৯ শতাংশ টাকা স্বাস্থ্য ক্ষতিতে ব্যয় হয়। এই স্বাস্থ্য ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের জন্য। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৩২ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে এই পরিবেশ দূষণের কারণে। অথচ আমাদের বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে, নদীতে পানি নাই, খাল শুকিয়ে গেছে, বৃষ্টি আসবে কোত্থেকে, মেঘ উৎপন্ন হবে কোথা থেকে।

পরিবেশ দূষণের জন্য অপরিকল্পিত নারায়ণকে দায়ী করে রিজভী বলেন, যেখানে সেখানে বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। কৃষিজমিতে বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলোতে সরকারকে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পরিবেশ ভয়ংকর রকম পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই, আমরা যদি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেই, আমরা আসন্ন একটি ধ্বংসকে মোকাবেলা করার জন্য যদি প্রস্তুতি না নেই, তাহলে ভয়ংকর বিপদের মধ্যে পড়ে যাব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, এ্যাবের সভাপতি কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, সদস্য সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, বিএলআরআইএর ঠিকাদার হাফিজ উদ্দিন প্রমুখ।

ঋণের চাপে আত্মগোপন, সাজালেন অপহরণের নাটক

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ঋণের চাপে আত্মগোপন, সাজালেন অপহরণের নাটক
উদ্ধার হওয়া মো. রাশেদুল আলম। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিখোঁজ ডায়েরির পর মো. রাশেদুল আলম (৩৮) নামের এক যুবককে রাঙ্গুনিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি মো. রাশেদুল আলম (৩৮)। তিনি হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের মনিয়া পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে কয়েকদিন আগে রাশেদুল আলম আত্মগোপনে চলে যান এবং অপহরণের নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। পরে গত ১ জুলাই তার স্ত্রী রীনা আক্তার স্বামী নিখোঁজ ও অপহৃত হয়েছেন দাবি করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার ভোরে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে রাশেদুল আলমকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম স্বীকার করেন, ঋণের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, নিখোঁজ ডায়েরির তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঋণের কারণে আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজানোর কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসী অংশ নেয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, পরকীয়ার কারণে এক সহকারী শিক্ষকের সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তিনি পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার সংসার ভেঙে গেছে এবং তিনি নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ ও সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই ঘটনার পর দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়।