হোয়াটসঅ্যাপে ভেসে এলো আর্জেন্টিনার সাংবাদিক আন্তোনিওর বার্তা, ‘মোটেই আমরা ফেভারিট নই। স্কালোনি জানেই না, ডিফেন্সটা নিয়ে কী করবে। সালাহ্ আর ওমর মারমুশ, এই দু’জনই তছনছ করে দিতে পারে।’
আন্তোনিও তো বটেই, বুয়েনস আইরেসের যে কোনো মহল্লার একটা শিশুও জানে, কেপ ভার্দে ম্যাচের পরে নীল-সাদা জার্সির আতঙ্ক বলতে নড়বড়ে ডিফেন্স। রোমেরো আর লিসান্দ্রো মার্তিনেস বিশ্বসেরা সেন্টার ব্যাকদের অন্যতম হলে কী হবে, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভের্দে যেভাবে দুজনকে আগের ম্যাচে নাকানি-চোবানি খাইয়েছিল। তাতে স্কালোনির শান্তিতে ঘুমোনোর কথা নয়। মায়ামিতেই মেসির আস্তানা, অসংখ্য আর্জেন্টাইন এখানে থাকেন। তিনি এখানে ঈশ্বর। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি সব জায়গায় চোখে পড়বে ইন্টার মায়ামির বেবি পিঙ্ক জার্সিও। খবর এই সময়
বিখ্যাত সমু্দ্রসৈকতে ফিফার ফ্যান পার্কে বসেছে জায়ান্ট স্ক্রিন, বিচে বসেই ম্যাচ দেখবেন হাজার হাজার আর্জেন্টিনীয়। ফ্যান পার্কে প্রায় সর্বত্র নীল-সাদা পতাকা, মিউজিক সিস্টেমে বাজছে টিমের থিমসং, ‘মুচাচোস।’ ব্রাজিলের বিদায় নিয়ে গড়পড়তা আর্জেন্টিনীয় খুব বেশি আলোড়িত বলে মনে হচ্ছে না। সে জন্যই আন্তোনিও বলছেন, ‘ব্রাজিল এখন বিশ্বকাপে পাস্ট টেন্স। ওদের নিয়ে আমরা ভাবব কেন? ইজিপ্টকে কী করে সামলানো যায়, সেটাই ভাবছে সবাই।’
দক্ষিণ আমেরিকার টিম ব্রাজিল ও মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোর ছুটি করে দিয়েছে ইউরোপের নরওয়ে আর ইংল্যান্ড। আপাতত লাতিন আমেরিকার টিম বলতে বিশ্বকাপে আছে মেসির আর্জেন্টিনা আর হামেস রদ্রিগেস–লুইস দিয়াসদের কলম্বিয়া।
আটলান্টায় আজ মেসিদের প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ সালাহর মিশর। মেসি বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ঠিকই, কিন্তু আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে একক কৃতিত্বে যদি কেউ ইউরোপ জয় করে থাকেন, তিনি মোহাম্মদ সালাহ। দু’জনের খেলার স্টাইল আলাদা। লো সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি, ক্ষুদ্রতম জায়গাতেও অত্যাশ্চর্য কন্ট্রোল, অপ্রত্যাশিত টার্ন বা স্কিল যদি মেসির চিরকালীন অস্ত্র হয়, সালাহর স্টাইলের বিশেষত্ব চকিতে চমক, যখন-তখন অবিশ্বাস্য গতিতে দিক পরিবর্তন, যা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক দশকের উপরে বিশ্বের তাবড় তাবড় ডিফেন্ডারদের ভুগিয়ে এসেছে।
লিভারপুল গত মে মাসে ছেড়েছেন, কিন্তু তিনিই প্রিমিয়ার লিগে বিদেশিদের মধ্যে সর্বকালের টপ স্কোরার। মিশরীয়রা সালাহকে ডাকেন ‘আল-ফিরন’ নামে, মানে ফারাও।
কেউ কেউ আবার বলেন ‘ফোর্থ পিরামিড’, যা একটা সৌধ বা স্তম্ভ, যাকে নড়ানো যায় না, যা চিরকালীন। আটলান্টার স্টেডিয়ামে আফ্রিকার সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবেই আজ ১০ নম্বর জার্সিতে নামবেন সালাহ, তাঁর কাঁধে থাকবে বিশ্বকাপ নক আউটে বিশ্বসেরাদের সামনে কিছু করে দেখানোর দায়িত্ব।
কোচ হোসাম হাসান টিম সাজাবেন ৪-২-৩-১ ছকে। ডাবল পিভট হিসেবে মেসিকে সামলানোর দায়িত্ব থাকবে দুই মিডফিল্ডার লাসিন আর আতেয়ার উপরে। কিন্তু তাঁর আসল অস্ত্র সালাহ আর ওমর মারমুশ জুটি। দু’জনেই আপফ্রন্টে সৃষ্টিশীল, সামান্যতম জায়গা পেলে কাউন্টার অ্যাটাকে বিধ্বংসী। ওই জায়গা যে আর্জেন্টিনা ডিফেন্সে পাওয়া যায়, দেখিয়েছিল কেপ ভের্দে।
এখানেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের বড় পরীক্ষা আটলান্টায়। ৪-৪-২ ছকেই খেলার কথা স্কালোনির। মোলিনা আর তাগলিয়াফিকো দুই সাইড ব্যাক, সেন্টার ব্যাক রোমেরো আর লিসান্দ্রো মাতির্নেস। মিডফিল্ডে ম্যাকঅ্যালিস্টার, দে পল, লিসান্দ্রো পারেদেস আর এনজো ফের্নান্দেস। উপরে মেসির সঙ্গে হচ্ছেন আলভারেস। সম্ভাব্য প্রকাশিত একাদশে সেই আভাসই দেয়।
মিডফিল্ড যদি এনজো ফের্নান্দেস–দে পলরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, মেসির দিকে বল যাবে।
ঘুরে-ফিরে এই ম্যাচের ফোকাসে অবশ্যই মেসি আর সালাহ্। দুই দশ নম্বর, দুই কিংবদন্তি। কে হাসিমুখে মাঠ ছাড়বেন, সবুজ মাঠ আর সময়ই বলে দেবে।