• ই-পেপার

টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ মানবিক সংকট, ৩ দিনে ১০ জনের মৃত্যু

কালাইয়ে ৫২ লাখ টাকার খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
কালাইয়ে ৫২ লাখ টাকার খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন, সরকারি প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) অনুযায়ী কাজ না করা, শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহার, খননকৃত মাটি বিক্রি, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি, প্রকৃত দরিদ্র শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বজনদের শ্রমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং বৃক্ষরোপণের বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার না করার অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের সভাপতি বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি নীতিমালা ও প্রাক্কলন অনুসরণ না করেই দায়সারাভাবে কাজ এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাটের চেষ্টা করেছেন।

কালাই উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রায় ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ২ হাজার ১০০ মিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ ও পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় নয় লাখ টাকা ব্যয়ে নারিকেল গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত ১৩ মে এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২৯ জুন ২০২৬। সরকারি সিডিউল অনুযায়ী খালের ওপরের প্রস্থ ২০ ফুট, গ্রামের ভেতরের কিছু অংশে ১৫ ফুট, তলদেশের প্রস্থ ৮ ফুট এবং গভীরতা ৫ ফুট রেখে ১২৫ জন শ্রমিকের মাধ্যমে খননকাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল।

তবে সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) ও বাস্তব কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। খালের অল্প কিছু অংশ ছাড়া অধিকাংশ স্থানে নির্ধারিত প্রস্থ ও গভীরতা বজায় রাখা হয়নি। কোথাও কোথাও তলদেশের প্রস্থ মাত্র ৫ ফুট পাওয়া গেছে, আবার কোথাও প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় খননের কোনো চিহ্নই মেলেনি। আবার কোথাও দীর্ঘ অংশজুড়ে কচুরিপানা অপসারণ না করায় পানি চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক স্থানে কেবল উপরের অংশ সামান্য কেটে দায়সারাভাবে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটি পুনরায় ভরাট হয়ে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পে ১২৫ জন শ্রমিকের মাধ্যমে কাজ হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় মাঠে শ্রমিকের দেখা মেলেনি। প্রায় পুরো কাজই এক্সকাভেটর দিয়ে করা হয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে ১২৫ জন শ্রমিকদের নামে মাস্টাররোল প্রস্তুত করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অনেক দরিদ্র মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও পরে তাদের কাজে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে এবং অনেকেই এখনো কোনো মজুরি পাননি।

অন্যদিকে প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে বিত্তবান ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও প্রভাবশালীদের শ্রমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমে পানির মধ্যে কাজ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরির জন্যও ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ ধীরগতিতে পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের বিল প্রস্তুত ও পরিমাপের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কর্মসংস্থান কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

প্রকল্পে প্রায় নয় লাখ টাকা ব্যয়ে নারিকেল গাছ রোপণের কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছই শুকিয়ে মারা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের চারা, যথাযথ পরিচর্যার অভাব এবং দায়সারাভাবে কাজ করায় সরকারি এই বরাদ্দের সুফলও পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তালিকাভুক্ত শ্রমিক জানান, প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই ভয় পান। শ্রমিক তালিকায় প্রকৃত দরিদ্র মানুষের পরিবর্তে বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং প্রকল্প সভাপতির আত্মীয়- স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ না করলেও তাদের নামে সরকারি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবের কারণে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। 

বাইগুনী গ্রামের বাসিন্দা সুমীর জালাল বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি সম্পূর্ণ সাজানো। লোক দেখানোভাবে কাজ করে সরকারি অর্থ লুটপাটের চেষ্টা চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কিছু কর্মকর্তাও কমিশনের মাধ্যমে এসব অনিয়মে সহযোগিতা করছেন। অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

বাইগুনী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, ‘সরকারি নকশা অনুযায়ী খাল খনন করা হলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হতেন। কিন্তু যেভাবে কাজ হয়েছে, তাতে এক বর্ষাতেই আবার খাল ভরাট হয়ে যাবে। এতে সরকারের কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে না।এটা উন্নয়ন নয়, প্রকল্পের নামে বড় ধরনের পুকুরচুরি।’

তবে প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আমজাদ হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার খাল কাটা শতভাগেরও বেশি হয়েছে। সঠিকভাবে পরিমাপ করলে কোথাও নির্ধারিত মাপের চেয়েও বেশি পাওয়া যাবে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় কিছু জায়গায় বেশি গভীর করে খনন করা হয়েছে। মাটি বিক্রি কিংবা স্বজনপ্রীতি করে মাস্টাররোলে নাম দেওয়ার  অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসিবুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনে আমরা কিছু স্থানে ইস্টিমেট অনুযায়ী কাজ না হওয়ার বিষয়টি পেয়েছি। যেসব অংশে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ হয়নি বা কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলোর বিল দেওয়া হবে না। পুনরায় সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার পরই বিল পরিশোধ করা হবে। শ্রমিক তালিকা, মাস্টাররোল ও অন্যান্য অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শনে কিছু স্থানে সরকারি প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) অনুযায়ী কাজ না হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যেসব স্থানে নির্ধারিত মান ও নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি, সেসব কাজ পুনরায় সম্পন্ন করতে হবে। কাজের প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করেই বিল পরিশোধ করা হবে।তদন্তে অন্য কোন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরকারি অর্থের অনিয়ম কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রংপুরে পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার দুটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে উপজেলার সীমান্তবর্তী শাহ আমানত কোল্ড স্টোর-সংলগ্ন গুঞ্জর খাঁ এলাকায় কয়েকজন শিশু বাড়ির পাশের একটি ডোবায় গোসল ও খেলাধুলা করতে নামে। একপর্যায়ে চার শিশুর মধ্যে দুজন পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটি ওই এলাকার ফারুক মিয়ার সন্তান। অপর শিশুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ কামদেব নামাপাড়া গ্রামে শহিদুল ইসলামের দুই বছর বয়সী মেয়ে শামিমা জান্নাত খেলতে খেলতে বাড়ির পাশের পানিতে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শামিমা জান্নাতের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলছিল আমার মেয়ে। কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খুঁজতে থাকি। পরে বাড়ির পাশের পানিতে তাকে ভাসতে দেখি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।’

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল ইসলাম বলেন, ‘একই দিনে দুটি শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। বর্ষাকালে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ের পাশে শিশুদের একা খেলতে না দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে পারলে এ ধরনের অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ের চারপাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনিয়ম পেলেই পদক্ষেপ নিচ্ছি : টুকু

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
অনিয়ম পেলেই পদক্ষেপ নিচ্ছি : টুকু
মঙ্গলবার দুপুরে সাভারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করেছে। সব কিছুকে একটা নিয়মের মধ্যে আনার জন্য ইতিমধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সামনের কাজগুলো যাতে একটি নিয়মের মধ্যে চলে অনিয়ম দূর করে, যেখানে অনিয়ম পাচ্ছি সেখানেই আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সাভারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) অ্যাগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ্যাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

প্রতিমন্ত্রী এ সময় আরো বলেন, ‘আমাদের সরকার কিন্তু নির্বাচিত হয়েছে একটি অর্থবছরের শেষ কোনায় এসে। তাই আগে যেভাবে বাজেট ছিল, সেভাবেই আমাদের চলতে হয়েছে। তবে বিগত দিনে যারা অনিয়ম করেছে সেগুলো আমরা তদন্ত করছি, সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সামনের দিনগুলোতে আমরা যাতে স্বচ্ছতার সাথে কাজ পরিচালিত হয় সে ব্যাপারে আমাদের তদারকি রয়েছে, আমরা সব কিছু সঠিকভাবে করার জন্য পদক্ষেপ নেব।’

অন্যদিকে বিএলআরআইয়ের পোল্ট্রি গবেষণা প্রকল্পের উটপাখিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনাদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটির কাজ চলমান রয়েছে। আমরা অনিয়মের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছি। তদন্ত শেষে আপনাদের সব কিছু জানানো হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএলআরআইয়ের গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা গবাদি পশুর জাত উন্নয়নের আমরা আমাদের জায়গা থেকে পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা জাত উন্নয়নের পাশাপাশি খামারিদের কিভাবে উন্নত করা যায়, মানুষের চাহিদা কিভাবে আমরা পূরণ করতে পারব সে ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা আশা করছি, অনিয়ম দূর করতে সক্ষম হবো এবং গরু উৎপাদন বাড়াতে পারব। এ ছাড়া দামও জাতে কমে সে ব্যাপারেও আমরা পদক্ষেপ নেব।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, এ্যাবের সভাপতি কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, বিএলআরআইএর ঠিকাদার হাফিজ উদ্দিন প্রমুখ।

নেত্রকোনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ৪ ফার্মেসিকে জরিমানা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ৪ ফার্মেসিকে জরিমানা
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে চারটি ফার্মেসিকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী।

অভিযানকালে বিভিন্ন ফার্মেসিতে তদারকি চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির পাশাপাশি বৈধ লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিটি ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার আওতায় আসা ফার্মেসির মালিকরা হলেন সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আমিনুল ইসলাম।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩–এর ৪০(খ) ধারায় চার ফার্মেসিকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিকদের ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।