• ই-পেপার

মার্কিন আইসিই এজেন্টের গুলিতে মেক্সিকান অভিবাসী নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, বাড়ল তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, বাড়ল তেলের দাম
ছবি: রয়টার্স

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা এবং দেশটির অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাত বাড়তে পারে এবং তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বুধবার ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত- দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য আগে দেওয়া সাধারণ লাইসেন্সও বাতিল করে আবার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ২৮ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৮ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩৭ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৮১ ডলারে ওঠে।

এর আগের দিন মঙ্গলবারও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছিল। তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করলে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। জ্বালানি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি এখনো খুবই অনিশ্চিত। তিনি বলেন, এতদিন বাজারে ধারণা ছিল, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম আরো কমবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে যারা তেলের দাম আরো কমবে বলে বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন অবস্থান বদলাতে পারেন। সল কাভোনিকের মতে, যদি উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের তুলনায় ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হবে। এতে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তখন অনেক ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল আবার বাজারে আসবে। সেই প্রত্যাশায় অনেকেই তেলের দাম আরো কমবে ধরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই প্রত্যাশা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তিনটি জাহাজে হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে কাতার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। হামলার শিকার জাহাজগুলোর একটি ছিল কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি ট্যাংকার। জাহাজটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি ড্রোন আঘাত করার পর ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে। এদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সুপারট্যাংকার ‘ওয়েদিয়ান’। তবে কী কারণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে আবারও উদ্বেগ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরালোভাবে কার্যকর করছে। তারা জাহাজগুলোকে ওমানের দিকের পথ এড়িয়ে ইরানের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে বলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সংঘাত শুরুর আগের মতোই এই আন্তর্জাতিক নৌপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ নিজেদের জ্বালানির মজুত ব্যবহার করছে।

এদিকে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকদের ধারণা, ৩ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেল কমেছে।
 

পশ্চিমবঙ্গে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের গুলিতে নিহত
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার পুনর্গঠন করার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে। একই মামলায় আরো এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা সেখানে ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই ও পুনর্গঠন করছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এ সময় প্রভাস হঠাৎ পুলিশের কাছ থেকে একটি বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে মামলার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রভাস মণ্ডলকে শনাক্ত করে পুলিশ। ওই ফুটেজে তাকে নিহত কিশোরীর সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে প্রভাসকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এদিকে একই মামলায় কবীর মোল্লা নামে আরো এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
 

খামেনির মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন পেজেশকিয়ান ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন পেজেশকিয়ান ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরাকে অবস্থান করছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে, খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বিমানবন্দরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ ও পবিত্র নগরী কারবালায় খামেনির জানাজার মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ ইরাকি শিয়া মুসলমান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইরাকে বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান কেবল জানাজায় অংশ নিতেই ইরাকে যাননি, বরং ইরাকি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও করেছেন। বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে পেজেশকিয়ান এই জানাজা ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের চমৎকার আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রপতি ইরাকের এই আতিথেয়তাকে দুই দেশের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ইসলামী সংহতির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দুই দেশের কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে পেজেশকিয়ান ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তবে ইরান কোনো চুক্তি লঙ্ঘন বা প্রতিষ্ঠিত সমঝোতা থেকে বিচ্যুত হবে না।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, ইরাকি সরকার ও জনগণের খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ করা একটি নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। তিনি প্রয়াত ইরানি নেতাকে ‘ইসলামী বিশ্বের একজন রূপান্তরকারী ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি ‘গুরুতর’

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে দুই জাহাজে হামলা, সমুদ্রপথে ঝুঁকি ‘গুরুতর’
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির কাছে মঙ্গলবার কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার এবং একটি সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। এতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির মাত্রা ‘গুরুতর’ ঘোষণা করেছে। ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে।

এ হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান নাজুক সমঝোতা নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। তিন মাসের যুদ্ধের পর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি আবার চালু রাখতে সম্মত হলেও সর্বশেষ ঘটনায় সেই পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় বাধা তৈরি করেছিল। তবে মঙ্গলবার হামলার পরপরই হোয়াইট হাউজ উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে ইরানকে তেল বিক্রির যে বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল করে দেয়। জুন মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তির অংশ হিসেবে বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতি বাতিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের কর্মকাণ্ড ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’। এর ‘পরিণতি’ হবে।

অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছোট সিদ্ধান্ত নয়। তার ভাষায়, এই অনুমতিটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কারণ এর মাধ্যমে ইরান যুক্তি দেখাতে পারত যে, হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ বা ভিত্তি তৈরি হয়েছে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্য’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ করেছে। ১৫ জুনের পর এই প্রথম ঝুঁকির মাত্রা এতটা বাড়ানো হলো। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃত শত্রুতামূলক হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে চলাচল করতে হবে। সংস্থার মতে, নাবিকদের সমুদ্রে নৌবাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি, চলাচলের পথে জট এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে জাহাজ চলাচল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-পঞ্চমাংশ পর্যায়ে রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৬টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

সাম্প্রতিক হামলার পর যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে- তেলের বাজারের এমন ধারণা দুর্বল হয়ে পড়েছে। লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকন্যালি বলেন, ‘গতকাল থেকে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল হওয়া দেখাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি তেলের বাজার যতটা শক্ত ও স্থায়ী ভেবেছিল, বাস্তবে তা ততটা নয়।’ একটি সূত্র জানায়, কাতারের এলএনজি বহনকারী 'আল রেকাইয়াত' ট্যাংকারটির বাম পাশে আঘাত লাগে। আরেকটি সূত্রের দাবি, হামলার পর ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগায় জাহাজটি বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে পড়ে। তবে জাহাজের নাবিকরা নিরাপদ ছিলেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলার সম্পূর্ণ আইনি দায় ইরানের। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দেশটি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কাতারের কোনো এলএনজি ট্যাংকার হামলার শিকার হলো। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। আল রেকাইয়াতের মালিক নাকিলাত, কাতারএনার্জি, কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, সৌদি পতাকাবাহী সুপারট্যাংকার 'ওয়েদিয়ান' হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ওমান উপকূলের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলার জন্য তারা পুরোপুরি ইরানকে দায়ী করছে। জাহাজটি সৌদি জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাহরির মালিকানাধীন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করছে না বা জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থায় কারসাজি করছে, তারা ঝুঁকিতে পড়ছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ইরানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরো বলেন, নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে ইরান। এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার পরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। এতে জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকারে পণ্য পরিবহনের গড় দৈনিক ভাড়া বেড়ে প্রায় তিন লাখ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে এই ভাড়া ছিল দুই লাখ ডলারেরও কম। জাহাজ দালাল প্রতিষ্ঠান বিআরএস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বারবার খোলা ও বন্ধ হওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ট্যাংকার বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এতে দুই দিকেই জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। গত সপ্তাহে দুই দেশের নতুন দফার আলোচনা শেষ হলেও কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, না হলে "কাজ শেষ করবে"। তিনি আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাবে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি অব্যাহত রাখলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরু হবে না।