• ই-পেপার

মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, পোড়া নোটের নেপথ্যে কী?

নজরুল ইসলাম, গফরগাঁও
টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, পোড়া নোটের নেপথ্যে কী?
ফাইল ছবি

লিটল ফকির একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পান সিগারেটের ছোট একটি দোকান চালান। প্রতিদিন তাকে ছেঁড়া-ফাঁড়া খুচড়া টাকা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘সব খুচরা টেহাই ছিঁড়া-ফাঁড়া। কোনা-কানায় আগুনে পুড়া। হারাদিনে ৩০/৪০জন কাস্টমারের লগে ছিঁড়া-ফাঁড়া টেহা লইয়া কাইজ্জা করুন লাগে। মিজাজ কিবায় ভালা থাকব?’

মহির খারুয়া গ্রামের রিকশা চালক মনির উদ্দিন বলেন, ‘ছিঁড়া ফাঁড়া টেহা লইয়া যাত্রীগর লগে হারাদিনই কাইজ্জা হরুন লাগে। যাত্রীরাও দেয় ছিঁড়া ফাঁড়া টেহা। হিব্বার ভাংতি ফেরত দেওয়ার সময় আমিও দেই ছিঁড়া টেহা। কোনো ভালা খুচরা টেহা নাই।’

শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লিটল ফকির বা রিকশাচালক মনির উদ্দিন নয় বাজারে প্রচলিত ছেঁড়া ফারা, ময়লাযুক্ত খুচরা টাকা নিয়ে সব শ্রেণির পেশার মানুষই ভুক্তভোগী। শুধু ছেঁড়া ফাঁড়া, ময়লাযুক্ত অনেক টাকার গায়ে আছে মাদকের ক্ষত। বিশেষ করে ১০, ২০, ৫০ টাকার নতুন নোটের কোনা আগুনে পোড়া থাকে। আগুনে পোড়া টাকা কেউ নিতে চায় না। মাদকসেবীরা খুচরা নতুন টাকার ওপর মাদক রেখে আগুনে পুড়িয়ে মাদক সেবন করে বলে জানা গেছে।

বাজারে প্রচলিত এসব ছেঁড়া ফাঁড়া, ময়লাযুক্ত খুচরা টাকা ব্যাংক নেয় না। বিকল্প না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এসব ছেঁড়া ফাঁড়া ময়লা যুক্ত টাকা ব্যবহার করে। ফলে এসব টাকা লেনদেন করার সময় সর্বত্র ঝগড়া ফ্যাসাদ, বাহাস ও তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তারচেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো এসব ছেঁড়া ফাঁড়া ময়লা যুক্ত টাকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন চর্ম রোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটের পীড়া। ক্রমে এসব রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি এক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই সমস্যার ভুক্তভোগী আমি নিজেও। প্রচলিত ছেঁড়া ফাঁড়া ময়লা যুক্ত টাকার আদান-প্রদান অবশ্যই সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর প্রচলিত ছেঁড়া ফারা ময়লা যুক্ত টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে এই নম্বরের নতুন টাকা বাজারে ছাড়ার কথা। কিন্তু আমার জানা মতে কয়েক বছর ধরে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ছেঁড়া ফাঁড়া ময়লা যুক্ত টাকার মাধ্যমে স্ক্যাবিস, একজিমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ও ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের পীড়া হতে পারে।’

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, মারধরে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, মারধরে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. শরিফুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকার উত্তর চেরাংগার মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি কুমিল্লা মহানগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের মঠপুস্করনী ভাড়া থাকতেন। 

স্থানীয়রা জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক স্থানীয় বাবু ও মাইন উদ্দিন মালু ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলামকে মারধর করেন। এতে শরিফ গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চলছে।

পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সই করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সময়ে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে আজ বিকেল ৩টা থেকে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। স্রোতের ওপর নির্ভর করে পরবর্তীতে ফেরি চলাচল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

শেষ ১৫ মিনিটের ঝড়ে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়, কেন্দুয়ায় আনন্দ মিছিল

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
শেষ ১৫ মিনিটের ঝড়ে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়, কেন্দুয়ায় আনন্দ মিছিল

গোল হজম, পেনাল্টি মিস, একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া আর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া! সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা যে দমে যাওয়ার পাত্র নয়! মৃত্যুকূপের কিনারা থেকে ফিরে এসে মাত্র ১৩ মিনিটের এক টর্নেডো ঝড়ে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। মিশরকে ৩-২ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এরপরই আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়ে আতশবাজি, পটকা, মিছিল, নাচ, ভুভুজেলা বাঁশির আওয়াজ ও পতাকা নিয়ে মধ্যরাতেই  নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খেলার শেষের ১৩ মিনিটে সব ওলট পালট করে দিইয়েছেন ফুটবলের জাদুঘর মেসি। আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিসরকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছেন।

আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা ‘মেসি, মেসি’ বলে স্লোগানও দেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খেলা শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দুয়া পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শুরু হয় এ জয় উদ্‌যাপন। এ সময় আর্জেন্টিনার কর্মী-সমর্থকসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষও ছিল লোকে লোকারণ্য। এসময় আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা ‘মেসি, মেসি’ বলে স্লোগান দেন।

সন্ধ্যার পর থেকেই কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা মানুষের ভিড় জমে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন। তাদের কেউ এসেছিলেন সপরিবার, কেউ বন্ধু–পরিচিতজনদের সঙ্গে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি পরিয়ে শিশুদের নিয়েও কোনো কোনো মা–বাবা এসেছিলেন। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সহপাঠী ও জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রিয় দলকে সমর্থন জানান আর্জেন্টিনা-সমর্থক শিক্ষার্থীরাও।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকে সব খেলা দেখাতে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হয়েছিল। এসব স্থানে আর্জেন্টিনা কর্মী সমর্থকসহ সঙ্গে খেলা দেখেছেন কেন্দুয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। আগের ম্যাচগুলোর ধারাবাহিকতায় খেলা দেখতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিড় জমে হাজারো মানুষের।

আতশবাজি, পটকা, মিছিল, নাচ ও ভুভুজেলা বাঁশির আওয়াজে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। নানাভাবে আর্জেন্টিনার বিজয় উদ্‌যাপনে শামিল হন সমর্থকরা। 

উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়া সমর্থক হলি খান বলেন, মেসি আমাদের অনুভূতি, মেসি আমাদের স্বপ্ন, মেসি তুমি এগিয়ে যাও, আমরা আছি তোমার সঙ্গে। এ রাত আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

আরেক সমর্থক কেন্দুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জোবায়ের ইমন হিলালী বলেন, খেলা শেষ হতে আর মাত্র ১৫ মিনিট বাকী। তখনও শান্ত হয়ে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছিল মেসি। তাই বলব শেষ হাসি সেই হাসে যার মধ্যে ধৈর্য থাকে, আর্জেন্টিনা সাপোর্টার হিসেবে আমি আনন্দিত।