• ই-পেপার

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, মারধরে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০
ছবি: কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন যাত্রী। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার কম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ৮টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবাঐ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অপরদিকে লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের বাসচালক নিহত হন। গুরুতর আহত হন লাকি পরিবহনের বাসচালকসহ উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। নিহত বাসচালক কিশোরগঞ্জের দড়ি চরিয়াকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম রুবেল (৫১)।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ইউনিক পরিবহনের বাস চালকের মরদেহ উদ্ধার করেন এক দুর্ঘটনাকবলিত লাকি পরিবহনের বাস সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইউনিক পরিবহন ও লাকি পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, পোড়া নোটের নেপথ্যে কী?

নজরুল ইসলাম, গফরগাঁও
টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, পোড়া নোটের নেপথ্যে কী?
ফাইল ছবি

লিটল ফকির একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পান সিগারেটের ছোট একটি দোকান চালান। প্রতিদিন তাকে ছেঁড়া-ফাড়া খুচরা টাকা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘সব খুচরা টেহাই ছিঁড়া-ফাড়া। কোনা-কানায় আগুনে পুড়া। হারাদিনে ৩০/৪০জন কাস্টমারের লগে ছিঁড়া-ফাড়া টেহা লইয়া কাইজ্জা করুন লাগে। মিজাজ কিবায় ভালা থাকব?’

মহির খারুয়া গ্রামের রিকশাচালক মনির উদ্দিন বলেন, ‘ছিঁড়া-ফাড়া টেহা লইয়া যাত্রীগর লগে হারা দিনই কাইজ্জা হরুন লাগে। যাত্রীরাও দেয় ছিঁড়া-ফাড়া টেহা। হিব্বার ভাংতি ফেরত দেওয়ার সময় আমিও দেই ছিঁড়া টেহা। কোনো ভালা খুচরা টেহা নাই।’

শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লিটল ফকির বা রিকশাচালক মনির উদ্দিন নয় বাজারে প্রচলিত ছেঁড়া-ফাড়া, ময়লাযুক্ত খুচরা টাকা নিয়ে সব শ্রেণির পেশার মানুষই ভুক্তভোগী। শুধু ছেঁড়া-ফাড়া, ময়লাযুক্ত অনেক টাকার গায়ে আছে মাদকের ক্ষত। বিশেষ করে ১০, ২০, ৫০ টাকার নতুন নোটের কোনা আগুনে পোড়া থাকে। আগুনে পোড়া টাকা কেউ নিতে চায় না। মাদকসেবীরা খুচরা নতুন টাকার ওপর মাদক রেখে আগুনে পুড়িয়ে মাদক সেবন করে বলে জানা গেছে।

বাজারে প্রচলিত এসব ছেঁড়া-ফাড়া, ময়লাযুক্ত খুচরা টাকা ব্যাংক নেয় না। বিকল্প না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এসব ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকা ব্যবহার করে। ফলে এসব টাকা লেনদেন করার সময় সর্বত্র ঝগড়া-ফ্যাসাদ, বাহাস ও তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তারচেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো এসব ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন চর্ম রোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটেরপীড়া। ক্রমে এসব রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি এক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই সমস্যার ভুক্তভোগী আমি নিজেও। প্রচলিত ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকার আদান-প্রদান অবশ্যই সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর প্রচলিত ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে এই নম্বরের নতুন টাকা বাজারে ছাড়ার কথা। কিন্তু আমার জানা মতে কয়েক বছর ধরে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ছেঁড়া-ফাড়া ময়লা যুক্ত টাকার মাধ্যমে স্ক্যাবিস, একজিমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ও ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের পীড়া হতে পারে।’

মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনা আগামী তিনদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই থেকে ১০ জুলাই বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো ধরনের টিকিট বিক্রি করা যাবে না এবং দর্শনার্থীদের ঝরনাগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি হলে আকস্মিক ঢল, পাহাড়ধস এবং ঝরনায় পানির প্রবল স্রোতের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধের সময়কালে কোনো পর্যটককে ঝরনায় প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঝরনায় পানির স্রোত অনেক বেশি। এ সময় ঝরনায় যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ঝরনায় যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সই করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সময়ে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে আজ বিকেল ৩টা থেকে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। স্রোতের ওপর নির্ভর করে পরবর্তীতে ফেরি চলাচল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’