• ই-পেপার

হবিগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২০

হবিগঞ্জের দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে এক বাসচালক নিহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার এলাকায় আকিজ ভেঞ্চার কম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইউনিক বাসচালক কিশোরগঞ্জের দড়ি চরিয়াকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম রুবেল (৫১) এবং ইউনিক বাসের যাত্রী সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাদ্দাম হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবাঐ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী লাকি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। অপরদিকে লাকি পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ইউনিক পরিবহনের বাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করেন এক দুর্ঘটনাকবলিত লাকি পরিবহনের বাস সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইউনিক পরিবহন ও লাকি পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা গেছেন।’

টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, পোড়া নোটের নেপথ্যে কী?

নজরুল ইসলাম, গফরগাঁও
টাকা যেন জীবাণুর কারখানা, পোড়া নোটের নেপথ্যে কী?
ফাইল ছবি

লিটল ফকির একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পান সিগারেটের ছোট একটি দোকান চালান। প্রতিদিন তাকে ছেঁড়া-ফাড়া খুচরা টাকা নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘সব খুচরা টেহাই ছিঁড়া-ফাড়া। কোনা-কানায় আগুনে পুড়া। হারাদিনে ৩০/৪০জন কাস্টমারের লগে ছিঁড়া-ফাড়া টেহা লইয়া কাইজ্জা করুন লাগে। মিজাজ কিবায় ভালা থাকব?’

মহির খারুয়া গ্রামের রিকশাচালক মনির উদ্দিন বলেন, ‘ছিঁড়া-ফাড়া টেহা লইয়া যাত্রীগর লগে হারা দিনই কাইজ্জা হরুন লাগে। যাত্রীরাও দেয় ছিঁড়া-ফাড়া টেহা। হিব্বার ভাংতি ফেরত দেওয়ার সময় আমিও দেই ছিঁড়া টেহা। কোনো ভালা খুচরা টেহা নাই।’

শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লিটল ফকির বা রিকশাচালক মনির উদ্দিন নয় বাজারে প্রচলিত ছেঁড়া-ফাড়া, ময়লাযুক্ত খুচরা টাকা নিয়ে সব শ্রেণির পেশার মানুষই ভুক্তভোগী। শুধু ছেঁড়া-ফাড়া, ময়লাযুক্ত অনেক টাকার গায়ে আছে মাদকের ক্ষত। বিশেষ করে ১০, ২০, ৫০ টাকার নতুন নোটের কোনা আগুনে পোড়া থাকে। আগুনে পোড়া টাকা কেউ নিতে চায় না। মাদকসেবীরা খুচরা নতুন টাকার ওপর মাদক রেখে আগুনে পুড়িয়ে মাদক সেবন করে বলে জানা গেছে।

বাজারে প্রচলিত এসব ছেঁড়া-ফাড়া, ময়লাযুক্ত খুচরা টাকা ব্যাংক নেয় না। বিকল্প না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এসব ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকা ব্যবহার করে। ফলে এসব টাকা লেনদেন করার সময় সর্বত্র ঝগড়া-ফ্যাসাদ, বাহাস ও তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তারচেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো এসব ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন চর্ম রোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটেরপীড়া। ক্রমে এসব রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি এক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই সমস্যার ভুক্তভোগী আমি নিজেও। প্রচলিত ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকার আদান-প্রদান অবশ্যই সমস্যা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর প্রচলিত ছেঁড়া-ফাড়া ময়লাযুক্ত টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে এই নম্বরের নতুন টাকা বাজারে ছাড়ার কথা। কিন্তু আমার জানা মতে কয়েক বছর ধরে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ছেঁড়া-ফাড়া ময়লা যুক্ত টাকার মাধ্যমে স্ক্যাবিস, একজিমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ও ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের পীড়া হতে পারে।’

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, মারধরে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, মারধরে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. শরিফুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকার উত্তর চেরাংগার মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি কুমিল্লা মহানগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের মঠপুস্করনী ভাড়া থাকতেন। 

স্থানীয়রা জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক স্থানীয় বাবু ও মাইন উদ্দিন মালু ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলামকে মারধর করেন। এতে শরিফ গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চলছে।

মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনা আগামী তিনদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই থেকে ১০ জুলাই বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো ধরনের টিকিট বিক্রি করা যাবে না এবং দর্শনার্থীদের ঝরনাগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি হলে আকস্মিক ঢল, পাহাড়ধস এবং ঝরনায় পানির প্রবল স্রোতের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধের সময়কালে কোনো পর্যটককে ঝরনায় প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঝরনায় পানির স্রোত অনেক বেশি। এ সময় ঝরনায় যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ঝরনায় যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’