• ই-পেপার

সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জে মুখোমুখি চীন-জাপান, সংঘর্ষ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন দাবি

কেন ইরাকে নেওয়া হলো খামেনির মরদেহ?

অনলাইন ডেস্ক
কেন ইরাকে নেওয়া হলো খামেনির মরদেহ?
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন এখন ইরাকে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে খামেনির মরদেহবাহী বিমানটি পবিত্র নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান যৌথভাবে মরদেহটি গ্রহণ করেন। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকেই নাজাফের রাস্তায় প্রয়াত এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো শিয়া মুসলমানের ঢল নামে।

কেন খামেনির কফিন ইরাকে নেওয়া হলো?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দাফন ইরানে হওয়ার কথা থাকলেও তার কফিন বিশেষভাবে ইরাকে নিয়ে আসার পেছনে দুইটি বড় কারণ রয়েছে। শিয়া মুসলমানদের কাছে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থান। নাজাফে ইসলামের চতুর্থ খলিফা ও ইমাম হযরত আলী (রা.) এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মাজার শরিফ অবস্থিত। একজন শীর্ষ শিয়া ধর্মগুরু হিসেবে খামেনিকে ইসলামের এই পুণ্যভূমিতে এনে সর্বোচ্চ ধর্মীয় শ্রদ্ধা ও বিদায় জানানো হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে ইরান ও ইরাক নিজেদের অভিন্ন ‘আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক বন্ধন’ বিশ্বমঞ্চে প্রদর্শন করতে চায়। ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই যৌথ আয়োজন দুই মহান জাতির গভীর সম্পর্ককে প্রমাণ করে। কারবালার রাস্তায় খামেনির ছবির নিচে বড় ব্যানারে লেখা হয়েছে—‘যিনি আমেরিকাকে অপমান করেছেন।’

হাজার হাজার মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে ইরাকের কর্তৃপক্ষ নাজাফজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। শোকযাত্রার পুরো পথজুড়ে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার ও পানীয়ের শত শত স্বেচ্ছাসেবী স্টল বসানো হয়েছে। নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিনটি বিমানযোগে ৬০ কিলোমিটার দূরে কারবালা শহরে নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম হুসাইনের মাজারে আরেকটি ঐতিহাসিক শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

টানা ছয় দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক শোকযাত্রার অংশ হিসেবে খামেনির কফিনটি প্রথমে তেহরান ও কোম শহর ঘুরে ইরাকে আনা হয়। ইরাকের নাজাফ ও কারবালার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই সপ্তাহের শেষভাগে কফিনটি পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ যে, ১৯৮০-এর দশকে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে ইরান ও ইরাকের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হলেও, ২০০৩ সালে সাদ্দামের পতনের পর ইরাকে শিয়া-প্রধান সরকার ক্ষমতায় আসলে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়।

তুরস্ককের কাছে ট্রাম্পের এফ-৩৫ বিক্রির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক
তুরস্ককের কাছে ট্রাম্পের এফ-৩৫ বিক্রির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেন নেতানিয়াহু
ছবি: রয়টার্স

তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনার বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাদেরকে এই যুদ্ধবিমান দিলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যেন তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন না দেওয়া হয়। নেতানিয়াহুর দাবি, শুধু এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করলেই তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে উঠবে না। তিনি বলেন, তুরস্ক বর্তমানে এমন একটি সরকারের অধীনে রয়েছে, যেটি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত। তার দাবি, এই সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী। নেতানিয়াহু আরো বলেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শ মিত্র নয়। তার অভিযোগ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়া হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর প্রভাব পড়বে। নেতানিয়াহুর ভাষায়, 'এই ক্ষমতা এমন একটি দেশের হাতে তুলে দিলে আগ্রাসনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।' 
 
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য আসে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের সময়। সফরের সময় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধু দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, 'আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। এখন সময় এসেছে।'

ট্রাম্প তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখান। তিনি বলেন, তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। এস-৪০০ ব্যবস্থা এখনো তুরস্কের কাছে থাকা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এ মুহূর্তে এ নিয়ে তার বড় কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি এরদোয়ানের প্রশংসা করে বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। তিনি তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের 'অসাধারণ মিত্র' বলেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তুরস্ক এমন কিছু দেশের চেয়েও বেশি বিশ্বস্ত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করে। ট্রাম্প এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে বিশ্বের অন্যতম সেরা যুদ্ধবিমান হিসেবে উল্লেখ করেন। এরদোয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আগে আলোচনা হয়েছে এবং তুরস্ক ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছে। তিনি বলেন, অতীতে তুরস্ককে পাঁচটি যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 
  
তুরস্ককে এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করলেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে- এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখেন এবং তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ দেখেন। দুই দেশের স্বার্থ বেশির ভাগ সময় একসঙ্গেই মিলে যায়। নেতানিয়াহু বলেন, দুই নেতা এখনো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
 

বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা

অনলাইন ডেস্ক
বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা
ছবি : রয়টার্স

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান বুধবার (৮ জুন) বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে দুই দেশে থাকা ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তারা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির একটি লাইসেন্স বাতিল করে। এতে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে পবিত্র শহর কোমে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের স্মরণে বড় শোকসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ধারাবাহিক হামলায় ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ওপর কঠোর মূল্য আরোপ করা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানি বাহিনীর এই অযৌক্তিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হননি। তবে সিরিকের একটি বাণিজ্যিক জেটিতে আঘাত হানা একটি গোলার স্প্লিন্টারে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিরিক ও বন্দর আব্বাসের মাছ ধরার জেটিতেও হামলা হয়েছে এবং কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় আগুন ধরে যায়।

প্রেস টিভি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল খার্গ দ্বীপ দিয়ে রপ্তানি করা হয়। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের বিবৃতিতে খার্গ দ্বীপের কোনো উল্লেখ করেনি।

এদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স মার্কিন হামলাকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এসব ঘটনা গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি বা লাইসেন্স বাতিল করেছে। আগে এই লাইসেন্সের আওতায় ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারত।

লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে এ লাইসেন্সের আওতায় চলমান সব লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

জলাবদ্ধতাই মুম্বাইয়ের নিয়তি : হাইকোর্টের ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
জলাবদ্ধতাই মুম্বাইয়ের নিয়তি : হাইকোর্টের ক্ষোভ
ছবি : এএনআই।

বৃষ্টি হলে শুধু চট্টগ্রাম বা ঢাকা নয়, ডুবে যায় ভারতের মুম্বাইও। বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় বলিউডের তারকাদের থাকার এই শহরের পথঘাট। বোম্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জলাবদ্ধতাকেই মুম্বাইয়ের নিয়তি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এ সংকট মানবসৃষ্ট, কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

গত কয়েক দিনের টানা রেকর্ড-ভাঙা ভারি বর্ষণে ডুবে গেছে মুম্বাইয়ের পথঘাট, রীতিমত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে ট্রেন চলাচল, যানজটে নাকাল আরব সাগরের পাড়ের অভিজাত এই শহরটি।

এ অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বলেছেন, নাগরিকদের অসচেতনতা, অবৈধভাবে জমি দখলের প্রবণতা, ড্রেন বন্ধ করা এবং পাবলিক অবকাঠামোর অপব্যবহারের কারণেই জলাবদ্ধতার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। একটি রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্প সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালে বোম্বে হাইকোর্ট মুম্বাইয়ের জলাবদ্ধতা নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

হাইকোর্ট বলেন, মানুষ মানুষ বর্জ্য দিয়ে ড্রেন আটকে রাখে, রাস্তাকে অবৈধ পার্কিংয়ের জায়গায় পরিণত করে এবং খাবারের স্টল দিয়ে ফুটপাত আটকে রাখে। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ঘুগে বলেন, এমনকি হাইকোর্টের বাইরের ফুটপাতগুলোও অবৈধ দোকানে দখল হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বভাব হলো নিজেদের মাতৃভূমিকে লুণ্ঠন করা। আমরা বেআইনিভাবে জমি দখল করি, আর যখন উচ্ছেদের নোটিশ আসে কেবল তখনই আইনের বই খুঁজি।’