ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান বুধবার (৮ জুন) বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে দুই দেশে থাকা ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তারা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির একটি লাইসেন্স বাতিল করে। এতে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে পবিত্র শহর কোমে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের স্মরণে বড় শোকসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ধারাবাহিক হামলায় ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ওপর কঠোর মূল্য আরোপ করা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানি বাহিনীর এই অযৌক্তিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন। এটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হননি। তবে সিরিকের একটি বাণিজ্যিক জেটিতে আঘাত হানা একটি গোলার স্প্লিন্টারে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিরিক ও বন্দর আব্বাসের মাছ ধরার জেটিতেও হামলা হয়েছে এবং কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় আগুন ধরে যায়।
প্রেস টিভি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল খার্গ দ্বীপ দিয়ে রপ্তানি করা হয়। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের বিবৃতিতে খার্গ দ্বীপের কোনো উল্লেখ করেনি।
এদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স মার্কিন হামলাকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এসব ঘটনা গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি বা লাইসেন্স বাতিল করেছে। আগে এই লাইসেন্সের আওতায় ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারত।
লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে এ লাইসেন্সের আওতায় চলমান সব লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।