• ই-পেপার

বন্যার পানিতে যান চলাচল বন্ধ, সাজেকে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা

সাজেকে আটকা পড়েছেন ৬০০ পর্যটক

অনলাইন ডেস্ক
সাজেকে আটকা পড়েছেন ৬০০ পর্যটক

প্রবল বর্ষণে সড়কে পানি ওঠায় রাঙামাটির পর্যটন স্পট সাজেকে ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাহুল চাকমা বলেন, ‘সাজেকের মাচালং সড়কে পানি ওঠায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। যদি বিকেলের মধ্যে সড়ক থেকে পানি সরে যায় তবে আটকাপড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ি সদরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপাতত আটকাপড়া পর্যটকদের কাছ থেকে রুমভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। এর আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।’

একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটি জেলায় চলমান টানা ভারি বর্ষণের ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

ফুলবাড়ীতে বজ্রপাতে ছেলের মৃত্যু, বাবা আহত

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
ফুলবাড়ীতে বজ্রপাতে ছেলের মৃত্যু, বাবা আহত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গোপাল হোসেন নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের ভাটপাইল (নয়াপাড়া), নন্দি গ্রামের মাঠে ঘটনাটি ঘটে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমদ হাছান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত গোপাল হোসেন মোখলেছার রহমানের বড় ছেলে।

জানা গেছে, বাবা-ছেলে মাঠে দ্বিরোপন দুগুজি (আঞ্চলিক) করা অবস্থায় ছেলে গোলাপ হোসেন বজ্রপাতে মারা যান। বাবা মোখলেছার রহমান গুরুতর আহত হওয়ায় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মাধবদীতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পের শতাধিক গাছ কর্তনের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
মাধবদীতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পের শতাধিক গাছ কর্তনের অভিযোগ
রাতের আঁধারে শতাধিক চারা কর্তনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল লোকের বিরুদ্ধে। ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী আবাসন প্রকল্পের খালি জায়গায় দুই হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণের তিনদিন পরই রাতের আঁধারে শতাধিক চারা কর্তনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল লোকের বিরুদ্ধে।

গত ২৯ জুন রাত তিনটার দিকে মাধবদীর আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল এলাকায় এই আবাসন প্রকল্পে গাছের চারাগুলো কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। এর তিনদিন আগে ২৬ জুন ওই আবাসন প্রকল্পে চারাগুলো রোপণ করা হয়। এ ঘটনায় ২ জুলাই আবাসন প্রকল্পের স্টাফ রাজীব হোসেন মাধবদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৯ জুন রাতে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবাসী পল্লীতে আসেন। তারা ভেতরে প্রবেশ করে পোস্ট ক্যাম্পে ভাঙচুর চালান। পরে রোপণ করা শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছের চারা কেটে ফেলেন। এই ঘটনায় জড়িত মোজাম্মেল, সিরাজুল, তাহারুল, মামুন, মাসুদ, ফিরোজ ও আমান- এই সাতজনকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গুতুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী আবাসন প্রতিষ্ঠান পূর্বায়ন সিটিতে কর্মরত। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত ছিলেন আরও ১০-১২ জন। তাদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

আবাসন প্রকল্পের প্রজেক্ট স্টাফ রাজীব হোসেন বলেন, ‘আমরা গাছের চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলাম। প্রজেক্টে হামলার সময় তারা ওই চারাগুলোও কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় জিডি করি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা চাই, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিক।’

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতের আঁধারে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ একটি জিডি করেছে। যাদের নাম এসেছে, দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘স্যার আপনাকে আব্বু ডাকলাম, কয়টা নাম্বার দেন’ উত্তরপত্রে ছাত্রীর আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
‘স্যার আপনাকে আব্বু ডাকলাম, কয়টা নাম্বার দেন’ উত্তরপত্রে ছাত্রীর আবেদন
সংগৃহীত ছবি

পাসের আশায় পরীক্ষার খাতায় শিক্ষককে ‘আব্বু’ সংবোধন করে নম্বর চেয়ে আবেদন লিখেছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। উত্তরপত্রে লেখা সেই আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নিজের ফেসবুক আইডিতে শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রের ছবি প্রকাশ করলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া উত্তরপত্রে দেখা যায়, প্রশ্নের উত্তর লেখার পরিবর্তে খাতায় সে লিখেছে, ‘স্যার, সত্যি কথা বলতে আজকে শিখবো; কালকে শিখবো এরকম করে সময় চলে গেছে। কিছু শেখা হয়নি। তাই পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখতে পারলাম না। বলছিলাম কী স্যার, আপনাকে আব্বু ডাকলাম। দয়া করে আমাকে কয়টা নাম্বার দিন। আব্বু, আব্বু, আব্বু ... আব্বু, আমাকে কয়টা নাম্বার দিন।’

উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই শিক্ষার্থীর ভাষাগত ও শিক্ষাগত দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ এটিকে কোনো একক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।

উত্তরপত্রটি প্রকাশ করা শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরতেই উত্তরপত্রটি শেয়ার করেছি। কাউকে হেয় বা বিব্রত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’

তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ. ন. ম. হাসান জানান, একটি উত্তরপত্র দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তবে এমন ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উত্তরপত্রের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া-লেখা ও ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’