• ই-পেপার

অস্ট্রেলিয়ায় সেতুর টাওয়ারে উঠে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জে মুখোমুখি চীন-জাপান, সংঘর্ষ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন দাবি

অনলাইন ডেস্ক
সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জে মুখোমুখি চীন-জাপান, সংঘর্ষ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন দাবি
ছবি: রয়টার্স

বিতর্কিত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীন ও জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ওই এলাকায় একটি জাপানি মাছ ধরার নৌকা এবং চীনের উপকূলরক্ষী জাহাজকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে দুই দেশ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে।

পূর্ব চীন সাগরের এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে চীন ও জাপানের মধ্যে। জাপান দ্বীপগুলোকে সেনকাকু নামে পরিচিত করলেও চীন এগুলোকে দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জ বলে দাবি করে। এই সমুদ্র এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের জাহাজের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। উভয় দেশই সেখানে নিয়মিত টহল চালায় এবং একে অপরকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। 

চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী মঙ্গলবার জানায়, তারা পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করা একটি জাপানি মাছ ধরার নৌকাকে সরিয়ে দিয়েছে। চীনের দাবি, জাপানি ওই নৌকাটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন জলসীমায় 'অবৈধভাবে প্রবেশ' করেছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে সেটিকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তবে জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনী এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে চীনের দুটি উপকূলরক্ষী জাহাজ একটি জাপানি মাছ ধরার নৌকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। নৌকাটিতে দুইজন আরোহী ছিলেন। জাপান জানায়, তারা চীনা ওই দুটি জাহাজকে বাধা দেয় এবং সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। টোকিও বলেছে, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমায় চীনের জাহাজের এ ধরনের চলাচল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। জাপানের দাবি, চীন ওই এলাকায় নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের আইন মেনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা 'শান্ত এবং দৃঢ়ভাবে' প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সেনকাকু বা দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জের বিরোধ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বিরোধ। কৌশলগত অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে এলাকাটি দুই দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।

জলাবদ্ধতাই মুম্বাইয়ের নিয়তি : হাইকোর্টের ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
জলাবদ্ধতাই মুম্বাইয়ের নিয়তি : হাইকোর্টের ক্ষোভ
ছবি : এএনআই।

বৃষ্টি হলে শুধু চট্টগ্রাম বা ঢাকা নয়, ডুবে যায় ভারতের মুম্বাইও। বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় বলিউডের তারকাদের থাকার এই শহরের পথঘাট। বোম্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জলাবদ্ধতাকেই মুম্বাইয়ের নিয়তি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এ সংকট মানবসৃষ্ট, কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

গত কয়েক দিনের টানা রেকর্ড-ভাঙা ভারি বর্ষণে ডুবে গেছে মুম্বাইয়ের পথঘাট, রীতিমত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে ট্রেন চলাচল, যানজটে নাকাল আরব সাগরের পাড়ের অভিজাত এই শহরটি।

এ অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বলেছেন, নাগরিকদের অসচেতনতা, অবৈধভাবে জমি দখলের প্রবণতা, ড্রেন বন্ধ করা এবং পাবলিক অবকাঠামোর অপব্যবহারের কারণেই জলাবদ্ধতার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। একটি রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্প সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালে বোম্বে হাইকোর্ট মুম্বাইয়ের জলাবদ্ধতা নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

হাইকোর্ট বলেন, মানুষ মানুষ বর্জ্য দিয়ে ড্রেন আটকে রাখে, রাস্তাকে অবৈধ পার্কিংয়ের জায়গায় পরিণত করে এবং খাবারের স্টল দিয়ে ফুটপাত আটকে রাখে। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ঘুগে বলেন, এমনকি হাইকোর্টের বাইরের ফুটপাতগুলোও অবৈধ দোকানে দখল হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বভাব হলো নিজেদের মাতৃভূমিকে লুণ্ঠন করা। আমরা বেআইনিভাবে জমি দখল করি, আর যখন উচ্ছেদের নোটিশ আসে কেবল তখনই আইনের বই খুঁজি।’
 

পশ্চিমবঙ্গে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা

পুলিশের গুলিতে অভিযুক্ত ছেলের মৃত্যুর পর মা বললেন, কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশের গুলিতে অভিযুক্ত ছেলের মৃত্যুর পর মা বললেন, কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর এলাকায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার মা সন্ধ্যা মণ্ডল জানিয়েছেন সে নিজের কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে।

বুধবার সকালে পুলিশ প্রভাসের মৃত্যুর খবর তার মা সন্ধ্যা মণ্ডলকে জানায়। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি জানান, তার ছেলে নিজের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। এমনকি ছেলের মরদেহ আনতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার পরিণতি সে পেয়েছে। একটি শিশুর সঙ্গে অন্যায় করার পর তার মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনো দুঃখ বা আপত্তি অনুভব করছেন না। তিনি বলেন, 'ও যেরকম কর্ম করেছে, মারা গেছে, ও যেরকম দুষ্কর্ম করেছে, আমার কোনও আর আপত্তি নেই, কষ্ট নেই, আর দুঃখ নেই। ও যেরকম একটা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, ও তো সেই মরেছে। শেষ আমার। আমরা আনব না। আমার কেউ নেই। আমি আনতে পারব না। আমি ও দেখতে পারব না। আমি ওর আর কিছু করব না। ও যাক।'

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল আজ বুধবার পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে বারুইপুর থানার ছয় জনের একটি দল প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তদন্তের অংশ হিসেবে সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, ওই সময় প্রভাস এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ গুলি চালালে প্রভাস গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের দাবি, তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যে পুকুর থেনি নাবালিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার কাছের একটি ঝুপড়িতে বসে ঘটনার দিন আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার মাদক সেবন করছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা প্রভাস মণ্ডলকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকাকে সেখানে নিয়ে আসতে বলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাবালিকাকে সেখানে আনার পর সে পালানোর চেষ্টা করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে একটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহ ফেলার সময় বস্তা ছিঁড়ে যায়। এরপর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
 

বারুইপুরের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডলকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনার পর প্রভাস মণ্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল। এখন প্রভাসের মৃত্যু হলেও মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত বিচার করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের ওই কিশোরী। পরের দিন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর  তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সন্দেহভাজনক একজনকে গণধোলাই দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে জানা যায়, নিহত সেই ব্যক্তি নির্দোষ। 

গণপিটুনিতে নিহতের পরিবার ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঘটনা নিয়ে কড়া বার্তা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, 'এই ধরনের ঘটনা যাতে রাজ্যে না ঘটে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।' তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'পুলিশ যা করার করছে, সমস্ত এসপি, সিপি-র সঙ্গে কথা বলেছি। যারা পুলিশের গাড়ি ভেঙেছে, রেললাইন উপড়েছে, তাদের ছাড় নয়।' এসময় গণপিটুনির সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি। 
 

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

অনলাইন ডেস্ক
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধীচক্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বড় আন্তর্জাতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপজুড়ে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, হত্যা, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত এসব অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় অভিযান এটি।

‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে এই সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ইউনাইটেড স্টেটস অ্যাটর্নি অফিস। কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে সংঘটিত সহিংসতা, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধে জড়িত তিনটি বড় অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক বছরের যৌথ তদন্তের ফল হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ক্যালিফোর্নিয়ায়, একজন ইন্ডিয়ানায় এবং একজন জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার হন।

এ ছাড়া কানাডায় তিনজন এবং স্পেনে একজনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানের আগেই সাতজন আসামি হেফাজতে ছিলেন। তবে এখনো ১০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানের সময় তদন্তকারীরা প্রায় এক মেট্রিক টন কোকেন, এক কেজি হেরোইন, প্রায় ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছেন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো এলাকায় ২৩টি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে ১১টি স্থাপনায় তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়।

এই অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া এবং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধ দমনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে।

কর্তৃপক্ষ এই তদন্তকে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব সংগঠন সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, ‘যেসব আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও এশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো একযোগে কাজ করে একাধিক মহাদেশে সক্রিয় এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।

এদিকে মামলার অন্যতম গুরুতর অভিযোগটি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে ঘিরে। ৩৩ বছর বয়সী গ্যাং নেতা লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে ভারতে কারাবন্দি রয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি কারাগারে বসেই অবৈধ মোবাইল ফোন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগযন্ত্র ব্যবহার করে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই নিজেকে জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করলেও আড়ালে তিনি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অপরাধীচক্র পরিচালনা করতেন।

হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ড

অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও রয়েছে। আদালতের নথিতে তাকে শুধু ‘এইচ.এস.এন’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় অপরাধীচক্রের কারারুদ্ধ প্রধান লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার উত্তর আমেরিকাভিত্তিক সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। 

লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ গুরুদ্বারের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মুখে পড়ে। 

নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েক মাস পর তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের এজেন্টদের সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে কানাডার কর্তৃপক্ষ। তবে ভারত সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে।

যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বিষ্ণোই ও সিংহের বিরুদ্ধে কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এবং অন্য কোনো কর্মকর্তা দাবি করেননি যে, ভারত সরকার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বা এ সম্পর্কে আগে থেকে জানত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় অবৈধ একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে লরেন্স বিষ্ণোই এই হত্যার পরিকল্পনা পরিচালনা করেন। তিনি এক সহযোগীর কাছে হরদীপ সিং নিজ্জারের ছবি ও অবস্থানের একাধিক ঠিকানা পাঠিয়েছিলেন, যাতে হামলা চালানো সহজ হয়। এতে আরো বলা হয়, বিষ্ণোইয়ের শৈশবের বন্ধু সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’ উত্তর আমেরিকায় ‘লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
 
কানাডার নাগরিক নিজ্জার ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে ‘খালিস্তান’ নামে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচারণা চালাতেন। এ কারণে নয়াদিল্লি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

কানাডার পুলিশ ২০২৪ সালের মে মাসে হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করে। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রে কথিত বন্দুকধারীদের আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাদের শুধু ষড়যন্ত্রে সাহায্য করেছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমলে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রথম সরকারি সফরে ভারত সফর করেন এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। আশা করা হচ্ছে, চুক্তিটি নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তবে কার্নির এই উদ্যোগ কিছু শিখ সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়েছে। 

তাদের অভিযোগ, কানাডা সরকার ভারতকে যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে শিখ-কানাডীয়দের সুরক্ষা দিতেও অটোয়া যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে তারা দাবি করেছে।