• ই-পেপার

খামেনির মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন পেজেশকিয়ান ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়ায় সেতুর টাওয়ারে উঠে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় সেতুর টাওয়ারে উঠে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে ১৪০ মিটার উঁচু একটি সেতুর টাওয়ারে উঠে ছবি আঁকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থান করায় পুলিশের সঙ্গে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ সময় সেতুর একটি লেন বন্ধ রাখতে হয়, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

মঙ্গলবার মেলবোর্নের বোল্টে ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার কাছে অবস্থিত এই ক্যান্টিলিভার সেতুর টাওয়ারে উঠে ওই যুবক স্প্রে পেইন্ট দিয়ে একটি বড় কার্টুন পাখির ছবি আঁকেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবকটি টাওয়ারের একেবারে চূড়ায় বসে আছেন। তার দুই পা নিচের দিকে ঝুলছিল। পরে একই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কর কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি বলেন, নিচে নামার আগে তার কাছে ড্রোনের মাধ্যমে একটি চিনাবাদামের মাখনের স্যান্ডউইচ পৌঁছে দিতে হবে।

তার এই দাবির পর পুলিশ ও ওই যুবকের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। নিরাপত্তার কারণে সেতুর একটি লেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভিক্টোরিয়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পল হোগান বলেন, কয়েক ঘণ্টা পর যুবকটি টাওয়ার থেকে নিচে নামলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, যুবকের বিরুদ্ধে সেতুর বাইরের দেয়ালে স্প্রে দিয়ে ছবি আঁকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ বারবার নিচে নামতে বললেও তিনি দীর্ঘ সময় সেই নির্দেশ মানেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, পুরো ঘটনায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে ইউনিফর্মধারী পুলিশ, মহাসড়ক টহল পুলিশ, সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং জল পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সেতুর গায়ে আঁকা ছবিটি ‘প্যাম দ্য বার্ড’ নামে পরিচিত একটি কার্টুন পাখির ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেলবোর্নের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে এই প্রতীক দেখা গেছে। শহরের ঐতিহাসিক ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট রেলওয়ে স্টেশনেও একই ধরনের ছবি আঁকা হয়েছিল। তবে কী কারণে শেষ পর্যন্ত ওই যুবক নিচে নামতে রাজি হন, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। এদিকে ঘটনার পর ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে লেখা হয়, 'স্যান্ডউইচ ছাড়াই এখানে ড্রোন উড়িয়ে পাঠানোর সাহস দেখাল!' পোস্টটি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তার দাবি অনুযায়ী চিনাবাদামের মাখনের স্যান্ডউইচ পাঠানো হয়নি।

মেলোনিকে ‘ভালো মানুষ’ বললেও ইরানের বিষয়ে সাহায্য না করায় সমালোচনা ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
মেলোনিকে ‘ভালো মানুষ’ বললেও ইরানের বিষয়ে সাহায্য না করায় সমালোচনা ট্রাম্পের

একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক বিরোধ এখন তুঙ্গে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ট্রাম্প মেলোনিকে একজন ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সংকটে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তুরস্কে আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে।

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেলোনির সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা স্বীকার করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে মেলোনি আমাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করায় তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তিনি এই সংকটে জড়াতে রাজি হননি, তাই সম্পর্কটা কিছুটা তিক্ত হয়েছে। তবে আমি তাকে পছন্দ করি, তিনি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু আমার মনে হয় তিনি একটি বড় ভুল করেছেন।’

মূলত গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পথে সিসিলির সিগোনেলা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালি। ওয়াশিংটন রোম সরকারের কাছ থেকে কোনো পূর্বানুমতি না নেওয়ায় ইতালি এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এ ছাড়া ইরান সংকটে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে ইতালির পাশে দাঁড়াতেও অস্বীকৃতি জানান।

মেলোনি ও ট্রাম্পের মধ্যকার এই বিরোধের সূত্রপাত গত মাসে, যখন ট্রাম্প দাবি করেন যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সাথে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। মেলোনি এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানিয়ে বলা গল্প বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে মেলোনিকে ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় এবং ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘সংযম প্রয়োজন’। এই পোস্টটি দুই নেতার বিবাদকে পুনরায় উস্কে দেয়। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের নিন্দা করায় পোপ লিও-র ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে মেলোনিও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্পের একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্যের জবাবে ইতালীয় সরকার আপাতত নীরব থাকার এবং উত্তেজনা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ট্রাম্প নিজের হয়েই কথা বলেন। আমাদের এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আছেন যিনি বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিতে ভালোবাসেন। আমরা এই ধরনের মন্তব্যের জবাব দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের মুখোমুখি হলে মেলোনি কী করবেন, তা নিয়ে তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মেলোনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ট্রাম্পকে এড়িয়ে যাবেন না, বরং এই পরিস্থিতি বুদ্ধিমত্তার সাথে সামলাবেন এবং ট্রাম্পকে হাসিমুখে অভিবাদন জানাতে পারেন।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত : ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি জানিয়েছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।’ তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য জোটের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই দাবি ডেনমার্ক ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে তার অনড় অবস্থান প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, এই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে সত্যিকার অর্থে সাহায্য করার জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করে না। ট্রাম্প আরো বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাছাড়া অঞ্চলটি চীন ও রাশিয়ার জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। রাশিয়ার হাত থেকে ডেনমার্ককে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও তারা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে রাজি হচ্ছে না বলে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আঙ্কারায় এক ভাষণে কড়া জবাব দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মিত্র দেশগুলোর উচিত ডেনিশ রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা। ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে চায়—এটি তাদের একটি সুপরিচিত অবস্থান। তবে আমি আশা করি, এটাও সবাই সমানভাবে জানেন যে এমনটা কোনোদিনই ঘটতে যাচ্ছে না।’ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে এই কূটনৈতিক লড়াই শুরু হলেও ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আঙ্কারার এই সম্মেলনে সুদূর উত্তর, আর্কটিক বা গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল তার নিজের জনগণের দ্বারাই নির্ধারিত হওয়া উচিত। সবসময় এমনই হয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে।’ তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই চেষ্টা দীর্ঘদিনের। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও গত জুন মাসে জানিয়েছিলেন যে, এই জটিল বিষয়টি নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি বিষয়টিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মোনাকো বোমা হামলার সন্দেহভাজনের মরদেহ মিলল ইউক্রেনে

অনলাইন ডেস্ক
মোনাকো বোমা হামলার সন্দেহভাজনের মরদেহ মিলল ইউক্রেনে
ছবি: রয়টার্স

মোনাকোতে গত সপ্তাহে হওয়া বোমা হামলার প্রধান সন্দেহভাজন এক ইউক্রেনীয় নারীকে নিজ দেশে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত নারীর নাম আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা। ২৯ জুন মোনাকোতে হওয়া বোমা হামলার পর ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম ছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, কিয়েভের কাছে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তলের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী। অন্যজন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা।

তদন্তে জানা গেছে, ১ জুলাই ইউক্রেনে ফেরার পর ওই দুই ব্যক্তি একাধিকবার বেরেজোভস্কার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তার ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অ্যাকাউন্টে কয়েক দফায় টাকা পাঠিয়েছিলেন। প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, তিনি অপর আসামির সঙ্গে মিলে ৩৯ বছর বয়সী বেরেজোভস্কাকে হত্যা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, বেরেজোভস্কার সঙ্গে যোগাযোগ, তাকে টাকা পাঠানো বা এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাননি। তিনি নিজের উদ্যোগেই এসব কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, হত্যার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোনাকোর বোমা হামলার ঘটনাতেও তাদের জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের সাবেক ওই কর্মকর্তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বেজমেন্ট কক্ষ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সেটি নির্যাতনকক্ষের মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।


গত সপ্তাহে মোনাকোতে হওয়া বোমা হামলায় ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া আবাসন ব্যবসায়ী ভাদিম ইয়ারমোলাইয়েভ গুরুতর আহত হন। হামলায় আহত হন তার ব্যবসায়িক অংশীদার এবং তার ছেলেও। ভাদিম ইয়ারমোলাইয়েভ সাত বছর আগে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব নেন। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর ২০২৩ সালে ইউক্রেন তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে।

মোনাকোর কর্তৃপক্ষ আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছিল। এছাড়া জনসমাগমস্থলে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক বসানো এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। মোনাকোর ডেপুটি প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, হামলার পর বেরেজোভস্কা হেঁটে পাশের দেশ ফ্রান্সে যান। পরে ইতালি হয়ে ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ অতিক্রম করে গাড়িতে জার্মানিতে পালিয়ে যান। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম 'উক্রাইনস্কা প্রাভদা' জানায়, সোমবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১১টার দিকে কিয়েভের কাছে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, মোনাকোর বোমা হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং এ ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া সব তথ্য ইতোমধ্যে মোনাকোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে।