• ই-পেপার

বিদ্যুৎবিহীন জাপান গার্ডেন সিটি, ভোগান্তিতে তিন হাজারের বেশি বাসিন্দা

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
ফাইল ছবি

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিকব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার সায়েদাবাদ আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সিসিইএর ২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ কাঁচপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবামূলক ও পরিচালনাগত সুবিধা বাড়াতে শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট, অফিস কক্ষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব কমিটিতে উপস্থাপন করে। কমিটি প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবে। কর্মকর্তারা জানান, কাঁচপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবা উন্নয়ন ও পরিচালনাগত সক্ষমতা জোরদার করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক আয়োজিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।’ 

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব আরো বলেন, ‘গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।’

এ সময় তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত (Multi-Approach) কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন। এ সময় কার্যকর মশক নিধনে সম্ভাব্য নতুন প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনী ধারণাসমূহের ওপর পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআরের অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

পল্লবীতে ২০ ককটেল, পেট্রলভর্তি বোতলসহ যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
পল্লবীতে ২০ ককটেল, পেট্রলভর্তি বোতলসহ যুবক গ্রেপ্তার

রাজধানীর পল্লবীতে ২০টি ককটেল, পেট্রলভর্তি একাধিক বোতলসহ মো. সামি (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৪০ থেকে ৪৫ জন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পল্লবী থানাধীন ১২ নং সেকশনের ব্লক-সি লাইন-১ এলাকায় সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের হয়। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সামিকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবকসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সামির কাঁধে থাকা একটি কালো রঙের স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে ২০টি ককটেল এবং বিভিন্ন আকারের প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পেট্রল জব্দ করা হয়। জব্দ করা আলামতের মধ্যে একটি ৫০০ মিলিলিটার এবং কয়েকটি ২৫০ ও ২০০ মিলিলিটারের পেট্রলভর্তি বোতল রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ

ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ ডিসি ফরিদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ ডিসি ফরিদার

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সই করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং কমিটি ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, খোলা জায়গা ও জমে থাকা পানির স্থান নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর সভাপতি থাকবেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এ ছাড়া একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক বা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা। এ কারণেই আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও যেন তারা একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন এডিস মশার প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলা শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন—সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ‘ক্লিন স্কুল টিম’ শুধু একটি কমিটি নয়, এটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।