• ই-পেপার

পল্লবীতে ২০ ককটেল, পেট্রলভর্তি বোতলসহ যুবক গ্রেপ্তার

বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক আয়োজিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।’ 

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব আরো বলেন, ‘গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।’

এ সময় তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত (Multi-Approach) কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন। এ সময় কার্যকর মশক নিধনে সম্ভাব্য নতুন প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনী ধারণাসমূহের ওপর পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআরের অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ

ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ ডিসি ফরিদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ ডিসি ফরিদার

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সই করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং কমিটি ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, খোলা জায়গা ও জমে থাকা পানির স্থান নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর সভাপতি থাকবেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এ ছাড়া একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক বা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা। এ কারণেই আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও যেন তারা একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন এডিস মশার প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলা শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন—সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ‘ক্লিন স্কুল টিম’ শুধু একটি কমিটি নয়, এটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।

হাতিরঝিল লেক থেকে বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাতিরঝিল লেক থেকে বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর হাতিরঝিল লেক থেকে মো. আজিম উদ্দিন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে হাতিরঝিলের রেইনবো ক্রসিং সংলগ্ন ১ নম্বর ব্রিজের পাশের লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম অভি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর আগে সেখানে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা লেকের পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন।

তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

নিহত আজিম উদ্দিন পশ্চিম রামপুরার উলুম রোডের ৩০৬ শিমুল বাগ এলাকার মো. কফিল উদ্দিনের ছেলে।

ঢাকায় গত ২০ বছরে নগরায়ণের নামে নরকায়ন হয়েছে: গুলশান সোসাইটির সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় গত ২০ বছরে নগরায়ণের নামে নরকায়ন হয়েছে: গুলশান সোসাইটির সভাপতি
ফাইল ছবি

গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেছেন, গত ২০ বছরে নগরায়ণের নামে নরকায়ন হয়ে গেছে। ঢাকা শহর শেষ। পৃথিবীর যে তিনটা নিকৃষ্টতম শহর, তার মধ্যে ঢাকা হচ্ছে একটা। এখান থেকে বের করে আনার বিশাল দায়িত্ব পড়েছে আমাদের প্রশাসক মহোদয়ের কাঁধে। সেটা একদিনে হবে না। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেককে পরিষ্কার করার জন্য ওনার নেতৃত্বে একটা কমিটি করে দিয়েছেন এবং আপনারা জেনে অবাক হবেন, ঢাকা শহরের মতো শহরে কোনো সুয়ারেজ প্ল্যানিং নেই।

তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে। গুলশানকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়তে সবার সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তৈরি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে দেখা গেছে বিশ্বে বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। সূচকে বিশ্বের ১৭৩ শহরের মধ্যে বাসযোগ্যতার দিক দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্ক ও ত্রিপোলি শহর।

সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো বিবেচনা করে এ সূচক প্রকাশ করা হয়। সূচকে ঢাকা ১০০-এর মধ্যে ৪২ স্কোর নিয়ে ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে। স্কোর ৮০-এর ওপরে হলে গ্রহণযোগ্য আর ৪০-এর নিচে হলে সেই শহরকে অসহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৪২ স্কোর নিয়ে ঢাকা অসহনীয় শহরের চেয়ে সামান্য ভালো আছে। গত বছরের একই অবস্থান ছিল বাংলাদেশের। স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে স্কোর ১০০-এর মধ্যে ঢাকার স্কোর ৪৫। স্বাস্থ্যসেবায় ৪২। সংস্কৃতি ও পরিবেশের ক্ষেত্রে ৪১। শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কোর ৬৭, যা সর্বোচ্চ। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ঢাকার স্কোর মাত্র ২৭, যা সর্বনিম্ন।