• ই-পেপার

বাম হাতে পানি পান করলে গুনাহ হবে কি?

যে দুই সময়ে তওবা গ্রহণ করা হবে না

মুফতি ওমর বিন নাছির
যে দুই সময়ে তওবা গ্রহণ করা হবে না
সংগৃহীত ছবি

মানুষ ভুল করে, গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, আবার অনুতপ্তও হয়। তাই ইসলামে তওবা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক মহামূল্যবান অনুগ্রহ। তওবার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় পাপীও আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বান্দার ফিরে আসাকে এতটাই ভালোবাসেন যে, তিনি বারবার তাকে ক্ষমার আহ্বান জানান। কিন্তু এই ক্ষমার সুযোগ অনন্তকাল খোলা থাকবে না। এমন দুটি সময় আসবে, যখন তওবার সব দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তখন অনুতাপ, কান্না কিংবা ক্ষমা প্রার্থনা কোনো উপকারে আসবে না। তাই একজন সচেতন মুমিনের কর্তব্য হলো—সুযোগ থাকা অবস্থায় গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর দরবারে খাঁটি তওবা করা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, বান্দা যত বড় অপরাধই করুক না কেন, আন্তরিকভাবে ফিরে এলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়।

প্রথম সময় : মৃত্যুর মুহূর্তে তওবা গ্রহণ করা হবে না
মৃত্যুর ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে গেলে এবং মৃত্যুর বাস্তবতা চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেলে তখন আর তওবার সুযোগ থাকে না। কারণ তখন গায়েবের প্রতি বিশ্বাসের পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা সারাজীবন পাপ করতে থাকে, অতঃপর তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে বলে, ‘এখন আমি তওবা করলাম’—তাদের তওবা গ্রহণ করা হবে না।” (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বান্দার তওবা গ্রহণ করেন, যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যায় (মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয়)।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৩৭, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৫৩)
তাই কেউ যেন এই ভেবে গুনাহে লিপ্ত না থাকে যে, জীবনের শেষ দিকে তওবা করে নেবে। কারণ মৃত্যুর সময় কখন এসে যাবে, তা কেউ জানে না।

দ্বিতীয় সময় : সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পর
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন হলো সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। সেই ঘটনার পর আর নতুন করে ইমান আনা কিংবা তওবা করা কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যেদিন তোমার প্রতিপালকের কিছু মহান নিদর্শন এসে যাবে, সেদিন এমন ব্যক্তির ইমান কোনো উপকারে আসবে না, যে আগে ইমান আনেনি বা ইমানের মাধ্যমে কোনো সৎকাজ অর্জন করেনি।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়। যখন তা উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখবে, তখন সবাই ইমান আনবে। কিন্তু তখন সেই ইমান কোনো উপকারে আসবে না, যে আগে ইমান আনেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫৭)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ রাতে তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের পাপী তওবা করতে পারে। আবার দিনে তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতের পাপী তওবা করতে পারে। এভাবে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৫৯)

আল্লাহ ভালোবাসেন তওবাকারীদের
তওবা শুধু গুনাহ মোচনের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর ভালোবাসা লাভের অন্যতম উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

আরেক আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)
আর ‘তাওবাতুন নাসুহা’ বা খাঁটি তওবা হলো এমন তওবা, যেখানে বান্দা আন্তরিকভাবে পাপের জন্য লজ্জিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে পাপ বর্জন করে, পুনরায় সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করে এবং মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে তা আদায় করে দেয়।

অতএব, তওবা মানুষের জীবনের নতুন সূচনা। এটি হতাশার নয়, বরং আশার দরজা। আল্লাহ তাআলা বান্দার ফিরে আসাকে ভালোবাসেন এবং আন্তরিক তওবাকারীকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু মৃত্যুর আগমুহূর্ত এবং সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পর সেই সুযোগ আর থাকবে না। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো—আজই গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। কারণ আগামীকাল আমাদের ভাগ্যে কী লেখা আছে, তা কেউ জানে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খাঁটি তওবা (তাওবাতুন নাসুহা) করার তাওফিক দান করুন, গুনাহ থেকে হেফাজত করুন এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঈমানের ওপর অটল-অবিচল রাখুন। আমিন।

জীবনের পাঁচ অশুভ পরিণাম থেকে বাঁচার দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জীবনের পাঁচ অশুভ পরিণাম থেকে বাঁচার দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে কিছু অশুভ গুণ ও পরিণতি এমন আছে, যা দুনিয়ার শান্তি নষ্ট করে এবং আখিরাতের সফলতাকেও বিপন্ন করে তোলে। তাই মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শুধু ইবাদত-বন্দেগির শিক্ষা দেননি; বরং এমন সব দোয়াও শিখিয়েছেন, যা মানুষের ঈমান, চরিত্র ও পরকালকে নিরাপদ রাখে। তিনি আল্লাহর কাছে পাঁচটি ভয়াবহ বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন—কৃপণতা, কাপুরুষতা, এমন বার্ধক্য যেখানে মানুষ অসহায় ও অক্ষম হয়ে পড়ে, দুনিয়ার বিভ্রান্তিকর ফিতনা এবং কবরের শাস্তি। এই পাঁচটি বিষয় মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক আচরণ ও আখিরাত—সব ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলে। তাই এই পাঁচটি ভয়াবহ পরিণাম থেকে বাঁচার দোয়া হলো-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আউজু বিকা আন আরদ্দা ইলা আরজালিল উমুরি, ওয়া আউজু বিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া, ওয়া আউজু বিকা মিন আজাবিল কবরি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা থেকে, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি অসহায় ও অতিশয় বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি পৃথিবীর ফিতনা থেকে এবং আশ্রয় কামনা করছি কবরের শাস্তি থেকে।

হাদিস : বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের এই পাঁচটি বিষয় থেকে নিয়মিত আশ্রয় চাইতে শিখিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৩৭০)

মসজিদে নববীর প্রাচীনতম ঐতিহাসিক ‘সূর্যঘড়ি’

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মসজিদে নববীর প্রাচীনতম ঐতিহাসিক ‘সূর্যঘড়ি’
সংগৃহীত ছবি

আধুনিক ডিজিটাল ঘড়ি কিংবা উন্নত সময়-পরিমাপ প্রযুক্তির বহু আগে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সময় নির্ধারণের মাধ্যম ছিল সূর্যঘড়ি। আর সেই গৌরবময় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন আজও সংরক্ষিত রয়েছে মসজিদে নববীতে। শতাব্দীপ্রাচীন এই সূর্যঘড়ি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; বরং এটি ইসলামী সভ্যতায় বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং ইবাদতের অপূর্ব সমন্বয়ের এক জীবন্ত সাক্ষ্য।

১৩৩৫ হিজরি (১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ) সালে নির্মিত এই সূর্যঘড়িটি এমনভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল, যাতে সূর্যের ছায়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে সময় নির্ধারণ করা যায়। মসজিদে নববীর ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশেষ গাণিতিক হিসাব ও নির্দিষ্ট মাপকাঠি অনুসারে এটি নির্মাণ করা হয়। ফলে যান্ত্রিক ঘড়ির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত নামাজের সময় নির্ধারণে এটি ছিল অন্যতম নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

এটি মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজের নিকটে অবস্থিত। যা আজও ইসলামী ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামে সময়ের গুরুত্ব কতটা গভীর এবং ইবাদত যথাসময়ে আদায়ের জন্য মুসলিম মনীষীরা কত উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছিলেন, এটা দেখে কিছুটা অনুমান করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সূর্যঘড়ি শুধু সময় গণনার একটি যন্ত্র নয়; বরং এটি ইসলামী জ্যোতির্বিজ্ঞানের উৎকর্ষের একটি উজ্জ্বল দলিলও বটে। মুসলিম বিজ্ঞানীরা সূর্যের অবস্থান, ছায়ার দৈর্ঘ্য এবং পৃথিবীর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যা দীর্ঘদিন ধরে নামাজের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজকের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুগেও মসজিদে নববীর এই সূর্যঘড়ি ইসলামী সভ্যতার বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রার এক অনন্য স্মারক হিসেবে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

শরিয়তে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার সাত কারণ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
শরিয়তে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার সাত কারণ
সংগৃহীত ছবি

জুয়া কোরআন ও হাদিসে ‘কিমার/মাইসির’ নামে পরিচিত। ইসলামের দৃষ্টিতে জুয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলামিক স্কলাররা জুয়ার সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে—দুই পক্ষের এমন প্রতিযোগিতা বা লেনদেন, যেখানে প্রত্যেক পক্ষই লাভ বা ক্ষতির অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে এবং প্রবল ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ জুয়াড়ি জানে না সে লাভ করবে, নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হবে; এই অনিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনই জুয়ার মূল বৈশিষ্ট্য। সুতরাং জুয়া তার সব ধরনের রূপ নিয়ে হারাম।

অনলাইন, অফলাইন, আধুনিক কিংবা প্রাচীন সব ধরনের জুয়া হারাম। কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই এটিকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা বিধান করেন এবং তাঁর বিধানই চূড়ান্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর—এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়। সুতরাং, তোমরা কি এখনো বিরত হবে না?’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯০-৯১)

জুয়া হারাম হওয়ার হিকমত ও কারণসমূহ
বিবেকবান মানুষ সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন যে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে বহু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. পরিবার ও সম্পদের ধ্বংস ডেকে আনে : জুয়া সুখী পরিবারকে ধ্বংস করে, মানুষের সম্পদ অবৈধ পথে নষ্ট করে, ধনী পরিবারকে নিঃস্ব করে এবং সম্মানিত মানুষকে অপমান ও লাঞ্ছনার মুখে ফেলে।

২. শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে : জুয়ার মাধ্যমে মানুষ অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে। এর ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেয়।

৩. আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখে : জুয়া মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাকে নিকৃষ্ট চরিত্র ও জঘন্য অভ্যাসের দিকে ঠেলে দেয়।

৪. সময় ও শ্রমের অপচয় ঘটায় : জুয়া এমন একটি পাপপূর্ণ বিনোদন, যা মানুষের মূল্যবান সময় ও শক্তিকে গ্রাস করে। এটি অলসতা ও কর্মবিমুখতা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও জাতিকে উৎপাদনশীল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৫. অপরাধের দিকে ধাবিত করে : যে ব্যক্তি জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে যায়, সে অর্থের জন্য যেকোনো পথ অবলম্বন করতে পারে—যেমন চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, আত্মসাৎ ইত্যাদি।

৬. মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করে : জুয়া উদ্বেগ, মানসিক চাপ, স্নায়বিক দুর্বলতা ও নানা রোগের কারণ হয়। এটি মানুষের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ, আত্মহত্যা, উন্মাদনা বা কঠিন রোগের দিকেও ঠেলে দেয়।

৭. জুয়া অন্য পাপের দরজা খুলে দেয় : জুয়ার আসরে প্রায়ই মদ, মাদক, ধূমপান, অশ্লীলতা, প্রতারণা ও অসৎ সঙ্গের প্রচলন থাকে। সেখানে খেলোয়াড়রা পরস্পরের বন্ধু নয়; বরং একে অপরের ক্ষতির অপেক্ষায় থাকে। প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও অন্যায় কৌশল সেখানে সাধারণ বিষয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়—কেউ অর্থ হারায়, কেউ চরিত্র, কেউ সম্মান, কেউ বা পরিবার। রাত শেষে তারা হতাশা, লজ্জা ও অনুশোচনা নিয়ে ফিরে আসে। বিজয়ীও প্রকৃত অর্থে লাভবান হয় না; কারণ নানা ব্যয় ও পাপের মাধ্যমে তার লাভও প্রায় শেষ হয়ে যায়। আর পরাজিত ব্যক্তি হারায় তার সম্পদ, মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান। এভাবে জুয়া শুধু অর্থের ক্ষতি করে না; বরং এটি মদ, ধূমপান, অসৎ সঙ্গ, প্রতারণা, অন্ধকার পরিবেশ, বিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র, আত্মসাৎ এবং নানা ধরনের অনৈতিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এ ছাড়া জুয়া মানুষকে অর্থহীন কাজে ব্যস্ত রাখে। এতে সালাতের সময় নষ্ট হয়, ইবাদতের প্রতি উদাসীনতা আসে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষ দূরে সরে যায়। জুয়াড়ি ব্যক্তি জিতুক বা হারুক—তার মন সর্বদা জুয়াকেই ঘিরে থাকে। হারলে দুশ্চিন্তায় থাকে, আর জিতলে আরো বেশি জেতার লোভে বিভোর হয়ে পড়ে। ফলে সে আল্লাহমুখী হতে পারে না।

জুয়া এমন উপার্জনের পথ, যা সমাজের কোনো উপকার করে না। ইসলামের শিক্ষা হলো মানুষের উপার্জন এমন কাজের মাধ্যমে হওয়া উচিত, যা নিজের পাশাপাশি সমাজ ও অর্থনীতিরও কল্যাণ সাধন করে। কিন্তু জুয়া মানুষের কর্মস্পৃহা ধ্বংস করে দেয়। ফলে সে কোনো সম্মানজনক পেশা বা উৎপাদনশীল কাজে আগ্রহী থাকে না। আল্লাহ সবাইকে হারাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।