• ই-পেপার

মসজিদে নববীর প্রাচীনতম ঐতিহাসিক ‘সূর্যঘড়ি’

জীবনের পাঁচ অশুভ পরিণাম থেকে বাঁচার দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জীবনের পাঁচ অশুভ পরিণাম থেকে বাঁচার দোয়া
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে কিছু অশুভ গুণ ও পরিণতি এমন আছে, যা দুনিয়ার শান্তি নষ্ট করে এবং আখিরাতের সফলতাকেও বিপন্ন করে তোলে। তাই মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শুধু ইবাদত-বন্দেগির শিক্ষা দেননি; বরং এমন সব দোয়াও শিখিয়েছেন, যা মানুষের ঈমান, চরিত্র ও পরকালকে নিরাপদ রাখে। তিনি আল্লাহর কাছে পাঁচটি ভয়াবহ বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন—কৃপণতা, কাপুরুষতা, এমন বার্ধক্য যেখানে মানুষ অসহায় ও অক্ষম হয়ে পড়ে, দুনিয়ার বিভ্রান্তিকর ফিতনা এবং কবরের শাস্তি। এই পাঁচটি বিষয় মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক আচরণ ও আখিরাত—সব ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলে। তাই এই পাঁচটি ভয়াবহ পরিণাম থেকে বাঁচার দোয়া হলো-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আউজু বিকা আন আরদ্দা ইলা আরজালিল উমুরি, ওয়া আউজু বিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া, ওয়া আউজু বিকা মিন আজাবিল কবরি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা থেকে, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি অসহায় ও অতিশয় বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি পৃথিবীর ফিতনা থেকে এবং আশ্রয় কামনা করছি কবরের শাস্তি থেকে।

হাদিস : বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের এই পাঁচটি বিষয় থেকে নিয়মিত আশ্রয় চাইতে শিখিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৩৭০)

শরিয়তে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার সাত কারণ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
শরিয়তে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার সাত কারণ
সংগৃহীত ছবি

জুয়া কোরআন ও হাদিসে ‘কিমার/মাইসির’ নামে পরিচিত। ইসলামের দৃষ্টিতে জুয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইসলামিক স্কলাররা জুয়ার সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে—দুই পক্ষের এমন প্রতিযোগিতা বা লেনদেন, যেখানে প্রত্যেক পক্ষই লাভ বা ক্ষতির অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে এবং প্রবল ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ জুয়াড়ি জানে না সে লাভ করবে, নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হবে; এই অনিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনই জুয়ার মূল বৈশিষ্ট্য। সুতরাং জুয়া তার সব ধরনের রূপ নিয়ে হারাম।

অনলাইন, অফলাইন, আধুনিক কিংবা প্রাচীন সব ধরনের জুয়া হারাম। কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই এটিকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা বিধান করেন এবং তাঁর বিধানই চূড়ান্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর—এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়। সুতরাং, তোমরা কি এখনো বিরত হবে না?’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯০-৯১)

জুয়া হারাম হওয়ার হিকমত ও কারণসমূহ
বিবেকবান মানুষ সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন যে জুয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে বহু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. পরিবার ও সম্পদের ধ্বংস ডেকে আনে : জুয়া সুখী পরিবারকে ধ্বংস করে, মানুষের সম্পদ অবৈধ পথে নষ্ট করে, ধনী পরিবারকে নিঃস্ব করে এবং সম্মানিত মানুষকে অপমান ও লাঞ্ছনার মুখে ফেলে।

২. শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে : জুয়ার মাধ্যমে মানুষ অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে। এর ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেয়।

৩. আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখে : জুয়া মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাকে নিকৃষ্ট চরিত্র ও জঘন্য অভ্যাসের দিকে ঠেলে দেয়।

৪. সময় ও শ্রমের অপচয় ঘটায় : জুয়া এমন একটি পাপপূর্ণ বিনোদন, যা মানুষের মূল্যবান সময় ও শক্তিকে গ্রাস করে। এটি অলসতা ও কর্মবিমুখতা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও জাতিকে উৎপাদনশীল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৫. অপরাধের দিকে ধাবিত করে : যে ব্যক্তি জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে যায়, সে অর্থের জন্য যেকোনো পথ অবলম্বন করতে পারে—যেমন চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, আত্মসাৎ ইত্যাদি।

৬. মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করে : জুয়া উদ্বেগ, মানসিক চাপ, স্নায়বিক দুর্বলতা ও নানা রোগের কারণ হয়। এটি মানুষের মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ, আত্মহত্যা, উন্মাদনা বা কঠিন রোগের দিকেও ঠেলে দেয়।

৭. জুয়া অন্য পাপের দরজা খুলে দেয় : জুয়ার আসরে প্রায়ই মদ, মাদক, ধূমপান, অশ্লীলতা, প্রতারণা ও অসৎ সঙ্গের প্রচলন থাকে। সেখানে খেলোয়াড়রা পরস্পরের বন্ধু নয়; বরং একে অপরের ক্ষতির অপেক্ষায় থাকে। প্রতারণা, ষড়যন্ত্র ও অন্যায় কৌশল সেখানে সাধারণ বিষয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়—কেউ অর্থ হারায়, কেউ চরিত্র, কেউ সম্মান, কেউ বা পরিবার। রাত শেষে তারা হতাশা, লজ্জা ও অনুশোচনা নিয়ে ফিরে আসে। বিজয়ীও প্রকৃত অর্থে লাভবান হয় না; কারণ নানা ব্যয় ও পাপের মাধ্যমে তার লাভও প্রায় শেষ হয়ে যায়। আর পরাজিত ব্যক্তি হারায় তার সম্পদ, মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান। এভাবে জুয়া শুধু অর্থের ক্ষতি করে না; বরং এটি মদ, ধূমপান, অসৎ সঙ্গ, প্রতারণা, অন্ধকার পরিবেশ, বিদ্বেষ, ষড়যন্ত্র, আত্মসাৎ এবং নানা ধরনের অনৈতিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এ ছাড়া জুয়া মানুষকে অর্থহীন কাজে ব্যস্ত রাখে। এতে সালাতের সময় নষ্ট হয়, ইবাদতের প্রতি উদাসীনতা আসে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে মানুষ দূরে সরে যায়। জুয়াড়ি ব্যক্তি জিতুক বা হারুক—তার মন সর্বদা জুয়াকেই ঘিরে থাকে। হারলে দুশ্চিন্তায় থাকে, আর জিতলে আরো বেশি জেতার লোভে বিভোর হয়ে পড়ে। ফলে সে আল্লাহমুখী হতে পারে না।

জুয়া এমন উপার্জনের পথ, যা সমাজের কোনো উপকার করে না। ইসলামের শিক্ষা হলো মানুষের উপার্জন এমন কাজের মাধ্যমে হওয়া উচিত, যা নিজের পাশাপাশি সমাজ ও অর্থনীতিরও কল্যাণ সাধন করে। কিন্তু জুয়া মানুষের কর্মস্পৃহা ধ্বংস করে দেয়। ফলে সে কোনো সম্মানজনক পেশা বা উৎপাদনশীল কাজে আগ্রহী থাকে না। আল্লাহ সবাইকে হারাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

এবার তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনায় বিশেষ সতর্কতা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
এবার তীব্র গরমে মক্কা ও মদিনায় বিশেষ সতর্কতা
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের কিছু অংশে দিনের বেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, আল-কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং নাজরানের কিছু এলাকায় ধুলা ও বালুবাহী প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাজান, আসির ও আল-বাহা অঞ্চলের কিছু অংশ এবং মক্কার দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় বাতাসের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অন্যতম উপায় হলো ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করা। ফেরেশতারা হলেন আল্লাহর নুর থেকে সৃষ্ট এমন সম্মানিত বান্দা, যারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকেন এবং তাঁর নির্দেশের বাইরে কোনো কাজ করেন না। তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, রহমতের দোয়া করেন এবং নেক আমলের সাক্ষী হন। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন বহু আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো করলে ফেরেশতারা বান্দার জন্য দোয়া করেন। 

ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অপরিসীম দয়াশীল। তিনি এমন কিছু নেক আমলের ব্যবস্থা রেখেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করেন। এসব আমল কেবল আখিরাতের পুঁজি নয়; বরং দুনিয়ার জীবনেও প্রশান্তি, বরকত ও কল্যাণের উৎস।

১. ঈমান ও তওবার ওপর অবিচল থাকা
মুমিনদের জন্য ফেরেশতাদের দোয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ঈমান ও আন্তরিক তওবা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে, তাঁর ওপর ঈমান আনে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। অতএব যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আন্তরিক তওবাকারী ও আল্লাহর পথে অবিচল বান্দাদের জন্য ফেরেশতারা নিয়মিত দোয়া করেন।

২. নামাজের অপেক্ষায় অজু অবস্থায় বসে থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার নামাজের স্থানে বসে থাকে এবং তার অজু নষ্ট না হয়, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন—‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪৫)
এ কারণে ফরজ নামাজের আগে-পরে কিছু সময় মসজিদে বসে জিকির-আজকার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

৩. প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা প্রথম কাতারের মুসল্লিদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯৯৭)
তাই প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর আগ্রহ মুমিনের ঈমান ও আল্লাহপ্রেমের পরিচায়ক।

৪. অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যাওয়া
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯)
তাই অসুস্থকে দেখতে যাওয়া শুধু মানবিক কর্তব্য নয়; এটি ফেরেশতাদের দোয়া লাভেরও একটি মাধ্যম।

৫. মুসলিম ভাইয়ের জন্য অগোচরে দোয়া করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, তখন একজন নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৩২)
এজন্য অন্যের কল্যাণ কামনা করলে নিজের জন্যও একই কল্যাণের দোয়া লাভ হয়।

৬. রোজাদারকে ইফতার করানো
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)
অন্য হাদিসে এসেছে, রোজাদারের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। তাই ইফতার করানোও রহমত লাভের উত্তম মাধ্যম।

৭. ইলম শিক্ষা ও শিক্ষা দানে নিয়োজিত থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতারা তাদের ডানা বিছিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৪১)
তাই ইসলামের জ্ঞান অর্জন ও প্রচার করা ফেরেশতাদের সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম পথ।

৮. মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে দান করে তাকে আরো দান করুন।’ অন্যজন বলেন, ‘যে কৃপণতা করে তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৪২)
এ হাদিস দানশীলতার মর্যাদা ও ফেরেশতাদের দোয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।

৯. মহানবী (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)
তাই দরুদ পাঠ মুমিনের জন্য ফেরেশতাদের দোয়া লাভের অন্যতম বিশেষ উপায়। 

১০. সর্বদা পবিত্র ও অজু অবস্থায় থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজুসহ) রাত কাটায়, একজন ফেরেশতা তার সঙ্গে রাত যাপন করেন। সে যখন জাগে, ফেরেশতা বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (ইবনে হিব্বান, আল-মুজামুল কাবির)

সুতরাং ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করা কোনো অলৌকিক বিষয় নয়; বরং এটি নেক আমলের স্বাভাবিক প্রতিদান। আর ফেরেশতাদের দোয়া এমন এক অমূল্য নেয়ামত, যা একজন মুমিনের জীবনকে আলোকিত করে এবং আখিরাতের সফলতার পথ সুগম করে। পৃথিবীর কোনো মানুষের দোয়ার চেয়েও ফেরেশতাদের দোয়া অধিক পবিত্র ও বরকতময়, কারণ তারা নিষ্পাপ এবং সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন, যাতে আমরা দুনিয়ায় তাঁর রহমত এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। আমিন।