দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে তার বিরুদ্ধে এই রায় দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি বলেন, ‘সব আপিল খারিজ করা হলো। পূর্ববর্তী আদালতের রায়ের কোনো আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি হয়নি।’
এক প্রতিবেদনে ডয়েচে ভেলে বলছে, রায়ের পর ইউন সুকের আইনজীবীরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ছাড়াই সুপ্রিম কোর্ট এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
ইউনের এক আইনজীবী বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক অভিযোগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই রায়ের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করব।’
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি নিম্ন আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিজের গ্রেপ্তার ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার অভিযোগে ইউন সুককে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে আপিল আদালত সেই সাজা বাড়িয়ে ৭ বছর করেন।
এদিকে বিতর্কিত সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার পৃথক মামলায় তিনি ইতিমধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
ইওন সুকের দাবি, সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত বলেছেন, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার ফলে বিপুল সামাজিক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে আরেক মামলায় তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব ছাড়াও ইউনের বিরুদ্ধে আরো ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিরোধী দল সরকারের কার্যক্রম ব্যাহত করছে—এ অভিযোগ তুলে সাময়িকভাবে সামরিক আইন জারি করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। তবে পার্লামেন্ট সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন।






