লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হাজিরহাট হামেদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠান করে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। পরে ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম আক্তার হোসেন মিলন। তিনি কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাদরাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন মিলনের জামায়াতে যোগদানের অনুষ্ঠান চলছিল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের, সাবেক আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির, মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুনাত আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোসেনসহ জামায়াতে বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দলীয় সদস্য ফরম পূরণ করে আওয়ামী লীগ নেতা মিলন জামায়াত ইসলামীতে যোগদান শেষে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন।
আরো পড়ুন
পর্যটক ও হাউসবোট মালিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
জামায়াতে সদ্য যোগ দেওয়া আক্তার হোসেন মিলন এক সময় আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে মেজর আবদুল (অব.) মান্নানের বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন। ২০১৬ সালে বিকল্পধারা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। বেশ কয়েক বছর ওই পদে দায়িত্বপালন করে ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নের জন্য লড়াইয়ের পাশাপাশি দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তবে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি তিনি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আক্তার হোসেন মিলন বলেন, আমি যখন আওয়ামী লীগে ছিলাম, তখন তারা আমাকে জামায়াত ট্যাগ দিয়ে মাঠে দাঁড়াতে দেয়নি। তাই এখন আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথা নিজ কার্যালয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাজিরহাট হামেদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন জানান, তার কক্ষে একটি দোয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে আক্তার হোসেন মিলন সেখানে উপস্থিত হয়ে জামায়াতে যোগদান করেন।
তবে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং অনুষ্ঠানটি তিনি নিজে সঞ্চালনা করার প্রমাণ রয়েছে—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
কমলনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আক্তার হোসেন মিলন উপস্থিত হয়ে জামায়াতে যোগদান করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা মাদরাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনা করার বিধান নেই। এমনটি করে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান জানান, তিনি ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন। মাদরাসার অফিস কক্ষে যে কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সরকারি আইনের পরিপন্থী। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন।