• ই-পেপার

গ্রীষ্মকালীন মহড়া : সেনাবাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক বার্তা

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইস্যু জামায়াতের ঘাড়ে এখনো বোঝা হয়েই আছে

সাবির মুস্তাফা
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইস্যু জামায়াতের ঘাড়ে এখনো বোঝা হয়েই আছে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের ভেতরে এবং বাইরে বিএনপির মহসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শোনা গেল।

‘আপনারা ১৯৭১-এ আপনাদের ভূমিকা নিয়ে একবারও ক্ষমা চাননি’ মির্জা ফখরুল ২৮ জুন সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় জামায়াতকে লক্ষ্য করে বলেন। ‘যদি করতেন, তাহলে আজকের অনেক সমস্যা থাকত না। তা না করে, আপনাদের নেতা গোলাম আযম ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তারা ১৯৭১ সালে কোনো ভুল করেনি।’  

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রটারি জেনারের মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের’ বিরোধিতা করেছিলেন মাত্র। ‘আমরা অপরাধ করি নাই, ক্ষমা চাইব কেন?’

তিনি বলেন, সেই পাকিস্তান আমলে সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক রাজনৈতিক দল ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য কী ভূমিকা পালন করেছিল, সেই দলের সে সময়কার নেতারা তার ব্যাখ্যা, তার বক্তব্য জাতির সামনে তারাই তখন দিয়েছিল।

একসঙ্গে আন্দোলন আর জোটগতভাবে নির্বাচন করা— এই দুই দলের শীর্ষ নেতাদের কথা শুনে বহু বছর আগের এক ঘটনা মনে পড়ে গেল, যার মূল বিষয় ছিল একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা এবং বর্তমানে তাদের করণীয় নিয়ে।

সময়টা ছিল ২০০৯ সাল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার কয়েক সপ্তাহ পর। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় ১৯৭১-এ সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার করে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিক থেকেই বিভিন্ন শহীদ পরিবার এবং মূলত বামপন্থী দলগুলোর দিক থেকে তোলা হচ্ছিল। আওয়ামী লীগ এই দাবির প্রতি নৈতিক সমর্থন দিলেও, প্রকৃতপক্ষে তার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের বিষয় প্রাধান্য পায়নি।

কিন্তু ঘটনা পালটে যায় ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময়। ধারণা করা যেতে পারে, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অভিজ্ঞতা আওয়ামী লীগের চিন্তা-ভাবনায় আমূল পরিবর্তন এনে দেয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়।

আব্দুর রাজ্জাকের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহ পর, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ভালো যোগাযোগ রাখতেন—আমার সঙ্গে আলাপ করতে চাইলেন। বিষয়টি ছিল জামায়াতের ভাবমূর্তি, দলের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি।

বিষয়টি নিয়ে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে মতামত নিচ্ছিলেন, কারণ তিনি আশঙ্কা করছিলেন— মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধ ঘিরে জামায়াত নেতাদের বিচারের কাজ এবার আসলেই শুরু হবে। তবে আলোচনা বিচার নিয়ে ছিল না। আব্দুর রাজ্জাকের মূল চিন্তা ছিল জামায়াতের ভাবমূর্তি নিয়ে।

আমি মতামত দিলাম যে জামায়তের ভাবমূর্তির সমস্যা আছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত সমাজে দলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। জামায়াতকে কোনো ‘স্বাভাবিক’ দল হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ তার ঘাড়ে একটা বিশাল বোঝা আছে। আর সেই বোঝা হচ্ছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে দলের ভূমিকা। 

তিনি জানতে চাইলেন, জামায়াত কী পদক্ষেপ নিলে তারা একটি ‘স্বাভাবিক’ দল হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আমি তাকে দুটি পদক্ষেপের কথা বললাম। প্রথমত, জামায়াতকে স্বীকার করতে হবে ১৯৭১-এ তারা ভুল করেছে এবং সেই ভুলের জন্য জাতির কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, জামায়াতের যেসব নেতা ১৯৭১ সালে দলে সক্রিয় ছিলেন, তাদের দল থেকে বাদ দিতে হবে, তাদের রাজনীতি থেকে অবসর নিতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক বললেন, ‘দুইটার একটা করলে হয় না?’ আমি বললাম না, আপনাদের ঘাড়ে একাত্তরের বোঝা, এই দুই পদক্ষেপ না নিলে বোঝা নামবে না, আপনাদেরও ‘স্বাভাবিক’ দল হিসেবে দেখা হবে না।

গত কয়েক দিনে মির্জা ফখরুল আর গোলাম পরওয়ারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে—আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সেই আলোচনার প্রায় ১৮ বছর পরও জামায়াত ১৯৭১ নিয়ে তাদের ‘কীসের ভুল, কীসের ক্ষমা’ নীতিতেই অনড় রয়েছে।

এই ১৮ বছরে দেশ-দুনিয়া পাল্টে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, জামায়াতের পাঁচ জন শীর্ষ নেতার ফাঁসি পর্যন্ত হয়েছে। গোলাম আযম আর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। 

জামায়াতের আত্মবিশ্বাস

অপরদিকে জামায়াত নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সফল অভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চড়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে ৬৮টি আসন দখল করে জাতীয় সংসদে প্রধান ‘বিরোধী দল’-এর মর্যাদা পেয়েছে।

কিন্তু গত কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি কথায় প্রমাণ হলো, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতের মনোভাব ১৯৭১ সালে যা ছিল, আজও তাই আছে। কোনো অনুশোচনা নেই, অনুতাপ নেই।

গত দুই বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন জামায়াত নেতাদের সম্ভবত নিশ্চিত করেছে যে একাত্তরের ভুল স্বীকার না করে তারা সঠিক কাজ করেছেন। তারা মনে করছেন, জামায়াত যে শুধু প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে তাই নয়, তাদের জনসমর্থন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

তারা হয়তো পাঁচ পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাফল্য দেখে নিশ্চিত হয়েছে যে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় না। তারা হয়তো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে সত্যিই ভাবছেন—জামায়াত ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে।

কাজেই, এখন অযথা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করার কী দরকার? ‘কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন’ হয়ে গেছে দলের মূলমন্ত্র।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের কথায় বোঝা যায়, ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ যে ভাষায় মুক্তিযুদ্ধকে উপস্থাপন করত, জামায়াত সেই একই ভাষায় তাদের ভূমিকার পক্ষে ‘যুক্তি’ তুলে ধরছে। নিজেদের ভূমিকা ‘অনেক দলের’ আড়ালে রেখে বা তাদের সঙ্গে মিশিয়ে তিনি জামায়াতের অপরাধ লঘু করার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার ভাষণে মুক্তিযুদ্ধকে একটি ‘অর্ধশতাব্দী আগের মীমাংসিত বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে এই ইস্যুকে নিয়ে এসে জাতির মধ্যে ‘কনফিউশন’ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু ঘটনা কি আসলেই তাই?

একাত্তরের ‘মীমাংসা’

জামায়াতে ইসলামী চায় যে মানুষ বিশ্বাস করুক ১৯৭১-এ যা হয়েছে, তা ছিল ‘ভারতীয় আগ্রাসন।’ তারা চান যে মানুষ বিশ্বাস করুক— যেসব ব্যক্তি বা দল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তারা শুধুমাত্র ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ মোকাবেলা করতে এবং ‘পাকিস্তানের অখণ্ডতা’ রক্ষা করতে ইসলামাবাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। কিন্তু গলদ সেখানেই।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে তাদের এই ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে কোনো ‘মীমাংসা’ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের ইস্যু মীমাংসিত বটেই। কিন্তু পরওয়ার যেভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন,  সেভাবে নয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিদেশি শক্তির চক্রান্তে হয়নি। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের পরিকল্পিত গণহত্যা চালানোর প্রাথমিক পর্যায়ে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের অভিযান শুরু করার পর থেকেই প্রতিরোধ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অখণ্ড পাকিস্তানের কবর ২৫ মার্চ রাতেই দেওয়া হয়—পরের দিন ২৬ মার্চ জন্ম নেয় বাংলাদেশ।

এত দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে ওঠার পেছনেও কোন বিদেশি চক্রান্ত ছিল না। গোটা মার্চ মাসজুড়েই, বিশেষ করে ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর থেকেই মানুষ মানসিকভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। ‘ঘরে ঘরে দুর্গ’ গড়ে তুলে … ‘যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার’ নির্দেশ সেই ভাষণেই দেওয়া ছিল।

মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের মানুষের সত্যিকার অর্থে অস্তিত্বের লড়াই—বাঙালি হিসেবে, মানুষ হিসেবে টিকে থাকার লড়াই। সেই লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী শুধু ‘শত্রুর’ সঙ্গে হাত মেলায়নি—তারা যুদ্ধে বাঙালির বিরুদ্ধে চালিত গণহত্যায় সক্রিয় অংশ নিয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১-এ কবর থেকে ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ মরদেহ তুলে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিল। বাঙালি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাঙালি জাতীর স্বাধীন রাষ্ট্র অঙ্কুরে নস্যাৎ করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। তারা শুধু ভুল করেনি, তারা অপরাধ করেছিল। এটাই হচ্ছে ১৯৭১-এর ‘মীমাংসিত’ বয়ান।

জামায়াতের চলমান সমস্যা

জামায়াতে ইসলামীর সমস্যা হচ্ছে, তারা ১৯৭১-এ তাদের অপরাধ কখনোই স্বীকার করেনি, করার কোনো লক্ষণও নেই। তাহলে অনুশোচনা আসবে কোথা থেকে? ক্ষমাই বা চাইবে কেন? 

১৮ বছর আগে ঢাকার তৎকালীন শেরাটন হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যে অপরাধের ‘বোঝা’ নিয়ে কথা হয়েছিল, সেই বোঝা জামায়াত এখনো বয়ে নিতেই ইচ্ছুক। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের একটি রাজনৈতিক মূল্য তাদের প্রতিদিন, প্রতি মাসে, প্রতি বছর দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল যে কথা সংসদে বলেছেন, সেটা জামায়াত সস্তা খোঁচানি হিসেবে দেখতে পারে, সংবাদ সম্মেলনে গরম কথা বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু সেটা বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করবে না। জামায়াত যে সমস্যার গর্তে ঢুকে আছে, গোলাম পরওয়ারের গরম কথা সেই গর্ত আরো গভীর করছে। 

প্রচণ্ড অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে, আওয়ামী লীগ-বিহীন নির্বাচনে ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত যদি মনে করে— ১৯৭১-এর স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে গেছে, কোনো ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়াই তারা একটি ‘স্বাভাবিক’ দলে পরিণত হয়েছে, তাহলে সেটা হবে ১৯৭১-এর পর তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

লেখক : সাংবাদিক এবং পডকাস্টার
ইমেইল : [email protected]
পডকাস্ট : https://tinyurl.com/54r5kvak

রাষ্ট্রের বিনিয়োগ যথাযথ হচ্ছে কী?

ড. এম. মেসবাহউদ্দিন সরকার

অনলাইন ডেস্ক
রাষ্ট্রের বিনিয়োগ যথাযথ হচ্ছে কী?

সম্প্রতি ৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর আবারও একটি পুরনো প্রশ্ন সামনে এসেছে, কেন বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী প্রশাসন ক্যাডার প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন? চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠিন প্রতিযোগিতা এবং রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগের পরও তাদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ পেশায় না গিয়ে প্রশাসনে যোগ দিচ্ছেন।

বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের নয়, এটি মানবসম্পদ পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রীও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, যেসব শিক্ষার্থীর জন্য রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসক ও প্রকৌশলী তৈরি করছে, তাদের বড় অংশ যদি অন্য পেশায় চলে যায়, তাহলে সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল কতটা অর্জিত হচ্ছে, সেটি নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বাস্তবতা হলো, একজন সরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্রকে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। উন্নত ল্যাবরেটরি, হাসপাতাল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, গবেষণাসুবিধা, দক্ষ শিক্ষক এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ দিতে হয়। এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের জন্য দক্ষ চিকিৎসক ও প্রকৌশলী তৈরি করা, যারা স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণায় অবদান রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারের চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, তুলনামূলক দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার আকর্ষণ এবং কর্মপরিবেশের কারণে অনেক মেধাবী চিকিৎসক ও প্রকৌশলী প্রশাসনে চলে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল খাতে অনেক সময় জনবল সংকট, কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা, গবেষণার স্বল্প সুযোগ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার বাধ্যবাধকতা এবং পেশাগত নানা চ্যালেঞ্জও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে এটি একটি যৌক্তিক ক্যারিয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সামষ্টিকভাবে রাষ্ট্রের জন্য এটি দক্ষ মানবসম্পদের অপ্টিমাল ব্যবহারের প্রশ্ন উত্থাপন করে।

বিগত কয়েক বছরের বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে (যেমন  ৪০তম থেকে ৪৩তম বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া মোট কর্মকর্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩০-৩২%) ছিলেন চিকিৎসক এবং প্রকৌশলী। যেমন ৪৩তম বিসিএসে শুধু প্রশাসন ক্যাডারে ১৮৩ জন প্রকৌশলী এবং ২৫ জন চিকিৎসক সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

এর আগের ৪০তম বিসিএসে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র, এই তিন সাধারণ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া মোট ৩৪২ জনের মধ্যে ১০২ জনই ছিলেন চিকিৎসক ও প্রকৌশলী। তবে বিষয়টিকে একপক্ষীয়ভাবে দেখা উচিত নয়। সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজের পছন্দমতো পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। একজন চিকিৎসক বা প্রকৌশলী প্রশাসনে গিয়েও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

স্বাস্থ্যনীতি, অবকাঠামো পরিকল্পনা, দুর্যোগব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রূপান্তর, জনস্বাস্থ্য কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো ক্ষেত্রে তাদের বিশেষায়িত জ্ঞান প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে আরো কার্যকর করতে পারে। তাই তাদের প্রশাসনে প্রবেশকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক বলা যায় না। তবে প্রশ্ন হলো—সংখ্যাটি কতটা হওয়া উচিত। যদি অধিকাংশ মেধাবী চিকিৎসক ও প্রকৌশলী নিজ নিজ পেশা ছেড়ে প্রশাসনে চলে যান, তাহলে হাসপাতাল, গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ জনবলসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে; চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়, গবেষণার গতি কমে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতার ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থাৎ রাষ্ট্র যে উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করেছিল, সেই উদ্দেশ্য পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হয় না।

উদ্বেগের বিষয় যে, এই প্রতিযোগিতায় সফল হতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতির প্রবণতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে লাইব্রেরিতে একটি আসন দখল করাকে কেন্দ্র করেও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার গাইডবই, নোট কিংবা প্রশ্নব্যাংক পড়ায়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিগুলোতে নিজ নিজ বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য মূল্যবান বই, গবেষণা জার্নাল ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনা রয়েছে, যা গভীর জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্য অপরিহার্য।

এসব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ অনেক ক্ষেত্রে চাকরিমুখী প্রস্তুতির কাছে আড়াল হয়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণা সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে প্রশাসন ক্যাডারের সুযোগসুবিধা দেশের অধিকাংশ সরকারি পেশার তুলনায় বেশি। সরকারি বাসভবন, গাড়ি, চালক, সুসজ্জিত অফিস, সহায়ক কর্মচারী, দেশবিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরাসরি ভূমিকা, এসব কারণে প্রশাসন ক্যাডার চিকিৎসক এবং প্রকৌশলীদের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ফলে অনেক মেধাবী চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষার্থীরাও প্রথম পছন্দ হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার নির্বাচন করেন।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ জরুরি। প্রথমত চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের নিজ নিজ পেশায় আকৃষ্ট করার জন্য বেতন, পদোন্নতি, গবেষণা অনুদান, আধুনিক কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত মর্যাদা আরো বৃদ্ধি করা দরকার। দ্বিতীয়ত সরকারি অর্থায়নে উচ্চব্যয়ের পেশাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে মানবসম্পদ পরিকল্পনা আরো বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত, যাতে দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি ও ধরে রাখা যায়।

তৃতীয়ত প্রশাসনে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হলে সাধারণ প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে স্বাস্থ্য প্রশাসন, প্রকৌশল প্রশাসন বা প্রযুক্তিনির্ভর নীতিনির্ধারণী পদ আরো সম্প্রসারণ করা যেতে পারে, যেখানে তাদের বিশেষায়িত দক্ষতা সরাসরি কাজে লাগবে। পাশাপাশি দক্ষতা, মেধা ও জনস্বার্থের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

রাষ্ট্রের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল তখনই নিশ্চিত হবে, যখন একজন চিকিৎসক সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দেবেন, একজন প্রকৌশলী দেশের অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এবং যারা প্রশাসনে যাবেন, তারা তাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দিয়ে নীতিনির্ধারণকে আরো কার্যকর করবেন। তাই এটি কোনো ব্যক্তি বা পেশার সমালোচনার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের মানবসম্পদ পরিকল্পনা, শিক্ষায় বিনিয়োগের কার্যকারিতা এবং জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার বিষয়।

লেখক : অধ্যাপক ও আইটি গবেষক, আইআইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে রঙের প্রভাব : শুধু সৌন্দর্য নয়, কৌশলেরও ভাষা

মো. সাজ্জাদুল ইসলাম
ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে রঙের প্রভাব : শুধু সৌন্দর্য নয়, কৌশলেরও ভাষা
সংগৃহীত ছবি

রং মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও সিদ্ধান্তকে নীরবে প্রভাবিত করে। তাই বিপণন ও ব্র্যান্ড পরিচয় নির্মাণে রংের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই মনে করে, নীল বিশ্বাসের প্রতীক, লাল আবেগের, আর সবুজ স্বাস্থ্য ও প্রকৃতির প্রতীক। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতীকচিহ্ন, মোড়ক বা বিজ্ঞাপনের রং নির্ধারণ করে এবং মনে করে একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কৌশলের চেয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণের প্রকাশ।

রংের মনস্তত্ত্ব যে বাস্তব, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। দীর্ঘদিনের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রং মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে, আবেগকে স্পর্শ করে এবং স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। কিন্তু একটি রংের অর্থ কখনোই সর্বজনীন নয়। একই রং ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন সমাজ এবং ভিন্ন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মানুষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট রংকে নির্দিষ্ট একটি অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ধরে নেওয়া সব সময় সঠিক নয়।

একটি ব্র্যান্ড কখনো একা অবস্থান করে না। বাজারে একই ধরনের অসংখ্য পণ্য পাশাপাশি থাকে। সুপারশপের একটি তাকেই দেখা যায়, একাধিক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান একই ধরনের নীল বা সবুজ রং ব্যবহার করছে। আবার স্মার্টফোনের পর্দায় অসংখ্য অ্যাপের প্রতীকচিহ্নের ভিড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে কেবল একটি নির্দিষ্ট রং ব্যবহার করলেই যে একটি প্রতিষ্ঠান মানুষের মনে আলাদা পরিচয় তৈরি করতে পারবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের স্মৃতি। প্রত্যেক মানুষের শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং জীবনের অভিজ্ঞতা রংের প্রতি তার অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। কোনো একটি রং একজনের কাছে নিরাপত্তার প্রতীক হতে পারে, আবার অন্যজনের কাছে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কেবল একটি সাধারণ তালিকা বা চিত্র দেখে রংের অর্থ নির্ধারণ করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্বখ্যাত অনেক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ এই সত্যকে স্পষ্ট করে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, ট্রপিকানা, অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট এবং জন ডিয়ার সব প্রতিষ্ঠানই সবুজ রং ব্যবহার করে। কিন্তু তারা সবাই মানুষের মনে একই পরিচয় তৈরি করতে পারেনি। কেউ পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে, কেউ কৃষি প্রযুক্তির প্রতীক হয়েছে, আবার কেউ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে। অর্থাৎ রং নয়; বরং দীর্ঘদিনের কার্যক্রম, গ্রাহকের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধই তাদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।

একইভাবে বিলাসপণ্যের দুই সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান শ্যানেল ও বুলগারি উভয়েই কালো রং ব্যবহার করে। তবু শ্যানেলের কালো অভিজাত ফরাসি রুচির প্রতীক, আর বুলগারির কালো ইতালীয় ঐতিহ্য ও রাজকীয় গাম্ভীর্যের অনুভূতি জাগায়। একই রং হলেও মানুষের মনে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে। কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় কেবল রংের ওপর নির্ভর করে না; তার ইতিহাস, দর্শন, মান এবং গ্রাহকের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কই সেই পরিচয়কে অর্থবহ করে তোলে।

আধুনিক বিপণনে তাই রংকে কখনো বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের ভাষা, গ্রাহকসেবা, পণ্যের মান, বিজ্ঞাপনের ধরন, মোড়কের নকশা, এমনকি পণ্য হাতে নিলে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয় সব কিছু মিলেই গড়ে ওঠে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড পরিচয়। একটি দোকানে প্রবেশ করলে যে পরিবেশ, যে আচরণ, যে সঙ্গীত বা যে সুগন্ধ একজন ক্রেতা অনুভব করেন, সেগুলোও সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের অংশ। রং তখনই কার্যকর হয়, যখন তা এই সামগ্রিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের পরিচিত রং পরিবর্তন করলে মানুষের কাছে সেটিকে চেনার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কিন্তু একটি অপরিচিত বা দুর্বল প্রতিষ্ঠানে নতুন রং যোগ করলেই তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে না। অর্থাৎ রং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান পরিচয়কে শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু শূন্য থেকে পরিচয় তৈরি করতে পারে না।

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অনেক নতুন উদ্যোক্তা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের রং অনুসরণ করেই নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলতে চান। কিন্তু কেবল রং অনুকরণ করলেই সফলতা আসে না। প্রয়োজন সৎ ব্যবসায়িক মূল্যবোধ, মানসম্মত পণ্য, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং মানুষের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই ভিত্তি তৈরি না হলে রং কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা হিসেবেই থেকে যায়।

তাই একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য রং নির্বাচন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হলে মানুষ কী অনুভব করবে? তারা কি আস্থা পাবে, নাকি আনন্দ অনুভব করবে? তারা কি নিরাপত্তা, আন্তরিকতা, আধুনিকতা, নাকি মর্যাদার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়। এরপর সেই পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রং নির্বাচন করা উচিত।

রং নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যম। এটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, মনে ছাপ ফেলে এবং একটি পরিচয়কে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। কিন্তু রং কখনোই একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের একমাত্র ভিত্তি নয়। একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে ওঠে আস্থা, গুণগত মান, ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতা এবং গ্রাহকের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ওপর। রং সেই শক্তিশালী ভিত্তিকে আরো দৃশ্যমান ও স্মরণীয় করে তোলে।

অতএব, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের ক্ষেত্রে রংকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে, তবে সেটিকে একমাত্র কৌশল হিসেবে নয়। প্রথমে গড়ে তুলতে হবে মানুষের মনে বিশ্বাস ও অনুভূতির একটি শক্ত ভিত্তি। এরপর সেই পরিচয়ের উপযুক্ত রং নির্বাচন করতে হবে। কারণ, রং কোনো ব্র্যান্ডের সূচনা নয়; বরং একটি সুগঠিত পরিচয় ও সফল বিপণন কৌশলের স্বাভাবিক এবং অর্থবহ পরিণতি।

লেখক : কলামিস্ট

বিজিবির সাফল্যের নেপথ্যে সৈনিক ও টপ কমান্ডের রসায়ন

মোস্তফা কামাল
বিজিবির সাফল্যের নেপথ্যে সৈনিক ও টপ কমান্ডের রসায়ন
সংগৃহীত ছবি

সৈনিক ও নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিক কর্মতৎপরতায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর সাম্প্রতিক সাফল্যে মহলবিশেষ গাত্রদাহে ভুগছে। তাদের ভীষণ অসহ্য বাহিনীটির এই বীরত্ব। ভাবনমুনায় স্পষ্ট যে, তারা ভিন্ন বা বিপরীত কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মাঠের সৈনিকের বীরত্ব, মধ্যম পর্যায়ের নেতৃত্বের কার্যকর কমান্ড এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনার সম্মিলিত পদক্ষেপে ঘটে গেছে মহলটির আকাঙ্ক্ষার বিপরীত। এর ঝাল মেটাতে তারা নেমেছে নানা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো, গুজব রটানো এবং মতলবি ফটোকার্ড তৈরির এজেন্ডায়। 

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি যখন কঠোর অবস্থান নিয়ে সাফল্যের নজির গড়েছে, তখন কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে ভর করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে বাহিনীর মনোবল ভাঙনের মিশনে বাহিনীটির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে অপপ্রচারই করছে না, বিএসএফের হামলায় বিজিবি সদস্য আহত বা নিহত হয়েছেন—এমন তথ্য দিয়ে সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পুরনো ও অসুস্থতার ভিডিও ছড়ানোও বাদ দেয়নি। জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনের পূর্বাপরে ছড়িয়েছে অসম্পূর্ণ কিছু বিশ্লেষণ ও অনুমানভিত্তিক তথ্য। বাংলাদেশের জমি ভারতের দখলে চলে যাওয়ার মতো ভিত্তিহীন খবর ও রাষ্ট্রবিরোধী গুজবও রটিয়েছে। এসবের অন্যতম উদ্দেশ্য কর্মতৎপর বাহিনীটির অবিরাম কাজে ছেদ ফেলা। 

সাম্প্রতিক সীমান্তে বিজিবির দৃঢ়, পেশাদার এবং সফল ভূমিকা কেবল দেশে নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও প্রশংসিত। তা একদিকে বাহিনীটির জন্য গর্ব ও প্রণোদনার, অন্যদিকে মহলবিশেষের জন্য অসহ্যের। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সৈনিক ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের সাহস, দেশপ্রেম এবং কর্মতৎপরতার সাফল্যের পেছনে শক্তিশালী নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং কার্যকর চেইন অব কমান্ডকে কৌশলে আলোচনার বাইরে রাখার আরেক সূক্ষ্ম চাতুরী তো আছেই। সেই সঙ্গে রয়েছে ‘সৈনিক ও জুনিয়র কর্মকর্তারা দেশপ্রেমিক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত’ মর্মে বয়ান তৈরির তমতলবি  কুচেষ্টা। 

একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ঐক্য, মনোবল এবং চেইন অব কমান্ডকে দুর্বল করার এমন অপচেষ্টা এ যাত্রায় বেশিদূর এগোতে না পারলেও তা ভবিষ্যতে আরো সাবধান থাকার তাগিদ দেয়। কোনো বাহিনীর শক্তি তার সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা, শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নেতৃত্ব ও সৈনিককে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানো মানে সেই বাহিনীর মূল শক্তিকেই আঘাত করা। 
এ ধরনের অপচেষ্টায় মাঝেমধ্যে যোগ হয়ে পড়ছে কারো কারো অতি উৎসাহ। 

সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির ইস্পাত কঠিন অবস্থানের প্রশংসার সমান্তরালে স্থানীয়দের লাঠি-দা নিয়ে জড়ো হওয়া, ভিডিও ধারণ বা ফেসবুক লাইভ পরিস্থিতির ভিন্ন অর্থ দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এর ফের বুঝতে পেরে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা তৎপরতা নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার না করে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে। এর বিপরীতে গুজববাজরা অপেক্ষাই করে ইতিবাচক তথ্য ও ফুটেজকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটি মহলের এটি বিশেষ এজেন্ডা। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং রাজ্য থেকে কথিত ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ করার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নামে এ আবহ নতুন মাত্রা পায়। 

এরই অংশ হিসেবে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। আটক করা হয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে। পুশ ইনের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ভারতীয় অপচেষ্টা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দিচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং পুশ-ইন ইস্যু নিয়ে একাধিকবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিজিবি এবং বিএসএফের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে সত্য।

কিন্তু বড় রকমের সংঘাতের ঘটনা নেই। ভারতীয় কিছু প্রচার মাধ্যম সীমান্তে ব্যাপক সংঘাতের ফুটেজ বানাচ্ছে। ছাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঈশান বাংলা নামের ভারতীয় একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে একজন আহত বিজিবি সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে। এর পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ধুম পড়ে। ভারতীয় ফেসবুক থেকে বাংলাদেশকে ও বিজিবিকে হেয় করে ভিডিওটি রিপোস্ট চালিয়ে মোটামুটি একটা উত্তেজনা ছড়ানো হয়। 

ভিডিওতে বলা হয়, ওই বিজিবি সদস্য বিএসএফের হাতে মারধরের শিকার হয়েছে। বিজিবির শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত সময়ের মধ্যে এর রহস্য বুঝে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে, ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রতিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যু বা পুশ ইন ইস্যুর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মূলত ভিডিওটি বিজিবি সদস্য রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম চিম্বুলুই সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।

ওই বিজিবি সদস্যের নাম হাবিলদার মো. এলাহান মিয়া। বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের (৫৪ বিজিবি) সদস্য। গত ৬ জুন তিনি কান্তালং বিওপি থেকে লিংক টহলের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় চিম্বুলুই বিওপির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তার বাম হাত ও বাম পায়ে তীব্র ব্যথা এবং অবশভাব অনুভূত হয়। ঘটনার পরপরই ব্যাটালিয়নের মেডিক্যাল অফিসার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে তার মধ্যে লেফট-সাইডেড হেমিপারেসিস জনিত উপসর্গ পরিলক্ষিত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

তিলকে তাল নয়, কোনো ছুঁতা পেলেই বিজিবি সদস্যদের মনোবলে আঘাত করার এ চাল বাহিনীটির শীর্ষ কমান্ড যথাসময়ে বুঝতে পারছে। এটিও গা জ্বালার বিষয় মহল বিশেষটির কাছে। তাই বিজিবি সদস্য ও কর্মকর্তা পর্যায়ে ভুল-বোঝাবুঝি রচনার মিশনটি বেশ জোরদার। সীমান্তে বিজিবির সাহসী তৎপরতা ও দৃঢ় অবস্থানে প্রথম দাগে ক্ষতি হয় চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধী চক্রের। দ্বিতীয় দাগে অবৈধ অনুপ্রবেশরোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দাগটি হয়ে গেছে মুখ্য। 

বিজিবির এই দৃঢ়তার কারণে দেশ এবং সাধারণ জনগণ সুরক্ষিত। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অটুট থাকছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা হচ্ছে। এতে বিজিবির প্রতি সন্তুষ্টু মহল যেমন আছে, অসন্তুষ্ট মহল থাকাও স্বাভাবিক। এ চক্র বাহিনীটির মনোবল ভাঙতে চাইবে, দুর্বল করতে চাইবে, সৈনিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্যের গল্প বানাবে, বিভ্রান্তি ছড়াবে তাও স্বাভাবিক। সীমান্ত সুরক্ষার সমান্তরালে বিজিবির কাজ বহুমুখী। পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রায় ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার পাহারায় সীমিত নয় তাদের কাজ। জরুরি দরকারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা, মাদক দমনসহ নানা সামাজিক কাজেও তাদের সারথী হতে হয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের বহুমাত্রিক কার্যক্রম কখনো কখনো বেখবরেই থাকছে। গত এক বছরে সীমান্তে তাদের অভিযানে ৯২৬ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিজিবি গত ১ বছরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ১৪ হাজার ৮০৮টি মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার মানুষের কাছে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 

একটি সামরিক বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাফল্য কখনোই কেবল মাঠের সৈনিকের একক অবদানের ফল নয়, বাহিনীর হাই কমান্ডের দক্ষ পরিচালন। সৈনিকদের সাহস ও দেশপ্রেম যেমন প্রশংসার দাবিদার, তেমনি সেই সাহস ও পেশাদারিত্বকে সঠিক পথে পরিচালনে বাহিনীর নেতৃত্ব—ব্যাটালিয়ন কমান্ডার থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত—সমানভাবে কৃতিত্বের দাবিদার। সামরিক বিজ্ঞানের একটি মৌলিক সত্য হলো—যুদ্ধক্ষমতা বা কমবেট পাওয়ার। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে নেতৃত্ব। একজন সৈনিকের সাহস, দক্ষতা এবং দেশপ্রেম তখনই সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জন করে, যখন সে সঠিক নেতৃত্ব পায়, সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পায়। আর তা অবশ্যই কার্যকর কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে। 

সম্প্রতি বিজিবির সদস্যদের সীমান্তে দৃঢ়তা, সংযম এবং পেশাদারির পরতে পরতে রয়েছে মহাপরিচালক থেকে শুরু করে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যন্ত পুরো নেতৃত্ব কাঠামোর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং পেশাদার নেতৃত্ব। মাঠের সৈনিকের বীরত্ব, মধ্যম পর্যায়ের নেতৃত্বের কার্যকর কমান্ড এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনার সম্মিলিত রসায়ণে আগোয়ান বাহিনীটির চলমান দুরন্ত ধারা ও অর্জন দেশের ইতিহাসের অংশ। তা মহল বিশেষের জন্য অবশ্যই বেদনার, অসহ্যের। এ মহল যে কখনো কখনো সফল হয়েছে তাও আরেক ইতিহাস।  

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন