• ই-পেপার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংকটির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান। আগামী ৩ বছরের জন্য তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সফি উল্লাহ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২, এর আর্টিকেল ১০ (৪) অনুযায়ী মো. আনিছুর রহমানকে তার বর্তমান পদ (নির্বাহী পরিচালক) থেকে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ ও অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) স্থগিতের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে যোগদানের তারিখ থেকে আগামী ৩ বছরের জন্য এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।

জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম কমেছে
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন ডলারের মান কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে ফের নিম্নগতি দেখা গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪১ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্স

আর আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সোনার দাম কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা করে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সোনার দাম এখনও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির বিষয়ে অবস্থান বুঝতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান (প্যারোল) সংক্রান্ত তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আসায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়। ফলে গত সপ্তাহে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

জেপি মরগ্যান জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সোনার সর্বোচ্চ দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে সীমিত থাকতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬১৫ দশমিক ৯৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬১ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।

জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মে মাসের ১৪৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে জুনে ১৪৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে।

মাসওয়ারি হিসাবে জুনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা এখনো সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা এক বছর আগে একই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামের তুলনায় শহরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম ছিল। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।

তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। জুনে গ্রামীণ এলাকায় এ হার ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

এদিকে সর্বশেষ মজুরি হার সূচকেও (ওয়েজ রেট ইনডেক্স) মজুরি বৃদ্ধির গতি সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জুনে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মজুরি হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে এটি আগের বছরের জুন মাসের সমান রয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলার তথ্যের ভিত্তিতে এ সূচক প্রস্তুত করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে, কৃষি খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার মে মাসের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে জুনে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এলেও, ২০২৫ সালের জুনের ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি রয়েছে।

সেবা খাতে জুনে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান খাতেই মাসওয়ারি মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে মজুরি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে, ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে সামগ্রিক মূল্যচাপ ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
 

জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নির্ধারণ

জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোর সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্বের সুদহারই বহাল থাকবে।

সোমবার (৬ জুলাই) এসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তা দেশের সব তফসিলি (বাণিজ্যিক) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে যে সুদের হার ও শর্ত কার্যকর ছিল, আগামী জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়েও একই হার ও একই শর্ত বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এর আগে গত ২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ফলে নতুন বিনিয়োগকারী এবং যেসব গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, তারা আগের মতোই বিদ্যমান হার অনুযায়ী মুনাফা পাবেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান শর্তাবলিতেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।