• ই-পেপার

উন্নত চরিত্র গঠনের অপরিহার্য কিছু গুণাবলী

এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন
সংগৃহীত ছবি

সময় মানুষের জীবন। সময়কে কখনো অপচয় হতে বা অকাজে নষ্ট হতে দেয়ার মতো নয়। প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে তার সময়ের সদ্ব্যবহার করে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সময়কে অহেতুক কাজে বা অর্বাচীন কথায় ব্যয় করে না। বরং তিনি সময়কে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও ভালো কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। যে কাজ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং মানুষের উপকার বয়ে আনে। জীবনের প্রতিটি মিনিটে আপনি একটি করে প্রস্তর স্থাপন করতে পারেন যা আপনার মর্যাদার ভবনকে উচ্চকিত করবে এবং যা দিয়ে আপনার জাতি সৌভাগ্যমণ্ডিত হতে পারবে। 

 আপনি যদি মর্যাদার শিখরে পৌঁছাতে চান এবং আপন জাতিকে সৌভাগ্যমণ্ডিত করতে চান তবে আরাম-আয়েশকে না-বলুন এবং অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করুন।

 এক মিনিট সময়ের মাঝে অনেক ভালো কাজ করা যেতে পারে এবং বিশাল সওয়াব পাওয়া যেতে পারে। শুধু আপনার জীবনের এক মিনিট সময় ব্যয় করে আপনি আপনার দানের পরিধি বাড়াতে পারেন, কোনো কিছু উপলব্ধি করতে পারেন, কোনো কিছু মুখস্থ করতে পারেন, যে কোনো নেককাজ করতে পারেন। শুধু এক মিনিটেই আপনার ভালো কাজের আমলনামায় এই আমলগুলো লেখা হয়ে যাবে যদি আপনি জানেন কিভাবে এক মিনিট সময়কে কাজে লাগাতে হয় এবং বাস্তবে কাজে লাগান। কবি বলেন, ‘প্রতিটি মিনিটে বৃহত্তর কল্যাণে প্রবৃত্ত হও। যদি তুমি এক মিনিটকে ভুলে যাও তবে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও ভুলে যাবে; বরঞ্চ বাস্তবতাকে ভুলে যাবে।’ এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন নিম্নে এর কিছু বাস্তব নমুনা পেশ করা হলো—

১. এক মিনিটে আপনি সুরা ফাতিহা মনে মনে দ্রুতগতিতে ৩ বার পড়তে পারেন। কেউ কেউ হিসাব কষে দেখিয়েছেন একবার সুরা ফাতিহা পড়লে ৬০০টিরও বেশি নেকি পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি তিনবার সুরা ফাতিহা পাঠ করেন তবে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় ১৮০০-র বেশি নেকি হাসিল করবেন। এত নেকী আপনি এক মিনিটেই পাচ্ছেন।

 ২. এক মিনিটে আপনি সুরা ইখলাস (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) মনে মনে দ্রুতগতিতে ২০ বার পড়তে পারেন। এই সুরা একবার পাঠ করলে কোরআন শরিফের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি এ সুরাটি ২০ বার পাঠ করেন তবে তা ৭ বার কোরআন পড়ার সমতুল্য। অতএব আপনি যদি এ সূরাটি প্রতিদিন এক মিনিটে ২০ বার পাঠ করেন তবে মাসে আপনার ৬০০ বার পাঠ করা হয় এবং বছরে ৭২০০ বার পাঠ করা হয়। যার সওয়াব ২৪০০ বার সম্পূর্ণ কোরআন পড়ার সমতুল্য।

৩. এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কিতাবের এক পৃষ্ঠা পাঠ করতে পারেন।

৪. এক মিনিটে আপনি কোরআনের ছোট একটি আয়াত মুখস্থ করতে পারেন।

৫. এক মিনিটে আপনি নিম্নোক্ত দোয়াটি ২০ বার পড়তে পারেন।

لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

এর সওয়াব ইসমাঈল (আ.) এর বংশের ৮ জন দাসকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত করার সমান।

৬. এক মিনিটে আপনি  سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِه  ১০০ বার পড়তে  পারেন। যে ব্যক্তি একদিনে এই দোয়াটি ১০০ বার পড়ে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয় না কেন।  

৭. এক মিনিটে আপনি  سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ  ৫০ বার পড়তে পারেন। এ দুটি এমন বাক্য যা পড়তে খুব সহজ; আমলের পাল্লাতে অনেক ভারী হবে; রহমানের নিকটে অতি প্রিয়; যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রহ.)।

৮. মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সুব্‌হানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আক্‌বার পাঠ করা যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়েছে সবকিছু থেকে আমার নিকট অধিক প্রিয়।’ (হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, ২৬৯৫)

আপনি এক মিনিটে বাক্যগুলো ১৮ বারের বেশি পড়তে পারেন। এ বাক্যগুলো আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। এগুলো সর্বোত্তম কথা এবং আমলের পাল্লাতে এগুলোর ওজন অনেক বেশি হবে। যেমনটি এ মর্মে বর্ণিত সহিহ হাদিসসমূহে এসেছে ।

৯. এক মিনিটে আপনি  لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ  (অর্থ, কোনো উপায়-সামর্থ্য নেই, কোনো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া) ৪০ বারের বেশি পড়তে পারেন। এ বাক্যটির সওয়াব জান্নাতের জন্য সঞ্চিত অমূল্য রত্ন; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে। একই ভাবে এটি কষ্টসাধ্য দায়িত্ব বহন ও কঠিন কাজসমূহ আঞ্জাম দেয়ার ক্ষেত্রে এক মহৌষধ।

১০. এক মিনিটে আপনি  لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله  (অর্থ : আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই) প্রায় ৫০ বার পড়তে পারেন। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ বাক্য ও তাওহিদের বাণী। এটি কালিমায়ে তাইয়্যেবা (উত্তম বাণী) ও সুদৃঢ় বাক্য। যে ব্যক্তির শেষ কথা হবে এই বাক্য তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এ ছাড়াও এর ফজিলত ও মর্যাদার ব্যাপারে আরো অনেক বর্ণনা রয়েছে। 

১১. এক মিনিটে আপনি  سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَى نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ  (আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার সমান, তাঁর সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান, তাঁর বাক্যমালার কালির সমান) এ দোয়াটি ১৫ বারের বেশি পড়তে পারেন। সাধারণ তাসবিহ ও জিকিরের চেয়ে এ বাক্যগুলো পাঠ করার সওয়াব অনেকগুণ বেশি যেমনটি মহানবী (সা.)  থেকে সহিহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে।

১২. এক মিনিটে আপনি আল্লাহর কাছে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন তথা  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ  পড়তে পারেন। এর ফজিলত আপনার অজানা নয়। এটি ক্ষমা প্রাপ্তি ও জান্নাতে প্রবেশের উপায়। এটি সুখময় জীবন, শক্তি বৃদ্ধি, বিপদ-আপদ রোধ, সকল কাজ সহজীকরণ, বৃষ্টি বর্ষণ, সম্পদ ও সন্তানের বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যম।

১৩. এক মিনিটে আপনি সংক্ষেপে কিছু কথা বলতে পারেন যা দ্বারা আল্লাহ হয়ত এমন কোনো কল্যাণের পথ খুলে দিবেন যা আপনি ভাবতেও পারেননি।

১৪. এক মিনিটে আপনি মহানবী (সা.)-এর উপর ৫০ বার দরূদ পাঠ করতে পারেন। শুধু পড়বেন ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। এর প্রতিদানে আল্লাহ আপনার উপর ৫০০ বার সালাত (রহমত) পাঠাবেন। কারণ একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ ১০ বার এর প্রতিদান দেন।

১৫. এক মিনিটে আপনার মন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, তাঁর ভালবাসা, তাঁর ভয়, তাঁর প্রতি আশা এবং তাঁর প্রেমে উদ্বেল হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি উবূদিয়্যাহ্‌ (আল্লাহর দাসত্ব) এর স্তরসমূহ অতিক্রম করতে পারেন; হতে পারে সে সময় আপনি হয়ত আপনার বিছানায় শুয়ে আছেন অথবা কোনো পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছেন।

১৬. এক মিনিটে আপনি সহজবোধ্য উপকারী কোনো বইয়ের দুই পৃষ্ঠার বেশি পড়তে পারেন।

১৭. এক মিনিটের টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে আপনি ‘সিলাতুর রাহেম’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার আমল পালন করতে পারেন।

১৮. এক মিনিটে আপনি দুই হাত তুলে ব্যাপক অর্থবোধক দোয়াগুলো হতে পছন্দমতো যে কোনো দোয়া করতে পারেন।

১৯. এক মিনিটে আপনি কয়েকজন ব্যক্তিকে সালাম দিতে পারেন ও তাদের সাথে মুসাফাহা করতে পারেন।

২০. এক মিনিটে আপনি কোনো ব্যক্তিকে একটি মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে পারেন।   

২১. এক মিনিটে আপনি একটি ভালো কাজের আদেশ করতে পারেন।

২২. এক মিনিটে আপনি একজন ভাইকে নসিহত করতে পারেন।

২৩. এক মিনিটে আপনি একজন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দিতে পারেন।

২৪. এক মিনিটে আপনি পথ থেকে ক্ষতিকর কোনো বস্তু অপসারণ করতে পারেন। 

২৫. এই এক মিনিটের সদ্ব্যবহার অবহেলায় কাটানো বাকি সময়গুলোর সদ্ব্যবহার করার অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করতে পারে।

ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যখন ঘুমন্ত লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন আমি আমার চোখের অশ্রু ফেলি এবং শ্রেষ্ঠ কবিতার একটি চরণ বারবার আওড়াতে থাকি। কোনো জ্ঞান অর্জন ছাড়া রাতগুলো কেটে যাবে এবং আমার জীবন থেকে হিসাব করা হবে—এটি কি সময়ের অপব্যয় নয়?’ পরিশেষে জানুন আপনার ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও আল্লাহর নজরদারির অনুভূতির ভিত্তিতে আপনার প্রতিদান বাড়বে, আপনার নেকীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। 

জেনে রাখুন, এই আমলগুলোর বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই আপনাকে তেমন কিছু করতে হবে না। এগুলোর জন্য আপনার পবিত্রতার প্রয়োজন নেই, ক্লান্তি বা কায়িক শ্রম নেই। বরং আপনি এ আমলগুলো করতে পারেন যখন আপনি পায়ে হেঁটে চলছেন অথবা গাড়িতে চড়ে কোথাও যাচ্ছেন অথবা শুয়ে আছেন অথবা দাঁড়িয়ে আছেন অথবা বসে আছেন অথবা কারো জন্য অপেক্ষা করছেন।

একই ভাবে এ আমলগুলো সুখী হওয়ার উপকরণ, আত্মপ্রশান্তির মাধ্যম, চিন্তা ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার উপায়। আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দিন। আমাদের নবীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ড. মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হামাদ প্রণীত ‘এক মিনিটকে কাজে লাগানোর সর্বোত্তম উপায়’ শীর্ষক লিফলেট থেকে সংকলিত।
সূত্র :  শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৭ ‍জুলাই ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৭ ‍জুলাই ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ২১ মহররম, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৩ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৭ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল

অনলাইন ডেস্ক
জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জাদুটোনা সম্পূর্ণ হারাম। এটি ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কুরআনেও জাদুটোনার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সুলাইমান (আ.) কুফরি করেনি, বরং শয়তানরা কুফরি করেছে। তারা মানুষকে যাদু শেখাত...‘(সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)

অন্যদিকে হাদিসেও ধ্বংসাত্মক এই কাজ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সেগুলো হলো— (১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, (২) জাদু করা, (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা, (৪) এতিমের সম্পদ (অন্যায়ভাবে) আত্মসাৎ করা, (৫) সুদ খাওয়া, (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সধবা, সরলমনা ও ঈমানদার নারীকে অপবাদ দেয়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪)

খোদ নবীজি (সা.) ওপরও একবার এক ইহুদি জাদু করেছিল। এর প্রভাবে রাসুল (সা.) কোনো কাজ না করেও তাঁর মনে হতো তিনি সেই কাজটি করেছেন। পরে মহান আল্লাহর নির্দেশে দু’জন ফেরেশতা নবীজির (সা.) চিকিৎসা করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫১)

এ ক্ষেত্রে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে জাদু-টোনার মতো ভয়ংকর বিপদ থেকে কীভাবে রক্ষা মিলবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব (রা.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আমারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম। পরে এক জায়গায় আমরা নবীজিকে (সা.) পেলাম। তখন তিনি (রাসুল সা.) বললেন- বল। আমি কিছুই বললাম না। নবীজি (সা.) আবারও বললেন, বল। এরপরও আমি চুপ করে রইলাম। তারপর রাসুল (সা.) আবারও বললেন- বল। তখন আমি প্রশ্ন করলাম- কি বলব? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন- প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআওওয়াযাতায়ন (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) তিনবার পাঠ করবে, তাহলে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৫)

এছাড়াও আরেকটি হাদিসে কালো জাদু বা জাদু-টোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে দোয়ার কথা এসেছে। উসমান ইবন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে কোনোকিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বাংলা: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।

অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনান আত তিরমিজি: হাদিস: ৩৩৮৮)

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ ‍জুলাই ২০২৬

আজ সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, ২০ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৩ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।