পশুত্বের স্বভাবের মানুষ নানা পশুর নামেই সম্বোধিত! গাছের নামও এখানে যুক্ত হয়। যেমন—অর্জুন, বট, চুতরাপাতা, কচু, কলাগাছ, তালগাছ ইত্যাদি। কিছু মানুষ ওই গাছের মতো যার ছায়াও নেই, ফলও নেই! কিছু মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও নেই মানবিক গুণাবলি। দুঃখজনক বাস্তবতা, বর্তমানে কেউ কেউ নীচতা-হীনতায় ইতর প্রাণীর চেয়েও জঘন্য! এখানেই পবিত্র কোরআনের বাণীর নিত্যতা ‘উলাইকা কাল আনআম্ বাল হুম আদ্বাল অর্থাৎ ওরা তো পশু বরং তার চেয়েও অধম।’ অমানুষগুলোও হয় অবিকল মানুষের মতোই! ইতর প্রাণী কুকুর (DOG) ও বিশ্বস্ততায়dangerous but an obedient guard!
প্রয়োজনে গরিবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যায়, ছোটলোকের সঙ্গে নয়! মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারবে...।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৪০)
ইসলাম উদারতা ও সহজ পন্থায় বিশ্বাসী। সদাচারে অবিচল থাকা ঈমান ও আমলের পরিচায়ক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসে অবিচল এবং তা থেকে বিচ্যুত হয় না...এবং এরাই তো প্রকৃত সত্যনিষ্ঠ।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১৫)
সমাজে নষ্ট মানুষের কদর ও প্রয়োজন বেশি। ভাঙা মোবাইল, নষ্ট জিনিস বেচাকেনা হয়। চোখের সামনেই ভালো মানুষ, নষ্ট মানুষের কাছে বিক্রি হচ্ছে! অথচ নষ্ট মানুষ কেনা যায় না!
অনাচার অশান্তির স্থলে হৃদয়ের প্রস্থতা বা উচ্চ মনের পরিচায়ক, ইসলামী সাম্য-ভ্রাতৃত্ব নীতির বাস্তব প্রতিফলন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ করো...যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের একে অপরের অন্তরের প্রীতি স্থাপন করে দিলেন, ফলে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের ভাই হয়ে গেলে...।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)
ইসলামে উচ্চ মন বা উন্নত চরিত্রের পরিচয় হলো উদারতা এবং অপরের মঙ্গলের জন্য নিজেকে নিবেদন করা। নিচু মনের মানুষ সামান্য সাফল্য বা অর্জনে অহংকারী হয়, আত্মগর্বে অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। এটা তো মনুষ্যত্বেরও পরিপন্থী। মহান আল্লাহর নির্দেশ—‘ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না, তুমি কখনোই ভূপৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বতপ্রমাণ হতে পারবে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৭)
উন্নত চরিত্র গঠনের অপরিহার্য গুণাবলী
(ক) ধর্মভীরুতা : ধর্মভীরুতাকে ইসলামে ‘তাকওয়া’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ—‘আল্লাহকে যথাসম্ভব ভয় করো, যেমন ভয় করা উচিত এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)
আয়াতে বর্ণিত ‘আল্লাহকে যথাসম্ভব ভয় করো’ এবং ‘মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না’ বাণীদ্বয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
(খ) বিনয় : অপরের চেয়ে নিজেকে বড় মনে না করাই বিনয়। বিনম্রতার মধ্যে ঈমানের প্রকাশ ঘটে। ইরশাদ হয়েছে—‘এবং রহমানের (দয়াময়) বান্দা তো তারাই, যারা বিনয়ের সঙ্গে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ-মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)
(গ) আমানত রক্ষা, সততা : উচ্চ মনের পরিচয় হলো কথা ও কাজে সত্যের ওপর অবিচল থাকা এবং কারো আমানতের খিয়ানত না করা। পবিত্র কোরআনের দর্শন—‘(দয়াময়ের বান্দা) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না, যদি অহেতুক বিষয়ের সামনে গিয়ে পড়ে তবে ভদ্রভাবে তা অতিক্রম করে...।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭২)
(ঘ) সহানুভূতি : উচ্চ মনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় পারস্পরিক সহানুভূতির মাধ্যমে। মহান আল্লাহর নির্দেশ—‘তোমরা ধৈর্য-সহিষ্ণুতা অবলম্বন করো এবং সহিষ্ণুতায় পারস্পরিক প্রতিযোগিতা করো; সহিষ্ণুতার বন্ধনে নিজেদের আবদ্ধ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো...।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২০০)
(ঙ) নৈতিকতা : প্রিয় নবী (সা.) অন্যায়-অনৈতিকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ‘ফিসক’ বা মহাপাপ এবং হত্যা করা কুফরি।’ (বুখারি)
(চ) বিভ্রান্তি পরিহার : ঈমান, সহিষ্ণুতা ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পৃক্ত। প্রিয় নবী (সা.) তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার উম্মত কখনো বিভ্রান্তির ওপর একমত হতে পারে না।’
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ
কাপাসিয়া, গাজীপুর




