• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৭ ‍জুলাই ২০২৬

উন্নত চরিত্র গঠনের অপরিহার্য কিছু গুণাবলী

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
উন্নত চরিত্র গঠনের অপরিহার্য কিছু গুণাবলী
সংগৃহীত ছবি

পশুত্বের স্বভাবের মানুষ নানা পশুর নামেই সম্বোধিত! গাছের নামও এখানে যুক্ত হয়। যেমন—অর্জুন, বট, চুতরাপাতা, কচু, কলাগাছ, তালগাছ ইত্যাদি। কিছু মানুষ ওই গাছের মতো যার ছায়াও নেই, ফলও নেই! কিছু মানুষের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য থাকলেও নেই মানবিক গুণাবলি। দুঃখজনক বাস্তবতা, বর্তমানে কেউ কেউ নীচতা-হীনতায় ইতর প্রাণীর চেয়েও জঘন্য! এখানেই পবিত্র কোরআনের বাণীর নিত্যতা ‘উলাইকা কাল আনআম্ বাল হুম আদ্বাল অর্থাৎ ওরা তো পশু বরং তার চেয়েও অধম।’ অমানুষগুলোও হয় অবিকল মানুষের মতোই! ইতর প্রাণী কুকুর (DOG) ও বিশ্বস্ততায়dangerous but an obedient guard! 
প্রয়োজনে গরিবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যায়, ছোটলোকের সঙ্গে নয়! মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারবে...।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৪০)

ইসলাম উদারতা ও সহজ পন্থায় বিশ্বাসী। সদাচারে অবিচল থাকা ঈমান ও আমলের পরিচায়ক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসে অবিচল এবং তা থেকে বিচ্যুত হয় না...এবং এরাই তো প্রকৃত সত্যনিষ্ঠ।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১৫)

সমাজে নষ্ট মানুষের কদর ও প্রয়োজন বেশি। ভাঙা মোবাইল, নষ্ট জিনিস বেচাকেনা হয়। চোখের সামনেই ভালো মানুষ, নষ্ট মানুষের কাছে বিক্রি হচ্ছে! অথচ নষ্ট মানুষ কেনা যায় না!

অনাচার অশান্তির স্থলে হৃদয়ের প্রস্থতা বা উচ্চ মনের পরিচায়ক, ইসলামী সাম্য-ভ্রাতৃত্ব নীতির বাস্তব প্রতিফলন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ করো...যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের একে অপরের অন্তরের প্রীতি স্থাপন করে দিলেন, ফলে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের ভাই হয়ে গেলে...।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)

ইসলামে উচ্চ মন বা উন্নত চরিত্রের পরিচয় হলো উদারতা এবং অপরের মঙ্গলের জন্য নিজেকে নিবেদন করা। নিচু মনের মানুষ সামান্য সাফল্য বা অর্জনে অহংকারী হয়, আত্মগর্বে অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। এটা তো মনুষ্যত্বেরও পরিপন্থী। মহান আল্লাহর নির্দেশ—‘ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না, তুমি কখনোই ভূপৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বতপ্রমাণ হতে পারবে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৭)

উন্নত চরিত্র গঠনের অপরিহার্য গুণাবলী
(ক) ধর্মভীরুতা :
ধর্মভীরুতাকে ইসলামে ‘তাকওয়া’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ—‘আল্লাহকে যথাসম্ভব ভয় করো, যেমন ভয় করা উচিত এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)

আয়াতে বর্ণিত ‘আল্লাহকে যথাসম্ভব ভয় করো’ এবং ‘মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না’ বাণীদ্বয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

(খ) বিনয় : অপরের চেয়ে নিজেকে বড় মনে না করাই বিনয়। বিনম্রতার মধ্যে ঈমানের প্রকাশ ঘটে। ইরশাদ হয়েছে—‘এবং রহমানের (দয়াময়) বান্দা তো তারাই, যারা বিনয়ের সঙ্গে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ-মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)

(গ) আমানত রক্ষা, সততা :  উচ্চ মনের পরিচয় হলো কথা ও কাজে সত্যের ওপর অবিচল থাকা এবং কারো আমানতের খিয়ানত না করা। পবিত্র কোরআনের দর্শন—‘(দয়াময়ের বান্দা) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না, যদি অহেতুক বিষয়ের সামনে গিয়ে পড়ে তবে ভদ্রভাবে তা অতিক্রম করে...।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭২)

(ঘ) সহানুভূতি : উচ্চ মনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় পারস্পরিক সহানুভূতির মাধ্যমে। মহান আল্লাহর নির্দেশ—‘তোমরা ধৈর্য-সহিষ্ণুতা অবলম্বন করো এবং সহিষ্ণুতায় পারস্পরিক প্রতিযোগিতা করো; সহিষ্ণুতার বন্ধনে নিজেদের আবদ্ধ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো...।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২০০)

(ঙ) নৈতিকতা : প্রিয় নবী (সা.) অন্যায়-অনৈতিকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া ‘ফিসক’ বা মহাপাপ এবং হত্যা করা কুফরি।’ (বুখারি)

(চ) বিভ্রান্তি পরিহার : ঈমান, সহিষ্ণুতা ও নৈতিকতা পরস্পর সম্পৃক্ত। প্রিয় নবী (সা.) তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার উম্মত কখনো বিভ্রান্তির ওপর একমত হতে পারে না।’

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ
কাপাসিয়া, গাজীপুর

জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল

অনলাইন ডেস্ক
জাদুটোনার ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ছোট্ট যে আমল
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জাদুটোনা সম্পূর্ণ হারাম। এটি ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহের মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কুরআনেও জাদুটোনার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সুলাইমান (আ.) কুফরি করেনি, বরং শয়তানরা কুফরি করেছে। তারা মানুষকে যাদু শেখাত...‘(সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)

অন্যদিকে হাদিসেও ধ্বংসাত্মক এই কাজ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সেগুলো হলো— (১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, (২) জাদু করা, (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা, (৪) এতিমের সম্পদ (অন্যায়ভাবে) আত্মসাৎ করা, (৫) সুদ খাওয়া, (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সধবা, সরলমনা ও ঈমানদার নারীকে অপবাদ দেয়া। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪)

খোদ নবীজি (সা.) ওপরও একবার এক ইহুদি জাদু করেছিল। এর প্রভাবে রাসুল (সা.) কোনো কাজ না করেও তাঁর মনে হতো তিনি সেই কাজটি করেছেন। পরে মহান আল্লাহর নির্দেশে দু’জন ফেরেশতা নবীজির (সা.) চিকিৎসা করেছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫১)

এ ক্ষেত্রে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে জাদু-টোনার মতো ভয়ংকর বিপদ থেকে কীভাবে রক্ষা মিলবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব (রা.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আমারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম। পরে এক জায়গায় আমরা নবীজিকে (সা.) পেলাম। তখন তিনি (রাসুল সা.) বললেন- বল। আমি কিছুই বললাম না। নবীজি (সা.) আবারও বললেন, বল। এরপরও আমি চুপ করে রইলাম। তারপর রাসুল (সা.) আবারও বললেন- বল। তখন আমি প্রশ্ন করলাম- কি বলব? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন- প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআওওয়াযাতায়ন (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) তিনবার পাঠ করবে, তাহলে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৫)

এছাড়াও আরেকটি হাদিসে কালো জাদু বা জাদু-টোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে দোয়ার কথা এসেছে। উসমান ইবন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে কোনোকিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বাংলা: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।

অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনান আত তিরমিজি: হাদিস: ৩৩৮৮)

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ ‍জুলাই ২০২৬

আজ সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, ২০ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৭ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৩ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা হলে করণীয় কী?

অনলাইন ডেস্ক
জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা হলে করণীয় কী?
সংগৃহীত ছবি

সালাত বা নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।

অন্যদিকে হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায় করার কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপর। এমনকি খোদ মহান আল্লাহ তা’আলার কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় একটি আমল।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়? জবাবে তিনি (নবীজি সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। পরে ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

কেউ নামাজরত থাকেলে তার জন্য ফেরেশতারাও মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে থাকেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতরত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতারা এ বলে দোয়া করতে থাকে- হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন (এ দোয়া চলতে থাকবে) যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি সালাত (নামাজ) ছেড়ে না দাঁড়াবে অথবা তার অজু ভঙ্গ না হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০০২)

তবে বিশেষ কোনো কারণে যদি কোনো ওয়াক্তের নামাজ ছুটে যায় তবে পরবর্তীতে সেই নামাজের কাজা আদায় করতে হয়। বিশেষ করে ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে তার কাজা আদায় করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারদের মত, যে ওয়াক্তের নামাজ কাজা হবে, পরের ওয়াক্তের সালাত আদায়ের আগে সেই কাজা আদায় করে নিতে হবে। অর্থাৎ, কারও যদি যোহরের ওয়াক্ত ছুটে যায়, তাহলে আসরের ওয়াক্তের আগে তাকে যোহরের কাজা আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করলেই হবে। সুন্নত না পড়লে কোনো অসুবিধা নেই। আর কাজা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূরা-কেরাত মূল নামাজের মতোই।

কিন্তু কারও যদি একাধিক ওয়াক্তের নামাজ কাজা থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ, কারও যদি জোহর, আসর ও মাগরিবের ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়, তাহলে এশার সময় কাজা আদায় করলে আগে জোহরের কাজা আদায় করতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে আসর ও মাগরিবের কাজা আদায় করতে হবে।

খোদ রাসুল (সা.) ও যুদ্ধের সময় এমনটি করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, মুশরিকরা খন্দকের যুদ্ধের সময় রাসুল (সা.) কে ৪ ওয়াক্তের সালাত আদায়ে বিঘ্নের সৃষ্টি করে। এমনকি রাতের কিছু অংশও অতিবাহিত হয়ে যায়, কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে পারলেন না। পরে নবীজি (সা.) বিলাল (রা.) কে আজান (এশা) দিতে বললেন। এরপর বিলাল (রা.) আজান দিয়ে ইকামত দিলেন। পরে রাসুল (সা.) জোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর আবারও তিনি (বিলাল রা.) ইকামত দিলেন, রাসুল (সা.) আসরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আবার ইকামত দেয়া হয় এবং রাসুল (সা.) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। একইভাবে পুনরায় ইকামত দেয়া হয় এবং রাসুল (সা.) এশার সালাত আদায় করলেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৭৯-১৮০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৯)

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে একসময় ওমর (রা.) কুরাইশ কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, সূর্যাস্তের পূর্বে আমি আসরের সালাত আদায় করতে পরিনি। জাবির (রা.) আরও বর্ণনা করেন, ওই ঘটনার পর আমরা বুতহান উপত্যকায় উপস্থিত হলাম। সেখানে তিনি সূর্যাস্তের পর সে সালাত আদায় করলেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭১)

তবে কেউ যদি অবহেলায় কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অসংখ্য দিন নামাজ না পড়েন, অথবা নামাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাহলে করণীয় কী? এ ক্ষেত্রে প্রায়সময়ই অনেকে জীবনে অসংখ্য নামাজ কাজা করার বিষয়টিকে ‘উমরি কাজা’ বলে অবহিত করে থাকেন। কিন্তু আসলেই যদি কারও জীবনে এক বা দুই বছর কিংবা এর চেয়েও বেশি সময়ের নামাজ কাজা হয়, তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তিনি কীভাবে সে নামাজগুলো আদায় করবেন তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভুগেন।

এ ক্ষেত্রে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে কারও অসংখ্য নামাজ কাজা হওয়ার বিষয়ে ওলামায়ে-কেরামদের মধ্যে দু’টি মত রয়েছে। এরমধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের ওলামায়ে আরবদের একটি মত হলো- ‘উমরি কাজা’ বলতে কোনোকিছু নেই। ইসলামেও এমন কোনো শব্দ নেই। আর আরেকটি মত হলো- একজন মুসলিম আগে অবহেলা করে ছাড়ার পর আর নামাজ পড়তেন না, কিন্তু এখন আল্লাহ তা’আলা তাকে সঠিক বুঝ দিয়েছেন, হেদায়েত পেয়েছেন, তাই যতদিন বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার পর তিনি নামাজ পড়েননি, সেই নামাজগুলো তার কাজা আদায় করা উচিত। বেশিরভাগ প্রখ্যাত আলেম এই মতটির পক্ষে।

সুতরাং, কারও এক বা দুই বছর কিংবা এর চেয়ে বেশি সময়ের নামাজ কাজা থাকলে, আনুমানিক হিসেব করে ধারাবাহিকভাবে তিনি ওই পরিমাণ নামাজের কাজা আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুই-চার রাকাত করে কাজা আদায় করতে পারেন। সেই সঙ্গে নফল নামাজের পরিমাণ বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।