• ই-পেপার

জ্বালানিসংকটে কিউবায় তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট, স্থবির জনজীবন

জন্ম থেকেই কান নেই, অস্ত্রোপচারে শুনতে পারবে ৭ বছরের শিশু

অনলাইন ডেস্ক
জন্ম থেকেই কান নেই, অস্ত্রোপচারে শুনতে পারবে ৭ বছরের শিশু
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশের সাত বছর বয়সী এক শিশুর কানে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জন্মের পর থেকেই তার বাইরের কান এবং কানের ছিদ্র ছিল না। এ কারণে সে শুনতে পারত না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীরে বিশেষ ধরনের একটি যন্ত্র বসানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা আশা করছেন, এই যন্ত্রের মাধ্যমে শিশুটি এখন শব্দ শুনতে পারবে।

চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে ‘বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট’ বসিয়েছেন। এটি এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি, যা সাধারণ কানের পথ ব্যবহার না করে মাথার খুলির হাড়ের মাধ্যমে শব্দের কম্পন ভেতরের কানে পৌঁছে দেয়। গত সপ্তাহে সিএমআরআই সিকে বিড়লা হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন কান বিশেষজ্ঞ ও ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জন এনভিকে মোহন। তার সঙ্গে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও কাজ করে।

চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের প্রথম ধাপে শিশুটির ত্বকের নিচে একটি ছোট চৌম্বকীয় যন্ত্র বসানো হয়েছে। এটি মাথার খুলির হাড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং শব্দের সংকেত ভেতরের কানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। অস্ত্রোপচারের ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে প্রায় তিন সপ্তাহ পর এর সঙ্গে বাইরের একটি যন্ত্র যুক্ত করা হবে। বাইরের এই যন্ত্রে থাকবে একটি মাইক্রোফোন ও শব্দ প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা। এটি চারপাশের শব্দ সংগ্রহ করে ভেতরের ইমপ্লান্টে পাঠাবে। এরপর শিশুটি শব্দ অনুভব করতে পারবে। চিকিৎসক এনভিকে মোহন বলেন, শিশুটির ভেতরের কান স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু তার কানের বাইরের অংশের গঠনগত সমস্যা রয়েছে। তার কানের হাড়ের নালি তৈরি হয়নি এবং কানের পর্দাও নেই। ফলে বাইরে থেকে আসা শব্দ ভেতরের কানে পৌঁছাতে পারছিল না। তিনি বলেন, শিশুটির শুধু এমন একটি প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল, যা শব্দ সংগ্রহ করে ভেতরের কানে সংকেত পাঠাতে পারে। এ কারণেই তারা বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চিকিৎসক জানান, শিশুটির মাথার খুলির হাড়ে টাইটেনিয়ামের তৈরি একটি ছোট অংশ বসানো হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। পরে এর সঙ্গে বাইরের প্রসেসর বা শব্দ গ্রহণকারী যন্ত্র সংযুক্ত করা হবে। 
এই প্রযুক্তিতে বাইরের কান, কানের নালি ও কানের পর্দা ব্যবহার করতে হয় না। মাথার খুলির হাড়ের মাধ্যমে সরাসরি ভেতরের কান বা ককলিয়ায় শব্দের কম্পন পৌঁছে যায়। বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট এবং ককলিয়ার ইমপ্লান্ট- দুটিই শ্রবণ সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সাধারণত তাদের জন্য ব্যবহার করা হয়, যাদের কানের ভেতরের অংশ বা শ্রবণ স্নায়ু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই যন্ত্র সরাসরি শ্রবণ স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে শব্দ বোঝার সুযোগ তৈরি করে।

এনভিকে মোহন বলেন, শিশুটির কানের গঠন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কানের নালি তৈরি করার চেষ্টা করলে একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো। তারপরও ভালো ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না। তাই সেই পদ্ধতিতে না গিয়ে ইমপ্লান্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে শিশুটির বাইরের কান তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে সে কৃত্রিম কানও ব্যবহার করতে পারবে। তবে এখন চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য হলো তাকে শুনতে সক্ষম করা। এনভিকে মোহন বলেন, শিশুটির ভেতরের কান যেহেতু ঠিকভাবে কাজ করছে, তাই বাইরের প্রসেসর লাগানোর পর সে বাইরের কান না থাকলেও স্বাভাবিকভাবে শব্দ শুনতে পারবে।

চিকিৎসকেরা জানান, বাইরের প্রসেসরটি দেখতে ছোট চৌম্বকের মতো হবে। এটি কানের স্বাভাবিক অবস্থানের একটু পাশে ত্বকের ওপর বসানো থাকবে। প্রয়োজন হলে এটি খুলে রাখা যাবে। যেমন- গোসল বা ঘুমানোর সময় শিশুটি এটি খুলে রাখতে পারবে। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর বাইরের প্রসেসর লাগানোর জন্য তাকে আবার হাসপাতালে আনা হবে। এরপর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করবেন, যন্ত্রটি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ন্যাটোর সহায়তা চাইছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ন্যাটোর সহায়তা চাইছে ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো বৈঠকে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

ন্যাটো বৈঠকের পাশাপাশি জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি রাশিয়ার হামলাকে শক্তির নয়, বরং দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরবেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর শান্তি আলোচনায় বসার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন।

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার ফলে রাশিয়ার কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রোল সংগ্রহ এবং সীমিত জ্বালানি নিয়ে মানুষের মধ্যে উত্তেজনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ধীর করতে সক্ষম হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। তবে একই সময়ে রাশিয়া আকাশপথে হামলা আরো বাড়িয়েছে, যা ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইউক্রেন সমস্যায় পড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক হামলায় বেশিরভাগ ড্রোন ভূপাতিত করা গেলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত দ্রুতগতির হওয়ায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন।

জেলেনস্কি বলেন, বিশ্বে বর্তমানে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি তাদের মজুত থাকা প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুদামে পড়ে থাকার চেয়ে এগুলো এখন বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষায় বেশি কাজে লাগবে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়া ক্রমেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ওপর নির্ভর করছে। তাই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এসব হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ন্যাটোর সহায়তায় ইউক্রেন নিজস্ব উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনাও করছে।

ইউক্রেনের মতে, তাদের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জুনে সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের অর্থনৈতিক ফোরামের আগে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পরে মস্কো এবং সাইবেরিয়ার ওমস্কের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব হামলা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

ক্রিমিয়াও ইউক্রেনের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া এই অঞ্চলটিতে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা, তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানি সংকট এবং জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলেনস্কি এসব হামলাকে ‘প্রভাব বিস্তারের অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার লক্ষ্য হলো রাশিয়াকে এমন একটি শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা, যা ইউক্রেনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তবে কিয়েভ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলের পুরো ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার শর্ত মেনে নেবে না।

ইউক্রেন মনে করছে, পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন পেলে রাশিয়াকে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় আনা সম্ভব হবে। তবে তার জন্য এখনই আরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছেন জেলেনস্কি। সামনে আরেকটি কঠিন শীতকাল আসার আগে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক ও সামরিক দুই পথেই চাপ বাড়াতে চায় কিয়েভ।

ফ্রান্সে লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আদালতের হাতে, রায় আজ

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আদালতের হাতে, রায় আজ
ছবি: রয়টার্স

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন লে পেন আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছেন দেশটির একটি আপিল আদালত। মঙ্গলবার প্যারিসের আপিল আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

২০২৫ সালের মার্চে একটি আদালত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ আত্মসাতের মামলায় লে পেনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, পার্লামেন্ট সদস্যদের সহকারীদের বেতন দেওয়ার জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অর্থ ন্যাশনাল র‍্যালি দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করা হয়েছিল। আদালতের মতে, এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন লে পেন। এই মামলায় তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ ইউরো জরিমানা এবং চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই বছরের সাজা স্থগিত রাখা হয়। বাকি দুই বছর তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির মধ্যে নিজ বাড়িতে থাকতে হবে। তবে লে পেন শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। পরে তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

আপিল আদালত যদি আগের রায় বহাল রাখেন, তাহলে ৫৭ বছর বয়সী লে পেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এটি হবে তার জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। কারণ তিনি চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তার দল ন্যাশনাল র‍্যালির সভাপতি এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৩০ বছর বয়সী জর্ডান বারদেলা প্রেসিডেন্ট পদে দলের প্রার্থী হতে পারেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ন্যাশনাল র‍্যালি বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, বারদেলা প্রার্থী হলেও তিনি নির্বাচনের প্রথম ধাপে এগিয়ে থাকতে পারেন এবং শেষ ধাপের লড়াইয়েও পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মারিন লে পেন তার বাবা জ্যাঁ-মারি লে পেনের প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল র‍্যালিকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। একসময়ের ছোট জাতীয়তাবাদী দলটি এখন ফ্রান্সের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই দলটিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সরকার হিসেবে দেখছেন। তাই আদালতের এই রায় শুধু লে পেনের জন্য নয়, পুরো দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। 

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রায় ঘোষণা শুরু হওয়ার কথা। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আদালত রায় দেবেন। একই দিন রাতে ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ১-এ একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে লে পেনের। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন। ন্যাশনাল র‍্যালি ইতোমধ্যেই লে পেনকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের অনেক সংসদ সদস্য লে পেনের জনপ্রিয়তার কারণেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই নতুন নেতৃত্ব এলে তাদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বারদেলা প্রার্থী হলে লে পেন তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন এবং দলের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তবে অর্থনীতি ও পেনশন সংস্কারের মতো কিছু বিষয়ে বারদেলার অবস্থান লে পেনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এতে দলের কিছু সমর্থকের মধ্যে মতভেদ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপিল আদালত চাইলে আগের দোষী সাব্যস্ত করার রায় বহাল রেখে শাস্তি কমিয়ে দিতে পারেন। যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, অথবা তা দুই বছর বা তার কম সময়ে নামিয়ে আনা হয়, তাহলে লে পেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কারণ তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৫ সালের মার্চ থেকে গণনা করা হচ্ছে। তবে কারাদণ্ড বহাল থাকলে এবং তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির মধ্যে বাড়িতে থাকতে হলে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো তার জন্য খুব কঠিন হয়ে যাবে। আবার আদালত চাইলে আগের দোষী সাব্যস্ত করার রায় পুরোপুরি বাতিলও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লে পেন সব ধরনের আইনি বাধা থেকে মুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন আদালতের রায় বিবেচনায় এমন সম্ভাবনা খুবই কম। আপিল আদালত আগের রায় বহাল রাখলে লে পেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত কুর দ্য কাসাসিওঁতে আপিল করতে পারবেন। তবে তিনি আগেই বলেছেন, চূড়ান্ত রায় পেতে যদি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।

উল্লেখ্য যে, এই মামলায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকে ৪০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা প্রায় ৪৬ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।


 

বিশ্বকাপ ভেন্যুর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ৬০০ ড্রোন জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ভেন্যুর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ৬০০ ড্রোন জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে খেলার ভেন্যু এবং সমর্থকদের জমায়েতের এলাকাগুলোর আশপাশ থেকে ৬০০টির বেশি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

টিএসএ জানায়, ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ড্রোন নিরাপত্তার স্বার্থে জব্দ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, খেলার দিন স্টেডিয়ামের চারপাশে তিন নটিক্যাল মাইল এলাকাজুড়ে এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট বা প্রায় ৯১৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ড্রোনও রয়েছে। তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি থাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক ১১টি শহরের প্রতিটিতেই নিষিদ্ধ আকাশসীমা থেকে ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো আয়োজক শহরই এ ধরনের ঘটনার বাইরে ছিল না।
 
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মায়ামিতেই এখন পর্যন্ত ১৩০টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। আর ডালাসে পাঁচটি ম্যাচ চলাকালে ৭০টির বেশি ড্রোন আটক করা হয়েছে। ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব ম্যাচের স্টেডিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট সমর্থকদের জমায়েতের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফ্যান জোনের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে এবং মাটি থেকে এক হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কেউ নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ড্রোন জব্দ করা হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআইয়ের বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে। এসব দল বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া ওড়ানো ড্রোন শনাক্ত এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করছে। গত সপ্তাহে এ ধরনের একটি ঘটনার জেরে ৪০ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক ক্রিস্তোবাল তোরেস আলভারেজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ডালাসের একটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে তিনি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় একটি ড্রোন উড়িয়েছিলেন। ড্রোনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র আগেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকিস্বরূপ ড্রোন প্রতিরোধে দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে নতুন ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা স্থাপন করে।

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ক্রীড়া আসরে ড্রোন-সংক্রান্ত একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে বাল্টিমোরে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) একটি প্লে-অফ ম্যাচের সময় নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন।