• ই-পেপার

ফ্রান্সে লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আদালতের হাতে, রায় আজ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান খুব কাছাকাছি : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান খুব কাছাকাছি : ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের সমাধান ‘মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপের পর সোমবার (৬ জুলাই) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে এই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে বড় ধরনের আলোচনা হবে বলেও জানান ট্রাম্প।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা যুদ্ধের সমাধানের যতটা কাছাকাছি চলে এসেছি, মানুষ তা এখনো টের পাচ্ছে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই যুদ্ধের অবসান চান। এটি আমি আপনাদের খুব জোরালোভাবেই বলছি।’

ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ জুলাইয়ের ছুটির দিনে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রায় ৮৫ মিনিট দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। সেখানে ট্রাম্প শান্তির পথ খুঁজে বের করতে সহায়তার প্রস্তাব দেন। এরপর জেলেনস্কির সঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, জেলেনস্কিও এখন এই যুদ্ধ থামানোর পক্ষে। বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের দাবি করলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণে ট্রাম্প এখন যুদ্ধটিকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।

ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলাকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় সাফল্যের পাশে থাকতে চান। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও নিজের মর্যাদার স্বার্থেই তিনি এই যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী।’

এদিকে মস্কোতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুদ্ধ নিরসনের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বেশ স্পষ্ট ও সংগতিপূর্ণ। তিনি ঘন ঘন মত বদলান না। পেসকভ বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে আসল পরিস্থিতি কী, তা পুতিনের কাছ থেকে সরাসরি শুনতে ট্রাম্প বেশ আগ্রহী।’ পুতিন ও ট্রাম্প অদূর ভবিষ্যতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন বলেও ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন অবরোধে অন্ধকারে কিউবা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
মার্কিন অবরোধে অন্ধকারে কিউবা
ছবি : রযটার্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের মুখে সমাজতান্ত্রিক কিউবার জ্বালানী মজুদ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটায় গোটা কিউবায় অন্ধকার নেমে আসে। তবে ন্যাশনাল ব্ল্যাকআউট এবারই প্রথম নয়। নতুন করে কঠোর মার্কিন অবরোধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার গোটা কিউবা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। গত মার্চে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে অন্তত দুইবার সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট হয়েছিল। 

বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক কিউবা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে আসছে। কিউবায় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে নানামুখী অবরোধ ও চাপ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশী পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বছর থেকে শুরু করেছে জ্বালানী অবরোধ।

মূলত ভেনিজুয়েলা ও মেক্সিকোর মত বন্ধু রাষ্ট্র থেকে জ্বালানী সংগ্রহ করতো কিউবা। বিশেষ করে ভেনিজুয়েলা থেকে তারা ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানী তেল পেতো। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়তি শুল্ক আরোপের মার্কিন হুমকির কারণে মেক্সিকো বা অন্য কোনো দেশও কিউবায় তেল বিক্রি করতে পারছে না। 

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে না। ফলে অন্য কোনো দেশ থেকে সাধারণ নিয়মে জ্বালানি কেনার কোনো সুযোগও কিউবার নেই। ফলে নজিরবিহীন দীর্ঘ জ্বালানী সঙ্কটে পড়েছে দেশটি। ২০/২২ ঘণ্টার লোডশেডিং স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সোমবার কিউবার ন্যাশনাল গ্রিডে বিপর্যয় সৃষ্টি হলে গোটা কিউবা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিউবার ন্যাশনাল গ্রিড সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থাটি এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। 

জ্বালানি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি জানান, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে ইতিমধ্যেই জরুরি ‘মাইক্রোসিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। সোমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জ্বালানি আমদানিতে বাধা দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন মূলত ’অবরুদ্ধ করে সামাজিক বিস্ফোরণ’ ঘটানোর চেষ্টা করছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির এই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষা, পরিবহন এবং চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো কিউবার অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে এবং অনেক পর্যটককে দ্বীপে আসতে বাধা দিচ্ছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো কিউবা সরকারকে তাদের কঠোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা শিথিল করতে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিতে বাধ্য করা।

গত মাসে কিউবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অর্থনীতি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলো কোনো বহিরাগত বা বিদেশি চাপের মুখে নেওয়া হয়নি। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র এই সংস্কারগুলোকে অপর্যাপ্ত, লোক দেখানো ও ভাসা ভাসা বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন ও কিউবান কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গত মে মাসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ হাভানায় কিউবার গোয়েন্দা প্রধানদের সাথে বৈঠক করেন এবং মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটির সীমানায় কিউবার সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্বীপে রাশিয়া ও চীনের নজরদারি কেন্দ্র স্থাপন এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুন্ন করার অভিযোগ এনেছে। তবে কিউবা এই দাবি অস্বীকার করে নিয়েছে।

কিউবার বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা দ্বীপের মানবিক সংকট সম্পর্কে বলতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তির অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ’আজ আমাদের জনগণের সাথে যা ঘটছে, তা একটি গণহত্যা।’

জন্ম থেকেই কান নেই, অস্ত্রোপচারে শুনতে পারবে ৭ বছরের শিশু

অনলাইন ডেস্ক
জন্ম থেকেই কান নেই, অস্ত্রোপচারে শুনতে পারবে ৭ বছরের শিশু
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশের সাত বছর বয়সী এক শিশুর কানে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জন্মের পর থেকেই তার বাইরের কান এবং কানের ছিদ্র ছিল না। এ কারণে সে শুনতে পারত না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীরে বিশেষ ধরনের একটি যন্ত্র বসানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা আশা করছেন, এই যন্ত্রের মাধ্যমে শিশুটি এখন শব্দ শুনতে পারবে।

চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে ‘বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট’ বসিয়েছেন। এটি এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি, যা সাধারণ কানের পথ ব্যবহার না করে মাথার খুলির হাড়ের মাধ্যমে শব্দের কম্পন ভেতরের কানে পৌঁছে দেয়। গত সপ্তাহে সিএমআরআই সিকে বিড়লা হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন কান বিশেষজ্ঞ ও ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জন এনভিকে মোহন। তার সঙ্গে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও কাজ করে।

চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের প্রথম ধাপে শিশুটির ত্বকের নিচে একটি ছোট চৌম্বকীয় যন্ত্র বসানো হয়েছে। এটি মাথার খুলির হাড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং শব্দের সংকেত ভেতরের কানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। অস্ত্রোপচারের ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে প্রায় তিন সপ্তাহ পর এর সঙ্গে বাইরের একটি যন্ত্র যুক্ত করা হবে। বাইরের এই যন্ত্রে থাকবে একটি মাইক্রোফোন ও শব্দ প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা। এটি চারপাশের শব্দ সংগ্রহ করে ভেতরের ইমপ্লান্টে পাঠাবে। এরপর শিশুটি শব্দ অনুভব করতে পারবে। চিকিৎসক এনভিকে মোহন বলেন, শিশুটির ভেতরের কান স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু তার কানের বাইরের অংশের গঠনগত সমস্যা রয়েছে। তার কানের হাড়ের নালি তৈরি হয়নি এবং কানের পর্দাও নেই। ফলে বাইরে থেকে আসা শব্দ ভেতরের কানে পৌঁছাতে পারছিল না। তিনি বলেন, শিশুটির শুধু এমন একটি প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল, যা শব্দ সংগ্রহ করে ভেতরের কানে সংকেত পাঠাতে পারে। এ কারণেই তারা বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চিকিৎসক জানান, শিশুটির মাথার খুলির হাড়ে টাইটেনিয়ামের তৈরি একটি ছোট অংশ বসানো হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। পরে এর সঙ্গে বাইরের প্রসেসর বা শব্দ গ্রহণকারী যন্ত্র সংযুক্ত করা হবে। 
এই প্রযুক্তিতে বাইরের কান, কানের নালি ও কানের পর্দা ব্যবহার করতে হয় না। মাথার খুলির হাড়ের মাধ্যমে সরাসরি ভেতরের কান বা ককলিয়ায় শব্দের কম্পন পৌঁছে যায়। বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট এবং ককলিয়ার ইমপ্লান্ট- দুটিই শ্রবণ সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সাধারণত তাদের জন্য ব্যবহার করা হয়, যাদের কানের ভেতরের অংশ বা শ্রবণ স্নায়ু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই যন্ত্র সরাসরি শ্রবণ স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে শব্দ বোঝার সুযোগ তৈরি করে।

এনভিকে মোহন বলেন, শিশুটির কানের গঠন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কানের নালি তৈরি করার চেষ্টা করলে একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো। তারপরও ভালো ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না। তাই সেই পদ্ধতিতে না গিয়ে ইমপ্লান্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে শিশুটির বাইরের কান তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে সে কৃত্রিম কানও ব্যবহার করতে পারবে। তবে এখন চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য হলো তাকে শুনতে সক্ষম করা। এনভিকে মোহন বলেন, শিশুটির ভেতরের কান যেহেতু ঠিকভাবে কাজ করছে, তাই বাইরের প্রসেসর লাগানোর পর সে বাইরের কান না থাকলেও স্বাভাবিকভাবে শব্দ শুনতে পারবে।

চিকিৎসকেরা জানান, বাইরের প্রসেসরটি দেখতে ছোট চৌম্বকের মতো হবে। এটি কানের স্বাভাবিক অবস্থানের একটু পাশে ত্বকের ওপর বসানো থাকবে। প্রয়োজন হলে এটি খুলে রাখা যাবে। যেমন- গোসল বা ঘুমানোর সময় শিশুটি এটি খুলে রাখতে পারবে। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর বাইরের প্রসেসর লাগানোর জন্য তাকে আবার হাসপাতালে আনা হবে। এরপর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করবেন, যন্ত্রটি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ন্যাটোর সহায়তা চাইছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ন্যাটোর সহায়তা চাইছে ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো বৈঠকে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

ন্যাটো বৈঠকের পাশাপাশি জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি রাশিয়ার হামলাকে শক্তির নয়, বরং দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরবেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর শান্তি আলোচনায় বসার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন।

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার ফলে রাশিয়ার কিছু এলাকায় জ্বালানিসংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রল সংগ্রহ এবং সীমিত জ্বালানি নিয়ে মানুষের মধ্যে উত্তেজনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ধীর করতে সক্ষম হয়েছে এবং সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। তবে একই সময়ে রাশিয়া আকাশপথে হামলা আরো বাড়িয়েছে, যা ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ইউক্রেন সমস্যায় পড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক হামলায় বেশির ভাগ ড্রোন ভূপাতিত করা গেলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত দ্রুতগতির হওয়ায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন।

জেলেনস্কি বলেন, বিশ্বে বর্তমানে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, তার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি তাদের মজুদ থাকা প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইউক্রেনকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুদামে পড়ে থাকার চেয়ে এগুলো এখন বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষায় বেশি কাজে লাগবে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়া ক্রমেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ওপর নির্ভর করছে। তাই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এসব হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ন্যাটোর সহায়তায় ইউক্রেন নিজস্ব উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনাও করছে।

ইউক্রেনের মতে, তাদের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জুনে সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের অর্থনৈতিক ফোরামের আগে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পরে মস্কো এবং সাইবেরিয়ার ওমস্কের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব হামলা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

ক্রিমিয়াও ইউক্রেনের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া এই অঞ্চলটিতে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা, তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানিসংকট এবং জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলেনস্কি এসব হামলাকে ‘প্রভাব বিস্তারের অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার লক্ষ্য হলো রাশিয়াকে এমন একটি শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা, যা ইউক্রেনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তবে কিয়েভ স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলের পুরো ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার শর্ত মেনে নেবে না।

ইউক্রেন মনে করছে, পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন পেলে রাশিয়াকে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় আনা সম্ভব হবে। তবে তার জন্য এখনই আরো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছেন জেলেনস্কি। সামনে আরেকটি কঠিন শীতকাল আসার আগে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক ও সামরিক দুই পথেই চাপ বাড়াতে চায় কিয়েভ।