• ই-পেপার

আজ টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

অনলাইন ডেস্ক
‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।’

কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নিজের স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে ‘

দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের মানবিক ও কঠিন দায়িত্ব পালনের কারণে অসংখ্য কর্মজীবী মা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।’

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), সকাল ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

১৭ জেলার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, দুপুর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
১৭ জেলার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, দুপুর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে দুপুর পর্যন্ত ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাতসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।  এসব জেলার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি বই রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নির্দেশনা দেওয়ার এক মাস পর সেটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বই তিনটি  হলো, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রথম দুটি বইয়ের লেখক মাহফুজ উল্লাহ। তৃতীয় বইটি তারেক রহমানের রচনা। তিনটি বই-ই প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা।

গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) পাঠানো এক নির্দেশনায় দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বইগুলোর একটি করে সেট সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ডিপিইর মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী বলেন, অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়েছিল। এখন মন্ত্রণালয় যা বলবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আগের নির্দেশনা বাতিল করা হচ্ছে।

পে স্কেলের হিসাব নিয়ে হিমশিম সরকার

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলের হিসাব নিয়ে হিমশিম সরকার

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে স্কেলের মূল বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসংক্রান্ত হিসাব কষতে হিমশিম খাচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার! এজন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি বারবার বৈঠক করেও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে পারছে না। গতকালও সচিবালয়ে এ-সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুপারিশমালা চূড়ান্ত করতে এ মাসে আরো দুই-তিনটি বৈঠকের প্রয়োজন হবে। মন্ত্রিপরিষদ ও অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে চলমান আর্থিক সংকটের কারণে ড. ইউনূস সরকার ঘোষিত পে স্কেলের রূপরেখা সরাসরি বাস্তবায়ন করতে পারছে না নির্বাচিত সরকার। অনেকটা বাধ্য হয়েই কিছু কাটছাঁট করবে। এজন্য সুপারিশ করা গ্রেডগুলোতে মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা এবং ভাতাদিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত পে স্কেল বাস্তবায়ন তিন ধাপে করা হতে পারে। যদিও এতে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেসব অসুবিধা কাটিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে সচিব কমিটি। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করবে সরকার। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন দেখিয়ে সে হিসেবে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন সরকারি চাকুরেরা।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘সচিব কমিটি এখনো সুপারিশমালা জমা দেয়নি। তাদের হয়তো আরো কিছু সময় লাগবে।’

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো এক বা দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সচিব কমিটি সে বিষয়টিও দেখছে। এখানে তিন ধাপ পর্যন্তও প্রয়োজন হতে পারে।’

এদিকে এসব কারণে নতুন পে স্কেলের গেজেট বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলেও গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব হয়নি। অথচ পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিন কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন পেনশনভোগীরা। কেননা তারা বর্তমানে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তাই সরাসরি কোনো তথ্য পান না। নির্ভর করতে হয় গণমাধ্যমের ওপর। ফলে পে স্কেলের সর্বশেষ তথ্য জানতে বারবার ফোন করেন গণমাধ্যমকর্মীদের।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সরকার নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে বেতন বৃদ্ধির ধরন, কত ধাপে বাস্তবায়ন হবে, কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে এবং কবে গেজেট প্রকাশ হবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। এজন্য সচিব কমিটি ধারাবাহিক সভা করে আসছে। সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতাদের মতে বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাসিক বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্রাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে মূল বেতনকে কয়েক ধাপে ভাগ করে কার্যকর করতে গেলে পুরো সফটওয়্যার কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। সেটাও বেশ জটিল কাজ। গতকালের সভায় এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘২০১৫ সালের পে স্কেল বাস্তবায়নের সময় বেশির ভাগ কাজ ম্যানুয়ালি করা হতো। তখন সার্ভিস বুক ও সংশ্লিষ্ট নথিতে হাতে বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে সবকিছু প্রযুক্তিনির্ভর। যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ মূল বেতন দেওয়া হয় এবং পরে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর হয়, তাহলে দুই দফায় পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল।’

সরকারের অবস্থান কী? : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল যথাসময়ে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। শুধু জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করা হবে না। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হবে। তবে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে কিংবা বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বাজেট বক্তৃতায় ছিল ১ জুলাইয়ের ঘোষণা

নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সেই বাজেট ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তবে পে স্কেলের গেজেট বিজ্ঞপ্তি করা সম্ভব হয়নি।

গেজেট প্রকাশ কবে?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, পে স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা শেষে গেজেট প্রকাশে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। কেননা বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশমালাই এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পে স্কেলের কাঠামো, বাস্তবায়নের ধাপ, আর্থিক প্রভাব এবং সফটওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত গেজেট জারি করা হবে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, গেজেট কিছুটা দেরিতে প্রকাশ হলেও কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারা বকেয়াসহ বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।

আগের কমিশনের সুপারিশ কী ছিল?

২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি দেশের রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন খসড়া তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই খসড়ার ভিত্তিতেই গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

অন্যদিকে সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্রাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজনীয় হলেও এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সহায়ক হবে। তবে পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য বাজারচাপ মোকাবেলা করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী : সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা ছিল নতুন অর্থবছরের শুরুতেই গেজেট প্রকাশ এবং বেতন বৃদ্ধির কাঠামো স্পষ্ট হবে। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ শেষ হতে চললেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে কার্যকর হবে, ভাতা কখন যুক্ত হবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

হাবিবুর রহমান নামে অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার মতো যারা এখন আর সার্ভিসে নাই তারা তো গণমাধ্যম ছাড়া সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্য জানতে পারি না। পে স্কেলের বিষয়টা যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন