• ই-পেপার

পে স্কেলের হিসাব নিয়ে হিমশিম সরকার

১৭ জেলার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, দুপুর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
১৭ জেলার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, দুপুর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে দুপুর পর্যন্ত ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাতসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।  এসব জেলার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তিনটি বই রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নির্দেশনা দেওয়ার এক মাস পর সেটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বই তিনটি  হলো, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রথম দুটি বইয়ের লেখক মাহফুজ উল্লাহ। তৃতীয় বইটি তারেক রহমানের রচনা। তিনটি বই-ই প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা।

গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) পাঠানো এক নির্দেশনায় দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বইগুলোর একটি করে সেট সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ডিপিইর মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী বলেন, অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়েছিল। এখন মন্ত্রণালয় যা বলবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আগের নির্দেশনা বাতিল করা হচ্ছে।

আজ টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

অনলাইন ডেস্ক
আজ টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে টানা ১৬ ঘণ্টা দেশের কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।

সোমবার (৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইন টাই-ইন কাজের জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৬ ঘণ্টা জয়দেবপুর, গাজীপুর থেকে কুমুদিনী, টাঙ্গাইল পর্যন্ত ১০" ও ২০", ১৪০ পিএসআইজি লাইনের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এতে গাজীপুর ডিভিশনের আওতাধীন জয়দেবপুর, নাওজোর, ইটাহাটা, কড্ডা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ), কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর এলাকার ১০" ও ২০", ১৪০ পিএসআইজির সঙ্গে সংযুক্ত সব শিল্প, ক্যাপটিভ এবং সিএনজি গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়াও, আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ নিয়ে চরম অস্বস্তি

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্যুৎ নিয়ে চরম অস্বস্তি

চরম অস্বস্তিতে আছেন বিদ্যুতের গ্রাহকরা। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কথা বলে জুনে দাম বৃদ্ধি করা হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছেন গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা। লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও। এর সঙ্গে নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ভূতুড়ে বিল। এই অস্বাভাবিক বিল নেওয়ার বিষয়টি যাচাই করতে এরই মধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্য ২৮টি টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এ টিমের সদস্যরা গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগ এখন যাচাই করছেন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা অনেক দিন ধরেই বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বা ভূতুড়ে বিল নিয়ে অভিযোগ করছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, তারা প্রতি মাসে গড়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন গত জুনের বিলে তার তুলনায় অনেক বেশি ইউনিট দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বছরের অন্য সময় সাধারণত এমন না হলেও জুন ক্লোজিংয়ের আগে প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের পরিবর্তে অনুমানভিত্তিক বা অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হয়। যদিও এ অভিযোগ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বছরের অন্য সময় থেকে জুনে ব্যবহারের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল আসে। এজন্য তারা স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না। বেশ কিছু এলাকায় নিয়মিত মিটার রিডিংও হয় না। কোথাও একসঙ্গে দুই মাসের বিল নেওয়া হয়। অনুমানভিত্তিক বিল তৈরিরও অভিযোগ আছে। এতে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিলের কোনো মিল থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনা পরিচালন (কেন্দ্রীয় অঞ্চল) পরিদপ্তরের একজন উপপরিচালক বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে যাচাই চলছে। এজন্য ২ জুন ২৮টি টিম গঠন করা হয়েছে, যারা ৮০টি পবিসে গিয়ে এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করছে। ঈদের সময় ছুটিতে মানুষ বাসায় এসি ও ফ্রিজের মতো ইলেকট্রনিক পণ্য বেশি ব্যবহার করায় মে-জুনে বিল বেশি এসেছে। তবে দুই-একটি জায়গায় ইন্টিগ্রেটেড বিলিং সিস্টেমের কারণে ম্যানুয়ালি পোস্টিং দিতে গিয়ে সংখ্যাগত ভুল হতে পারে। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ জানালে আমাদের লোক তা যাচাই করে ঠিক করে দেন।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিল নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিলও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে প্রিপেইড গ্রাহকদের আগের চেয়ে ঘন ঘন রিচার্জ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া কম বৃষ্টি, অতিরিক্ত তাপ, বিশ্বকাপ ফুটবল, এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব বিলের ওপর পড়েছে। তবে কিছু ভুল পাওয়া গিয়েছে এ ব্যাপারে পরীক্ষানিরীক্ষা করে সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মো. মাকসুদ জানান, মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ হাজার ৭২১ টাকা, কিন্তু জুনে এসেছ ৫ হাজার ১০১ টাকা। হঠাৎ এই বাড়তি বিল আসার কারণ তিনি বুঝতেই পারছেন না।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মৃধা জানান, তার হাতে পাওয়া সর্বশেষ বিলে ৬ জুন পর্যন্ত ৪৯০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২১ জুন মিটারে গিয়ে তিনি দেখেন রিডিং রয়েছে মাত্র ৪৩০ ইউনিটের। অর্থাৎ বিলের হিসাবে ব্যবহারের চেয়ে ৬০ ইউনিট বেশি দেখানো হয়েছে। পরে তিনি মিটারের বর্তমান রিডিংয়ের ছবি নিয়ে গলাচিপা জোনাল অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধন করে দেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, বিল দিতে কোনো কারিগরি ভুল হয়ে থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমস্যা সমাধানে গ্রাহকদের হটলাইন বা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত জুনে ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে সরকার। আর পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দাম বাড়ানোর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু দাম বৃদ্ধির পরও গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, উল্টো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকার বাইরের মানুষ বিদ্যুৎহীন থাকছেন।

দাম বৃদ্ধির পরও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। জুনের বিল জুলাইয়ে আদায় হবে, ফলে এর আর্থিক প্রভাব আগস্ট থেকে দেখা যাবে। তখন অতিরিক্ত রাজস্ব দিয়ে আরও জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো যাবে।’

ঢাকার বাইরে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় একদিকে যেমন শিল্পকারখানাসহ উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমন তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে শিশু-বৃদ্ধদের বেশ কষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে চলা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তারা জানান, বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় ঠিকমতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।

সিলেট সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবিদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরীক্ষায় কী হবে জানি না। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নেওয়া যাচ্ছে না।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন