• ই-পেপার

ইন্দোনেশিয়ায় নতুন রাষ্ট্রদূত আবুল হাসান মৃধা

নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের আভাস

অনলাইন ডেস্ক
নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের আভাস
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নানা জটিলতার মুখে পড়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো—সবকিছু সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি।

এদিকে, প্রচলিত বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শুধু গ্রেড নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব প্রয়োজনকেও বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব গ্রেডে বর্তমানে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নবম জাতীয় পে স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়ায় এই কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা হবে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির নতুন নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
 
নবম জাতীয় বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ ছাড়া জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে অংশ নিয়ে আন্তঃদেশীয় অপরাধীচক্র দমনে বিশ্বনেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট এখন বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশ মায়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের ‌রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরো জোরালো, দৃশ্যমান পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অপরাধের পরিবর্তিত ধরন নিয়ে জাতিসংঘে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পঞ্চম ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট বা ইউএনকপস ২০২৬-এ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধীচক্রগুলোর আন্তর্দেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাসস
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।

গতকল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন ‘ইউএনকপস ২০২৬’-এ যোগদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এবারের দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পুলিশ প্রধান এবং নীতি-নির্ধারকগণ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিনটি মূল প্লেনারি সেশনে অংশ নিচ্ছেন। সেশনগুলো হলো—‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’  এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ । 

সম্মেলনের প্রথম সেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধীচক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।’

বাংলাদেশকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (এফপিইউ) আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে ইতোমধ্যে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা ও দক্ষতার পদ্ধতিগত আদান-প্রদানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’  প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেয়ার করতে পারবে।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করেন। মন্ত্রী একটি অভিযোজনক্ষম, উদ্ভাবনী এবং শান্তি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।

সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (ডিপিও), অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশ নিয়েছেন। 

অচল দেশের সব আবহাওয়া রাডার, ঝুঁকিতে পূর্বাভাস ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
অচল দেশের সব আবহাওয়া রাডার, ঝুঁকিতে পূর্বাভাস ব্যবস্থা

দুর্যোগে পূর্বাভাস দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচটি রাডারের সবগুলোই অচল হয়ে পড়ল। সর্বশেষ শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকা অঞ্চলের রাডারটিও অচল হয়ে পড়েছে।

বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে পাঁচটি রাডার স্থাপন করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরে। ঢাকা, রংপুর, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় স্থাপন করা হয় এ রাডারগুলো।

এগুলোর মধ্যে রংপুরের নতুন রাডারটি ১৭ জুন থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ। কক্সবাজারের রাডার প্রায় তিন বছর ধরে অচল। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার রাডার বন্ধ আট বছর। মৌলভীবাজারের রাডারও কয়েক বছর ধরে অকেজো।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, কয়েকটি রাডারের যন্ত্রাংশ পুরনো হয়ে গেছে। কোনোটির বিনামূল্যে বা শর্তসাপেক্ষে বদলে দেওয়ার আশ্বাসপত্র বা ‘ওয়ারেন্টির’ মেয়াদ শেষ। কোনোটির যন্ত্রাংশ আর বাজারে পাওয়া যায় না। ফলে চাইলেও সেগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মৌসুমি বায়ু এখন দেশজুড়ে সক্রিয়। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্র এরই মধ্যে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বলপমেয়াদি বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি, তীব্র বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন সময়ে আকাশের মেঘের গতি, বৃষ্টির অবস্থান কিংবা বজ্রঝড়ের গতিপথ সম্পর্কে কয়েক ঘণ্টা আগেই নির্ভুল তথ্য পাওয়া জরুরি। অথচ, দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি আবহাওয়া রাডার এখন অচল।

রাডারগুলো নষ্ট হওয়ায় ঢাকা ছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল এবং কক্সবাজার উপকূলের বিশাল এলাকা এখন কার্যত রাডার পর্যবেক্ষণের বাইরে। বিভিন্ন গাণিতিক মডেল, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেই চলছে পূর্বাভাসের কাজ।

রংপুরে এক যুগ পর চালু, ক’দিন না যেতেই বন্ধ
২০১২ সালের পর আবহাওয়া অধিদপ্তরের রংপুরের রাডারটি অচল হয়ে পড়ে। এরপর এক যুগের বেশি সময় অপেক্ষার পর গত বছরের মে মাসে রংপুরের রাডারটি চালু হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ জুন থেকে তা আবার অচল হয়ে পড়েছে।

১৯৯৯ সালে জাপানের অর্থায়নে উত্তরাঞ্চলে প্রথম ডপলার আবহাওয়া রাডার স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এতে ত্রুটি দেখা দেয়। ২০০৭ সালে বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয় এবং ২০১২ সালে এটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়। এর পর প্রায় এক যুগ ধরে দেশের উত্তরাঞ্চলে কোনো কার্যকর আবহাওয়া রাডার ছিল না।

এ দীর্ঘ সময়ে উত্তরাঞ্চলে একাধিক আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী এবং অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। নির্ভুল এবং সময়োপযোগী আবহাওয়া তথ্যের অভাবে বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে।

রংপুরের নতুন রাডার স্থাপন প্রকল্পটিও নানা কারণে বিলম্বিত হয়। ২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়। পরে করোনা মহামারির কারণে কাজ আরো পিছিয়ে পড়ে।

অবশেষে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রাডার স্থাপন করা হয়। জাপানের শিমিজু করপোরেশন রাডার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করে মারুবিনি করপোরেশন। গত বছরের ১১ মে জাপানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে রাডারটি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে।

নতুন এই রাডারটি চারদিকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম ছিল। এর মাধ্যমে ঝড়, বজ্রপাত, বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি, মেঘের গঠন, আর্দ্রতা, জলীয়বাষ্পের গতি, তাপমাত্রা এবং বায়ুর গতিবেগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেত। রাডারের তথ্য ব্যবহার করে সরাসরি আবহাওয়া মানচিত্র তৈরি করা হতো। শনাক্ত করা যেত বিমান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও।

রংপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের প্রধান মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, “আমাদের আগের ‘কনভেনশনাল’ রাডারটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে এবং নতুন করে একটি ডপলার রাডার স্থাপন করা হয়েছে, এটা এক বছর হচ্ছে রানিং। গত ১৭ তারিখে আমাদের যে এভিআর (ইলেক্ট্রিসিটি পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম) কোনো ইন্টারনাল কারণে এটাতে একটু সমস্যা হয়েছে এবং এখনো এটার ‘ওয়ারেন্টি পিরিয়ড’ আছে। এটা যেহেতু জাইকার অনুদানে, ‘ওয়ারেন্টি পিরিয়ড’ আছে। এজন্য ওরা আমাদেরকে বলছে যে, যদি কোনো ‘প্রবলেম ফেইস করেন, তৎক্ষণাৎ আমাদেরকে জানাবেন এবং তাদের অনুমতি নেওয়া ছাড়া আমরা কোনো কিছু করতে পারব না।”

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে তাদেরকে জানিয়েছি, তারা চেষ্টা করেছিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাধান করার জন্য, সামাধান হয়নি।’

মৌলভীবাজারে কয়েক বছর ধরে নষ্ট
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলভীবাজারের রাডারটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রতিবছরই আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেয়।

উজানে ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টি হলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি বেড়ে যায়। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনাও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি ঘটে। সবশেষ মাস খানেক আগেও আকস্মিক স্বল্পমেয়াদী বন্যার কারণে ওই অঞ্চলে ফসলের বিপুলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ফলে, মৌলভীবাজারের এই রাডারটি সচল থাকলে মেঘের গতিবিধি, বৃষ্টির তীব্রতা এবং বজ্রঝড়ের বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়া যেত।

কক্সবাজারে বন্ধ প্রায় তিন বছর
রংপুর আর মৌলভীবাজারের মতোই অবস্থা কক্সবাজারে। বাংলাদেশের প্রায় ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নিম্নচাপের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রায় প্রতিটি নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় প্রথম আঘাত হানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কক্সবাজার এবং পটুয়াখালীর খেপুপাড়া রাডার। তবে দুটি রাডারই দীর্ঘদিন অচল।

১৯৬৯ সালে কক্সবাজারের রাডার স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় এটি আধুনিকায়ন করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত রাডারটি ৪০০ কিলোমিটার দূরের সমুদ্র এলাকার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারত। ২০২৩ সালের অগাস্টে এটি অচল হয়ে যায়। এর পর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এটি সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এই অঞ্চলের সমুদ্রনির্ভর জীবিকা যাদের, বিশেষ করে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া হাজারো জেলে এখন দুর্যোগের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া তথ্য পাচ্ছেন না।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘২০২৩ সালের অগাস্ট মাস থেকে এটা অকেজো আছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার যারা আছেন, তারা চেষ্টা করছেন, কিন্তু অ্যাক্টিভ হয়নি।’

এর ফলে কী সমস্যা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অফিস কক্সবাজার হলো লোকাল অফিস, এখানে আমাদের কাজ শুধু অবজারভেশন নেওয়া। রাডার দিয়ে অবজারভেশন নিয়ে আমরা ঢাকাতে পাঠাই। স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদেরও পাঠাই। আমরা এখন পাঠাতে পারছি না। না পাঠানোর কারণে আমাদের ওই কাজটা বন্ধ আছে।’

পটুয়াখালীর রাডার বন্ধ ৮ বছর
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পটুয়াখালীর খেপুপাড়া রাডার স্টেশনও আট বছর ধরে বন্ধ। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। স্টেশনটির ট্রান্সমিশন এবং সার্ভে সিস্টেমের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পর থেকে এটি আর সচল করা যায়নি।

রাডারটি আগে ৪০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ধারণ, বৃষ্টির তীব্রতা বিশ্লেষণ এবং উপকূলের জন্য জরুরি সতর্কতা দিতে পারত। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এই অঞ্চলের আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ সম্পর্কিত সতর্কবার্তার জন্য এই রাডারটি অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ। অথচ, এত বছর ধরে বন্ধ থাকার পরও এটি চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘রাডার বন্ধ হলেও পূর্বাভাস দেওয়া যায়। খুব বেশি প্রভাব পড়ে না, যদি ভালো আবহাওয়াবিদ থাকে। কারণ, অন্যান্য জিনিস তো আছে, আমাদের যে ম্যাপগুলো করা হয়, সেই ম্যাপগুলো কাজে লাগে। তারপরে স্যাটেলাইট পিকচার আছে।’

তিনি বলেন, ‘ওটা (রাডার) থাকলে একটু ভালো হয় স্বল্পমেয়াদী, কিন্তু সুনিদিষ্ট ও তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস জন্য। মানে বজ্রবৃষ্টি হবে মনে করেন, বজ্রঝড় হলে যদি অ্যানিমেশনটা পাওয়া যায়, তাহলে সহজে বলা যায়, এটা কোন দিকে যাচ্ছে এবং কখন এটা কোন এলাকাতে থাকবে। আর এমন পূর্বাভাসের জন্য যা আছে তা দিয়ে করা যায়।