• ই-পেপার

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নতুন তিন উপজেলা গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি

বাসস
নতুন তিন উপজেলা গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে ভাগ করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে ভাগ করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ এবং কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। 

বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন: ১. বাগানবাজার, ২. দাঁতমারা, ৩. নারায়ণহাট, ৪. ভজপুর, ৫. হারুয়ালছড়ি এবং ৬. সুয়াবিল-এর সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে।

আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার আটটি ইউনিয়ন: ১. মশাখালী, ২. পাঁচবাগ, ৩. উস্থি, ৪. লংগাইর, ৫. পাইথল, ৬. দত্তের বাজার, ৭. নিগুয়ারী ও ৮. টাংগাব-এর সমন্বয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে।

কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন: ১. শ্রীকাইল, ২. আকুবপুর, ৩. আন্দিকোট, ৪. পূর্বধৈইর (পূর্ব) ৫. পূর্বধৈইর (পশ্চিম), ৬. বাঙ্গরা (পূর্ব), ৭. বাঙ্গরা (পশ্চিম), ৮. চাপিতলা, ৯. রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং ১০. টনকী-এর সমন্বয়ে বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপজেলার বিভিন্ন অফিসের জন্য অফিস সেট-আপও অনুমোদন করা হয়েছে। 

নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের আভাস

অনলাইন ডেস্ক
নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের আভাস
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নানা জটিলতার মুখে পড়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো—সব কিছু সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি।

এদিকে, প্রচলিত বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে শুধু গ্রেড নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব প্রয়োজনকেও বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব গ্রেডে বর্তমানে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির যে পদ্ধতি চালু রয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নবম জাতীয় পে স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়ায় এই কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা হবে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির নতুন নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরো বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
 
নবম জাতীয় বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

এ ছাড়া জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে অংশ নিয়ে আন্তঃদেশীয় অপরাধীচক্র দমনে বিশ্বনেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট এখন বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশ মায়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের ‌রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরো জোরালো, দৃশ্যমান পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অপরাধের পরিবর্তিত ধরন নিয়ে জাতিসংঘে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পঞ্চম ইউনাইটেড নেশনস চিফস অব পুলিশ সামিট বা ইউএনকপস ২০২৬-এ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধীচক্রগুলোর আন্তর্দেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় নতুন রাষ্ট্রদূত আবুল হাসান মৃধা

অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় নতুন রাষ্ট্রদূত আবুল হাসান মৃধা

ইন্দোনেশিয়ায় নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আবুল হাসান মৃধাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। 

সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে তার এ নতুন দায়িত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ছয় দিনের মধ্যে জাকার্তা মিশনে তার যোগদানের কথা বলা হয়েছে আদেশে।

বুধবার (৮ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ও‌য়েবসাই‌টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসন অনুবিভাগে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আবুল হাসান মৃধা। এর আগে মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন তি‌নি।

রাশিয়া, ওমান, কলকাতা এবং লন্ডনের বাংলাদেশ মিশনের বিভিন্ন পদেও ছিলেন তিনি।