গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয় দেড় বছর আগে। এরপর কাজ বন্ধ থাকায় হয়নি সংযোগ সড়ক। সম্পন্ন করা হয়নি সুরক্ষা দেয়াল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে নির্মাণ করা গার্ডার সেতুটি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর এক কোটি ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকার এ প্রকল্পটির মেয়াদ থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে কেবল সেতুর কাজ শেষ হয়। পরে সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে সেই মেয়াদেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে দেড় বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
রবিবার (২০ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দুই প্রান্ত জলমগ্ন। সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশ ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, সেতুটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ, আর পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে প্রতিদিন এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কৃষকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বারবার আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে কেন দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অসমাপ্ত রয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান প্রামাণিক বলেন, ‘দেড় বছর হলো ব্রিজটি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক হয়নি। আমরা ব্রিজের সঙ্গে বাঁশ লাগিয়ে পারাপার হচ্ছি। কিন্তু এটা ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।তাই প্রশাসনের কাছে ব্রিজটির পুরোপুরি শেষ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
দহপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি দেওভোগ থেকে আসি দওপাড়া মসজিদে ইমামতি করতে। কিন্তু প্রতিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই কাদার মধ্যে আমাকে আসতে হয়। অনেকে এই কষ্টের জন্য মসজিদে আসতে চায় না। বিষয়টি খুবই অমানবিক।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুল লতিফ মাস্টার বলেন, ‘সেতুটি নিয়ে আমরা অনেক হতাশায় আছি। আমাদের একটাই দাবি, সেতুটির পরিপূর্ণ সংযোগ সড়ক চাই।’
ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মানিকুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ সাগর বলেন, ‘বালুর অভাবে কাজ করাতে পারছি না। আশা করি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিন বলেন, ‘ঠিকাদারকে সংযোগ সড়কসহ কাজ শেষ করতে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকমতো কাজ শেষ না হলে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হবে না।’