• ই-পেপার

‘অন্য সবকিছু ভুলে যাও’ কেন বলেছিলেন মেসি, জানাল আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম

ওচোয়ার বিদায়ে একটা যুগের অবসান

ক্রীড়া ডেস্ক
ওচোয়ার বিদায়ে একটা যুগের অবসান
বিদায় বেলায় ওচোয়ার চোখ মানছেন না বাঁধা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের অনেক কিছুই বদলে গেছে। এই যেমন ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হলো। প্রথমবারের মতো তিন দেশে বিশ্বকাপ হলো। কিন্তু মেক্সিকোর এক পজিশনে কোনো বদলই দেখা যায়নি। 

তিন কাঠির নিচে সব সময় ঝাঁকড়া চুলওয়ালা এক গোলরক্ষককে দেখা গেছে। অন্যদের বয়স বাড়লেও গুইলিয়ার্মো ওচোয়ার বয়স বাড়ে না। সঙ্গে পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ে না। তাই মেক্সিকোর গোলবারের নিচে আস্থাভাজন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর ধরেই দৌঁড়াচ্ছেন ২২ গজের সবুজ মাঠে। অবশেষে ওচোয়ার মনে হয়েছে—আর নয়, এবার থামা দরকার। থামলেন রেকর্ড গড়েই। একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে ৬ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী গোলরক্ষকের বাইরে এই কীর্তি আছে শুধুই লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।

ক্যারিয়ারের শেষটা অবশ্য সুখকর হয়নি ওচোয়ার। রেকর্ড বিশ্বকাপে মাত্র এক ম্যাচই গোলবার সামলাতে পেরেছেন। খেলার বয়স খুব বেশি ছিল না। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি নেমে ১২ মিনিট ছিলেন মাঠে। ম্যাচ শেষে সতীর্থর কাছ থেকে অবশ্য ঠিকই ‘ট্রিবিউট’ পেয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণা আগেই দেওয়ায় ঘরের মাঠ মেক্সিকো সিটিতে তাকে সেদিন শূন্য ছুড়ে বিদায়ী অর্ঘ্য দেন কোচ-সতীর্থরা।

 

ক্যারিয়ারে নিজের সর্বস্ব নিংড়ে দিয়ে খেলতে পেরে গর্ববোধ করছেন ওচোয়া। বিদায় বেলা সামাজিক মাধ্যমে গত ১৩ জুলাই ৪১ বসন্ত উদযাপন করা গোলরক্ষক লিখেছেন, ‘ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে সর্বস্ব নিংড়ে খেলেছি। আজ গ্লাভস জোড়া তুলে রাখলাম। একজন গোলরক্ষক হিসেবে আপনাকে মনে রাখতে হবে ৯০ মিনিটের প্রতিটি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সবকিছু তোমার ওপর নির্ভর করে। যখন মুহূর্তটা আসবে কোনো দ্বিধা করা যাবে না।’

২০০৩ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা কিংবদন্তি ওচোয়া র্গব নিয়ে লিখেছেন, ‘আমার স্বপ্ন আমাকে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে আসবে তা কখনো কল্পনাই করিনি। পেছনে তাকালে তাই আমার গর্ব হয়। আপনাদের ধন্যবাদ। আমি লাখো মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিচ্ছি। আর মেক্সিকোর হয়ে সবকিছু দিতে পেরে শান্তি অনুভব করছি।’

মেক্সিকোর হয়ে ২০০৫ সালে অভিষেক হয় ওচোয়ার। দীর্ঘ সময়ে ১৫৩ ম্যাচ গোলবারের নিচে দাঁড়ান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৬টি কনকাকাফ গোল্ড কাপ জিতেছেন তিনি। সঙ্গে একটি কনকাকাফ নেশনস লিগও তার নামের পাশে আছে।

এলপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন তাসকিন

ক্রীড়া ডেস্ক
এলপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন তাসকিন
ছবি: কালের কণ্ঠ

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) চলতি আসরে খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হচ্ছে না তাসকিন আহমেদের। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট জাফনা কিংসের স্কোয়াডে থাকার কথা থাকলেও সেখান থেকে নিজের নাম তুলে নিয়েছেন এই তারকা পেসার। ফলে জিম্বাবুয়ে সফর শেষে শ্রীলঙ্কার বিমানে না চড়ে সোজা ঢাকা ফেরার পথ ধরছেন জাতীয় দলের এই তারকা।

শুরুর পরিকল্পনা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন ছিল। এলপিএলে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বিসিবির কাছে ছুটি চেয়েছিলেন তাসকিন। তবে পেস আক্রমণের সতীর্থ মুস্তাফিজুর রহমান চোট পাওয়ায় পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাসকিনকে রেখে দেওয়া হয় টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেই। সিদ্ধান্ত ছিল, ছোট সংস্করণের সিরিজটি শেষ করেই শ্রীলঙ্কার পথ ধরবেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই পথ থেকেও সরে দাঁড়ালেন দেশের এই গতি তারকা। কারণ একটাই, সামনেই দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে ক্যাঙ্গারুর দেশে উড়াল দেবে বাংলাদেশ দল। সেই লাল বলের মহারণের জন্য নিজেকে শতভাগ ফিট রাখতেই এলপিএল থেকে বিরতি নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত। দেশে ফিরে কিছুদিন বিশ্রামের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সফরের নিবিড় প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দেবেন তিনি।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য দল ঘোষণা নিয়ে আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই স্কোয়াড চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকমণ্ডলী।

দুই ম্যাচ সিরিজে হবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্টের মধ্য দিয়ে লড়াই শুরু করবে দু’দল। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে গড়াড়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ২০০৩ সালের দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম কোনো টেস্ট সিরিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) অংশ হবে সিরিজটি। 
 

কুকুরেয়ার অন্ধবিশ্বাসেই কি চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
কুকুরেয়ার অন্ধবিশ্বাসেই কি চ্যাম্পিয়ন স্পেন
বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে কুকুরেয়া। ছবি : এক্স থেকে

ক্রীড়াঙ্গনে অনেকে ‘কুসংস্কারে’ বিশ্বাসী। ক্রিকেটে যেমন শচীন টেন্ডুলকার সব সময় বাঁ পায়ে প্যাড পরতেন। ২০১১ বিশ্বকাপে আজন্ম স্বপ্ন পূরণের ফাইনালেও এক কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন। যা পরে জানান তার ওপেনিং সঙ্গী বীরেন্দর শেবাগ।

শেবাগ জানান, ওয়াংখেড়েতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আউট হন তিনি এবং শচীন। পরে ড্রেসিংরুমে ফিরে শচীনের পাশে বসেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কখনো নিজের আসন থেকে উঠতে পারেননি ভারতের সাবেক ওপেনার। কারন, শচীনের অন্ধবিশ্বাস। কিংবদন্তি ব্যাটার শেবাগকে বলেন, ‘আমি এখান থেকে এক চুলও নড়ব না, তুমিও নিজের জায়গা থেকে একদম উঠবে না।’ পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয় তারা।

তেমনি এক অন্ধবিশ্বাসেই কি এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন? মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাইড লাইনের পাশে মার্ক কুকুরেয়ার কয়েন পুঁতে রাখার দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পরেই সেই প্রশ্ন উঠছে ভক্ত-সমর্থকদের মনে। ফাইনাল শুরুর আগে অনুশীলনের সময় সাইড লাইনের কাছে কয়েন পুঁতে রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। 

 

অনেকের নজরে না আসলেও পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার হোয়ান ক্যাপদেভিলা। তিনিই যে উত্তরসূরি কুকুরেয়াকে এমন কাজ করতে বলেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নামার আগে একই কাজ করেছিলেন স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার। সেবার নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। 

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার জিতেছে স্পেন। কুকুরেয়াকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কয়েন পুঁতে রাখার পরামর্শ ক্যাপদেভিলা। অন্ধবিশ্বাসের রহস্য নিয়ে পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘একটা গোপন কথা বলি। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুরুর আগে ঘাসের মধ্যে একটা কয়েন লুকিয়ে রেখেছিলাম। সে কথা অনেক বারই বলেছি। এ বার ফাইনালের আগে কুকুরেয়াকে সেটা বলেছিলাম। ও সেটাই করেছে। কুকুরেয়া, তোমাকে খুব ভালোবাসি। তুমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’

ব্যানার বিতর্ক : যুক্তরাজ্যের ভিসা হারানোর শঙ্কায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্যানার বিতর্ক : যুক্তরাজ্যের ভিসা হারানোর শঙ্কায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ড ব্যানার’ প্রদর্শনের দায়ে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন আর্জেন্টিনার তিন প্রিমিয়ার লিগ তারকা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, টটেনহ্যাম হটস্পারের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং চেলসির মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেসের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ভিসা বাতিলের দাবি উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের ‘এক্সপ্রেস’-এর একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইংলিশ ক্লাবে খেলা এই আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের কাজের ভিসা বাতিলের যে দাবি উঠেছে, তার আইনগত দিক বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেমিফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা মাঠের ভেতরে একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। 

১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার কারণে এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। 

যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা নাইল গার্ডিনার এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা যে সকল আর্জেন্টাইন ফুটবলার এই যুক্তরাজ্যবিরোধী অমার্জিত প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। এই ধরনের রাজনৈতিক উসকানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলও ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ফিফাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।  

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচের অফিশিয়াল রিপোর্ট ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্টেডিয়ামের ভেতরের নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক বা বিতর্কিত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়ায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

তবে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবলমাত্র বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড ব্যানার প্রদর্শনের অপরাধেই সরাসরি প্রিমিয়ার লিগের তারকাদের ভিসা বাতিল করা আইনের দিক থেকে বেশ জটিল এবং এর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবু ২০২৬-২৭ নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে এই বিতর্ক ক্লাব ফুটবল ও প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।