• ই-পেপার

‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি

আন্তর্জাতিক কাবাডি

এক ম্যাচ বাকি রেখেই নেপালের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
এক ম্যাচ বাকি রেখেই নেপালের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি : মীর ফরিদ

রাজধানীর পল্টনে জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে চতুর্থ ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২২ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই (৩-১) সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল।

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে নামে নেপাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিয়ে তারা শুরুতে ৮-৪ পয়েন্টে এগিয়েও গিয়েছিল। তবে দমে যায়নি স্বাগতিক মেয়েরা। 

দারুণ কিছু বোনাস পয়েন্ট আদায় করে দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনে বাংলাদেশ। এরপর ট্যাকল আর রেইডে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে লিড নেয় এবং ১৩-১১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে।  

বিরতির পর নেপাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের কৌশলের সামনে টিকতে পারেনি। খেলার এক পর্যায়ে নেপালের এক খেলোয়াড়কে ‘সুপার ট্যাকল’ করে ২ পয়েন্ট তুলে নেয় বাংলাদেশ, যার ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২১-১৫ পয়েন্টে। এরপর মেবি চাকমার দুর্দান্ত এক ‘সুপার রেইড’ থেকে আসে আরো ৩ পয়েন্ট।

ঠিক পরপরই সফরকারী নেপালকে ‘অলআউট’ করে ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৪-২২ পয়েন্টের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের বৃষ্টি বিশ্বাস। খেলা শেষে পুরস্কার তুলে দেন কাবাডি ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। এ সময় আররো উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের দুই যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু ও নাসির আহমেদ সাজু এবং ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি বিমল ঘোষ ভুলু।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) একই ভেন্যুতে সিরিজের পঞ্চম ও নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নেপাল।

অতীত ভুলে বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত, বিশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অতীত ভুলে বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত, বিশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
আগস্টে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। একই কাজ করে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজেদের জায়গা থেকে তারা প্রত্যেকেই ভারতকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের। ম্যাচগুলো হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরে। গত বছর এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ায় ভারত এক বছরের জন্য সিরিজ পিছিয়ে দেয়। 

তাই এবারের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার বড় সুযোগ হতে পারে এটি। এ কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই চলছে চেষ্টা। 

State Minister Aminul
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আশা, অতীতের তিক্ততা ভুলে ভারত বাংলাদেশে এসে খেলবে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের একটি মর্যাদার জায়গা। ক্রিকেট যেহেতু আমাদের বিশ্ব ক্রিকেটে অত্যন্ত সুদৃঢ় একটি অবস্থান আছে, সে ক্ষেত্রে বিগত সময়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে একটি টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভারত বাংলাদেশে আসবে। ইতিমধ্যে আমি ভারতের দূতাবাসে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার দূরত্ব আরো বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আমিনুল আরো বলেন, পেছনের কথা ভুলে সামনে এগোতে হবে, ‘বিগত সময়ের ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে একটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, আমি মনে করি সেটিকে কাটিয়ে উঠে আমরা সুন্দরভাবে পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যে ক্রীড়া কূটনীতি, আমাদের যে যোগাযোগ, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।’

বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা রোহিত-কোহলি-বুমরাদের। সব ঠিক থাকলে মিরপুরে তিনটি ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামে তিটি টি-টোয়েন্টি হবে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। 

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সম্পর্ক বেশ দারুণ। তবে বাংলাদেশে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত মিঠুনের বোর্ড একা নিতে পারবে না। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের। 

ভারতের একটি সফর যেকোনো দেশের ক্রিকেট অর্থনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, বোর্ডের এক বছরের সিরিজে যতটা না আয় হয়, ভারতের বিপক্ষে এক সিরিজেই এর চেয়ে দ্বিগুণ আয় করা যায়। 

ভারতের বিশাল বাজারের সঙ্গে সিরিজের পৃষ্ঠপোষক, টিকিট, স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক স্বত্ব এবং অন্য অনেক কিছু বিক্রি করে প্রচুর আয় করতে পারে আয়োজকরা।

পারেদেস-গাভির বক্সিং ম্যাচ দেখতে চান স্প্যানিশ ভক্তরা

ক্রীড়া ডেস্ক
পারেদেস-গাভির বক্সিং ম্যাচ দেখতে চান স্প্যানিশ ভক্তরা

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর স্পেনের উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন হাস্যরস। ফাইনালে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ সমর্থকরা এক অদ্ভুত উপায়ে ট্রল করেছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও তরুণ তুর্কি গাভির মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং সংঘাতের রেশ ধরে স্পেনের ভিক্টরি প্যারেডে দেখা গেছে এক ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার হতাশা যখন মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, তখন পারেদেস চলে আসেন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্পেনের সমর্থকরা এই ঘটনাকে হালকা করতে এবং মজার ছলে তার জবাব দিতে বেছে নেন ভিন্ন পথ। মাদ্রিদের সিবেলেস চত্বরে স্পেনের জয়োল্লাসে ফুটবলাররা যখন উন্মাদনায় মেতেছিলেন, তখন নক্ষত্রখচিত সেই বাসে নড়েচড়ে বসেন লামিনে ইয়ামালরা। সে সময় এক সমর্থকের হাতে থাকা বিশেষ ব্যানারটি নজর কাড়ে সবার। 

ব্যানারটির সামনের অংশে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন-এর ছবি থাকলেও, উল্টো পিঠে লেখা ছিল এক মজার বার্তা। সেখানে পারেদেস ও গাভির মধ্যে একটি বক্সিং লড়াইয়ের আয়োজন করার দাবি তোলা হয়। মূলত ফাইনাল বাঁশি বাজার পর এরিক গার্সিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে পারেদেসের মুখোমুখি হয়েছিলেন গাভি। সেই মারমুখী মুহূর্তটিকেই ব্যঙ্গ করে তৈরি হয়েছিল ওই ব্যানার। 

বাসে থাকা ফ্যাবিয়ান রুইজ ও লামিনে ইয়ামাল ব্যানারটি দেখার পর হাসি চেপে রাখতে পারেননি। তারা গাভিকে দেখিয়ে এই হাস্যরসাত্মক লড়াইয়ের ইভেন্ট নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মজা করতে থাকেন। 

বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়ার বেদনায় পুড়ছে আর্জেন্টিনা। তবে কেবল শিরোপা হারানোই নয়, ফাইনালের শেষ মুহূর্তের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসেও কালিমালিপ্ত হলো আলবিসেলেস্তেদের নাম। খেলার অন্তিম মুহূর্তে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার বাজে রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।

ক্রীড়া বিষয়ক সাময়িকী ‘স্পোর্টস মোল’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তেতো পরিসংখ্যানের কথা।

ম্যাচে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশ করায় প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন চেলসি মিডফিল্ডার এনজো। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সিকে অপ্রয়োজনীয় এক ফাউল করে বসে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখেন তিনি।

যখন টাইব্রেকারে ম্যাচ নেওয়ার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিল লিওনেল স্কালোনির দল, ঠিক তখনই এনজোর এই ভুল ১০ জনের দলে পরিণত করে আর্জেন্টিনাকে।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১০৬তম মিনিটে। স্প্যানিশ উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে গোলকিপারকে পরাস্ত করে ম্যাচের জয়সূচক গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। পুরো ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে না পারা আর্জেন্টিনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়ার মিছিলে এনজো অনুসরণ করলেন তারই দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন ও গুস্তাভো দেজোত্তিকে। ১৯৯০ সালের রোম ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের সেই বিষাদময় রাতে লাল কার্ড পেয়েছিলেন তাঁরা দুজন। বিশ্বকাপের কোনো একক ফাইনালে একই দলের দুজন ফুটবলারের বহিষ্কৃত হওয়ার একমাত্র ঘটনা সেটিই।

রবিবারের এই ঘটনার আগে ফাইনালের মঞ্চে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই তালিকার শীর্ষে ছিল। ফরাসিদের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬-এর ঐতিহাসিক ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁস মেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে এবার এনজোর লাল কার্ডের পর এককভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিজেদের করে নিল আর্জেন্টিনা।

এই পরাজয় বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের রানার্সআপ হওয়ার বেদনাময় ইতিহাসকে আরও দীর্ঘায়িত করল। ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এবার তাদের ঝুলিতে জমা হলো চতুর্থ রানার্সআপ ট্রফি। ফলে জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার হতাশাজনক রেকর্ডেরও ভাগীদার এখন তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।