• ই-পেপার

বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩ লাল কার্ড দেখা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা

অতীত ভুলে বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত, বিশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অতীত ভুলে বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত, বিশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
আগস্টে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। একই কাজ করে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজেদের জায়গা থেকে তারা প্রত্যেকেই ভারতকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের। ম্যাচগুলো হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরে। গত বছর এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ায় ভারত এক বছরের জন্য সিরিজ পিছিয়ে দেয়। 

তাই এবারের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার বড় সুযোগ হতে পারে এটি। এ কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই চলছে চেষ্টা। 

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আশা অতীতের তিক্ততা ভুলে ভারত বাংলাদেশে এসে খেলবে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের একটি মর্যাদার জায়গা। ক্রিকেট যেহেতু আমাদের বিশ্ব ক্রিকেটে অত্যন্ত সুদৃঢ় একটি অবস্থান আছে, সে ক্ষেত্রে বিগত সময়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে একটি টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ভারত বাংলাদেশে আসবে। ইতিমধ্যে আমি ভারতের দূতাবাসে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার দূরত্ব আরো বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। 

আমিনুল আরো বলেন, পেছনের কথা ভুলে সামনে এগোতে হবে, ‘বিগত সময়ের ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে একটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, আমি মনে করি সেটিকে কাটিয়ে উঠে আমরা সুন্দরভাবে পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যে ক্রীড়া কূটনীতি, আমাদের যে যোগাযোগ, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।’

বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা রোহিত-কোহলি-বুমরাদের। সব ঠিক থাকলে মিরপুরে তিনটি ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামে তিটি টি-টোয়েন্টি হবে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। 

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সম্পর্ক বেশ দারুণ। তবে বাংলাদেশে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত মিঠুনের বোর্ড একা নিতে পারবে না। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের। 

ভারতের একটি সফর যেকোনো দেশের ক্রিকেট অর্থনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, বোর্ডের এক বছরের সিরিজে যতটা না আয় হয়, ভারতের বিপক্ষে এক সিরিজেই এর চেয়ে দ্বিগুণ আয় করা যায়। 

ভারতের বিশাল বাজারের সঙ্গে সিরিজের পৃষ্ঠপোষক, টিকিট, স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক স্বত্ব এবং অন্য অনেক কিছু বিক্রি করে প্রচুর আয় করতে পারে আয়োজকরা। 

কাবাডি সিরিজ

নেপালকে হারিয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
নেপালকে হারিয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
জয়ের পর বাংলাদেশ দলের উচ্ছ্বাস। ছবি: মীর ফরিদ

রাজধানীর পল্টনে জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে জমজমাট লড়াইয়ে নেপালকে ৮ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ জাতীয় নারী কাবাডি দল। ৩১-২৩ পয়েন্টে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের খাদিজা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যায়। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ লিড ধরে রাখলেও নেপালও দারুণভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। ১০ মিনিটে নেপালকে প্রথমবারের মতো অলআউট করে এক পর্যায়ে ১৭-১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায় বাংলাদেশ।

kabbadi
বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: মীর ফরিদ

তবে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় নেপাল। একটি সফল সুপার রেইড থেকে ৩ পয়েন্ট আদায় করে ব্যবধান কমিয়ে আনে সফরকারীরা। প্রথমার্ধের খেলা শেষে ১৭-১৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।  

বিরতির পর বাংলাদেশ কিছু পয়েন্ট সংগ্রহ করে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও নেপালও ম্যাচে ফেরার লড়াই অব্যাহত রাখে। শেষ পর্যন্ত ৩১-২৩ পয়েন্টের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ, যা সিরিজে তাদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।  

খেলা শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। এ সময় কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু উপস্থিত ছিলেন।  

পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় নেপাল। আগামীকাল বিকেল ৪টায় একই ভেন্যুতে গড়াবে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ।

পারেদেস-গাভির বক্সিং ম্যাচ দেখতে চান স্প্যানিশ ভক্তরা

ক্রীড়া ডেস্ক
পারেদেস-গাভির বক্সিং ম্যাচ দেখতে চান স্প্যানিশ ভক্তরা

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর স্পেনের উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন হাস্যরস। ফাইনালে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ সমর্থকরা এক অদ্ভুত উপায়ে ট্রল করেছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও তরুণ তুর্কি গাভির মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং সংঘাতের রেশ ধরে স্পেনের ভিক্টরি প্যারেডে দেখা গেছে এক ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার হতাশা যখন মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, তখন পারেদেস চলে আসেন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্পেনের সমর্থকরা এই ঘটনাকে হালকা করতে এবং মজার ছলে তার জবাব দিতে বেছে নেন ভিন্ন পথ। মাদ্রিদের সিবেলেস চত্বরে স্পেনের জয়োল্লাসে ফুটবলাররা যখন উন্মাদনায় মেতেছিলেন, তখন নক্ষত্রখচিত সেই বাসে নড়েচড়ে বসেন লামিনে ইয়ামালরা। সে সময় এক সমর্থকের হাতে থাকা বিশেষ ব্যানারটি নজর কাড়ে সবার। 

ব্যানারটির সামনের অংশে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন-এর ছবি থাকলেও, উল্টো পিঠে লেখা ছিল এক মজার বার্তা। সেখানে পারেদেস ও গাভির মধ্যে একটি বক্সিং লড়াইয়ের আয়োজন করার দাবি তোলা হয়। মূলত ফাইনাল বাঁশি বাজার পর এরিক গার্সিয়াকে রক্ষা করতে গিয়ে পারেদেসের মুখোমুখি হয়েছিলেন গাভি। সেই মারমুখী মুহূর্তটিকেই ব্যঙ্গ করে তৈরি হয়েছিল ওই ব্যানার। 

বাসে থাকা ফ্যাবিয়ান রুইজ ও লামিনে ইয়ামাল ব্যানারটি দেখার পর হাসি চেপে রাখতে পারেননি। তারা গাভিকে দেখিয়ে এই হাস্যরসাত্মক লড়াইয়ের ইভেন্ট নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মজা করতে থাকেন। 

‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ। আর সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও তুমুল আলোচনা। বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের ঠিক আগে সতীর্থদের উদ্দেশে বলা লিওনেল মেসির একটি বাক্যই এখন নেটদুনিয়ায় কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যেই খবরটি নিয়ে তোলপাড় শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে—ফাইনালে নামার আগে যেখানে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা দিয়ে দেশবাসীকে ভাসিয়েছিলেন এলএমটেন, সেই তিনিই ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে নামার মুহূর্তে হঠাৎ সতীর্থদের ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ তাগিদ দিলেন কেন?

আর্জেন্টাইন ক্রীড়ামাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওর সূত্র ধরে জানিয়েছে, ড্রেসিংরুমের দরজার মুখে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে অধিনায়ক মেসি বলছিলেন, ‘সবাই শান্ত হও। মূল বিষয় হলো আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে।’

এ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ও সাধারণ অনুশাসনের মতো মনে হলেও, গোল বাঁধিয়েছে তাঁর পরের বাক্যটি। সতীর্থদের উদ্দীপ্ত করতে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘এসো, আমরা সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। এসো, শুধু খেলায় মন দিই।’

ভিডিওতে স্পষ্ট, অধিনায়কের কথা শুনছিলেন যখন এনজো ফার্নান্দেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজরা, তখন তাদের শরীরী ভাষায় ছিল চরম গাম্ভীর্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে সতীর্থদের ঠিক কী এমন ঘটনা বা বিতর্ক মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বলেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর?

৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা ঠিক কোন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফাইনালের আমেজ জমতেই রেফারির সুবিধা পাওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছিল, তার দিকেই হয়তো আঙুল তুলছেন অনেকে। ফাইনালের আগে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত খোলামেলাভাবেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন আলবিসেলেস্তেদের দিকে।

লাপোর্ত বিতর্ক উসকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে সত্যি অবাক করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেছিল, যেখানে কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি। তারা অনবরত প্রতিপক্ষ ও রেফারির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। এত বড় আসরে এমন আচরণ ফুটবলের স্বার্থেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয়।’

ধারণা করা হচ্ছে, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক আর মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে সতীর্থদের মুক্ত রাখতেই হয়তো মেসি ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ মন্ত্র দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একপেশে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের বিশ্বমঞ্চের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল স্প্যানিশরা। ম্যাচে রেফারিং নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক না হলেও, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে সেই অপ্রীতিকর ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।