• ই-পেপার

বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ শেষ, কবে থেকে শুরু ক্লাব ফুটবল

কুকুরেয়ার অন্ধবিশ্বাসেই কি চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
কুকুরেয়ার অন্ধবিশ্বাসেই কি চ্যাম্পিয়ন স্পেন
বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে কুকুরেয়া। ছবি : এক্স থেকে

ক্রীড়াঙ্গনে অনেকে ‘কুসংস্কারে’ বিশ্বাসী। ক্রিকেটে যেমন শচীন টেন্ডুলকার সব সময় বাঁ পায়ে প্যাড পরতেন। ২০১১ বিশ্বকাপে আজন্ম স্বপ্ন পূরণের ফাইনালেও এক কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন। যা পরে জানান তার ওপেনিং সঙ্গী বীরেন্দর শেবাগ।

শেবাগ জানান, ওয়াংখেড়েতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আউট হন তিনি এবং শচীন। পরে ড্রেসিংরুমে ফিরে শচীনের পাশে বসেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কখনো নিজের আসন থেকে উঠতে পারেননি ভারতের সাবেক ওপেনার। কারন, শচীনের অন্ধবিশ্বাস। কিংবদন্তি ব্যাটার শেবাগকে বলেন, ‘আমি এখান থেকে এক চুলও নড়ব না, তুমিও নিজের জায়গা থেকে একদম উঠবে না।’ পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয় তারা।

তেমনি এক অন্ধবিশ্বাসেই কি এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন? মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাইড লাইনের পাশে মার্ক কুকুরেয়ার কয়েন পুঁতে রাখার দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পরেই সেই প্রশ্ন উঠছে ভক্ত-সমর্থকদের মনে। ফাইনাল শুরুর আগে অনুশীলনের সময় সাইড লাইনের কাছে কয়েন পুঁতে রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। 

 

অনেকের নজরে না আসলেও পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার হোয়ান ক্যাপদেভিলা। তিনিই যে উত্তরসূরি কুকুরেয়াকে এমন কাজ করতে বলেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নামার আগে একই কাজ করেছিলেন স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার। সেবার নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। 

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার জিতেছে স্পেন। কুকুরেয়াকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কয়েন পুঁতে রাখার পরামর্শ ক্যাপদেভিলা। অন্ধবিশ্বাসের রহস্য নিয়ে পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘একটা গোপন কথা বলি। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুরুর আগে ঘাসের মধ্যে একটা কয়েন লুকিয়ে রেখেছিলাম। সে কথা অনেক বারই বলেছি। এ বার ফাইনালের আগে কুকুরেয়াকে সেটা বলেছিলাম। ও সেটাই করেছে। কুকুরেয়া, তোমাকে খুব ভালোবাসি। তুমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’

‘অন্য সবকিছু ভুলে যাও’ কেন বলেছিলেন মেসি, জানাল আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম

ক্রীড়া ডেস্ক
‘অন্য সবকিছু ভুলে যাও’ কেন বলেছিলেন মেসি, জানাল আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম
সংগৃহীত ছবি

ফাইনালে স্পেনের কাছে বিষাদময় পরাজয়ের পর আর্জেন্টাইন শিবিরের নীরবতা ভাঙল এক ফাঁস হওয়া ভিডিও ক্লিপ। মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে অধিনায়ক লিওনেল মেসির দেওয়া অনুপ্রেরণামূলক এক ভাষণ এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই মেসির মুখে বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটি নিয়ে শুরু হয় জোর জল্পনা-কল্পনা। নেটদুনিয়ায় অনেকে তো এই শব্দের আড়ালে কোনো ‘গোপন বার্তা’ কিংবা অজানা রহস্য খুঁজতেও শুরু করে দিয়েছিলেন!

তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো ভিডিও ফুটেজ সামনে আসতেই খোলাসা হলো সব রহস্য। বোঝা গেল, কোনো গোপন ছক নয় বরং স্নায়ুচাপ পেছনে ফেলে সতীর্থদের স্রেফ স্বাভাবিক ফুটবলটা খেলারই পরামর্শ দিচ্ছিলেন খুদে জাদুকর।

মাঠে নামার আগের মুহূর্তে আর্জেন্টাইনদের আবেগ আর রণকৌশলের দৃশ্যপটে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘চলো সবাই, মাথা ঠান্ডা রাখো। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—আমাদের শান্ত থাকতে হবে। বাইরের সবকিছু ভুলে শুধু খেলায় মন দাও, স্রেফ নিজের খেলাটা খেলো। চলো!’

শুধু মেসির ভাষণেও সীমাবদ্ধ ছিল না ড্রেসিংরুমের সেই দৃশ্যপট। ড্রেসিংরুম থেকে টানেল হয়ে মাঠে নামার পথে ধরা পড়ে টিম আর্জেন্টিনার কৌশলী আলাপচারিতাও। স্পেনের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে কীভাবে বাগে আনতে হবে এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ কীভাবে ভেস্তে দেওয়া যায়—গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে সেই ট্যাকটিক্স বোঝাচ্ছিলেন ক্রিস্টিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো।

পাশেই লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে দিচ্ছিলেন, প্রতিপক্ষ যেন বক্সের ভেতর ঢুকে শট নেওয়ার সুযোগ না পায়। এরপর নিকোলাস তালিয়াফিকোকে সোজা বার্তা দিয়ে লিচা বলেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়ে ওকে একচুল ছাড় দেবে না, একদম আটকে রাখবে।’ এরপর গোলরক্ষককে মানসিকভাবে শক্ত থাকার তাগিদ দিয়ে প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে পকেটে পুরতে বলেন তিনি।

অভিজ্ঞ অধিনায়কের মতো মেসিও বসে থাকেননি। ডিফেন্ডারদের কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেন, প্রতিপক্ষ যখন আক্রমণে আসবে, তখন যেন লিয়েন্দ্রো পারেদেস আর এনজো ফার্নান্দেজ হুট করে সামনে উঠে না যান। পজিশন ধরে রাখাই যে মুখ্য, সেটাই মনে করিয়ে দেন এলএমটেন।

মাঠে নামার ঠিক আগের মুহূর্তে কুতি রোমেরো দিবুর পিঠ চাপড়ে বলে ওঠেন, ‘আজকের দিনটা শুধুই তোমার!’ সতীর্থের কথায় আত্মবিশ্বাসে গদগদ দিবু মার্টিনেজ গর্জে উঠে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, আজ আমার দিন! এই দিনটা ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

যদিও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই রাতটি ইতিহাসের পাতায় আর্জেন্টিনার জন্য সুখকর হয়নি। ম্যাচজুড়ে লড়াই তো দূর রক্ষণ করেই সময় কেটেছে আলবিসেলেস্তেদের। 

তবে ড্রেসিংরুমের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যতই ঝড় উঠুক না কেন, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি হাঁটছেন নিজের চেনা পথেই। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বরাবরের মতোই নির্ভার স্কালোনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না। এসব নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই। আপনারা আসলে কী নিয়ে কথা বলছেন, সেটাও আমি জানি না।’ 

ব্যানার বিতর্ক : যুক্তরাজ্যের ভিসা হারানোর শঙ্কায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্যানার বিতর্ক : যুক্তরাজ্যের ভিসা হারানোর শঙ্কায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ড ব্যানার’ প্রদর্শনের দায়ে যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন আর্জেন্টিনার তিন প্রিমিয়ার লিগ তারকা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, টটেনহ্যাম হটস্পারের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং চেলসির মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেসের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ভিসা বাতিলের দাবি উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের ‘এক্সপ্রেস’-এর একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইংলিশ ক্লাবে খেলা এই আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের কাজের ভিসা বাতিলের যে দাবি উঠেছে, তার আইনগত দিক বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেমিফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা মাঠের ভেতরে একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’। 

১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার কারণে এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। 

যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা নাইল গার্ডিনার এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা যে সকল আর্জেন্টাইন ফুটবলার এই যুক্তরাজ্যবিরোধী অমার্জিত প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। এই ধরনের রাজনৈতিক উসকানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলও ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ফিফাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।  

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচের অফিশিয়াল রিপোর্ট ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্টেডিয়ামের ভেতরের নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক বা বিতর্কিত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়ায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

তবে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবলমাত্র বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড ব্যানার প্রদর্শনের অপরাধেই সরাসরি প্রিমিয়ার লিগের তারকাদের ভিসা বাতিল করা আইনের দিক থেকে বেশ জটিল এবং এর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবু ২০২৬-২৭ নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে এই বিতর্ক ক্লাব ফুটবল ও প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। 

রোজারিওতে ফিরলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
রোজারিওতে ফিরলেন মেসি
প্রাইভেট জেটে বাসায় ফিরলেন মেসি। ছবি : রয়টার্স

মেটলাইফে হৃদয় পুড়েছে আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারায় টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তাদের। ম্যাচ হেরে ভীষণ কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৮ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বলেন, ‘কষ্টটা অনেক গভীর, ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে।’

আর্জেন্টাইনদের মুখে হাসি এনে দিতে না পারায় হয়তো সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফেরেননি মেসি। অভিমানকে বুকে পাথরচাপা দিয়ে অবশ্য গতকাল দেশে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে সতীর্থদের মতো বুয়েনস অ্যাইরেসে নয়, ফিরেছেন নিজ শহর রোজারিওতে। ফ্লোরিডা থেকে নিজের প্রাইভেট জেটে রোজারিওতে ফেরেন তিনি।

ফেরার সময় মেসির সঙ্গে ছিল যথারীতি তার পরিবার। তার আসার সংবাদে অনেকে অপেক্ষায় থাকলেও কোনো পাবলিক বক্তব্য রাখেননি তিনি। প্রাইভেট জেট থেকে নেমেই সাদা এসইউভি গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা দেন মেসি। বাসায় অপেক্ষায় ছিলেন ৬৮ বছর বয়সী তার বাবা জর্জ মেসি। বর্তমানে তিনি লক্ষণ স্পষ্ট না হওয়া এক রোগে ভুগছেন।

 

মেসির অপেক্ষায় থাকা ভক্ত-সমর্থক তার জার্সি ও প্ল্যাকার্ড হাতে এসেছিলেন। তাদের একজনের হাতে ছিল এমন বার্তা, ‘মেসি, তুমি কিংবদন্তি। আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে।’

বাড়িতে কত দিন থাকবেন মেসি তা জানা যায়নি। তবে জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে ইন্টার মায়ামিতে ফিরতে পারেন ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ক্যারিয়ারের সায়াহ্নেও দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। কিলিয়ান এমবাপ্পের (১০ গোল) পর সর্বোচ্চ ৮ গোল করেন তিনি। সঙ্গে ৮ ম্যাচে ৪ অ্যাসিস্ট।