• ই-পেপার

বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য দুঃসংবাদ

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি : পিএমও

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প। 

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুরের সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন এবং দেশের মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ।

আজ বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (প্রথম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন) অনুমোদন পেয়েছে।

জ্বালানি খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিভিন্ন মহাসড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং বিটাকের নতুন কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যক্তি পর্যায়ে ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে এনবিআর
সংগৃহীত ছবি

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনআরবি)। একই সঙ্গে অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) থেকেই ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের সুবিধা চালু করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই ২০২৬-২০২৭ কর বর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর এটি করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৫-২০২৬ কর বর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

এতে দেশে ডিজিটাল মাধ্যমে করসেবা গ্রহণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, প্রয়োজনীয় সনদ সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা চাইলে কাগজে (পেপার) রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ ছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে পেপার রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

এনবিআরের পোর্টালে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করা যাবে। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিলের পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহের সুবিধাও পাবেন করদাতারা।

ই-রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন। তবে এ প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন করিডোর, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার ফি‌লিপাই‌নের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষ‌য়ে আলোচনা ক‌রে‌ন তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার) গঠনের লক্ষ্যে দুই দেশের সার্বিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন।

তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন করিডোর, বিনিয়োগ ও জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা ক‌রে‌ন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপ‌দেষ্টা হুমায়ুন ক‌বির উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিতে শ্রম বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিতে শ্রম বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এ সম্প্রতি যুক্ত নতুন অধিকারসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সলিডারিটি সেন্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর আওতায় কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবাং বাাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে সুপারিশমালা’ শীর্ষক অংশীজন সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম।

তিনি বলেন, “বিধিমালা থেকে পাওয়া প্রতিকার নিশ্ছিদ্র হওয়া জরুরি। সহিংসতা ও হয়রানির সংজ্ঞায়নে ‘কর্মক্ষেত্রে যেকোনো অগ্রহণযোগ্য আচরণ’ বলে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করা হয়েছে। শ্রম বিধিমালাকে অবশ্যই সুস্পষ্ট প্রক্রিয়াগত নির্দেশনার মাধ্যমে শ্রম আইনে প্রদত্ত অধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করতে হবে।”

মূল প্রবন্ধে নবগঠিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির (সিআরসি) আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা করে এর স্বাধীনতা, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং কার্যকারিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করা হয়।

এতে বলা হয়, সংশোধিত শ্রম আইন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিলেও সিআরসির বর্তমান কাঠামো মূলত যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রণীত উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে গঠিত।

এ ব্যাপারে শ্রম আদালতের জেষ্ঠ্য আইনজীবী সেলিম আহসান খান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি রোধে আমাদের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী আইন প্রণয়ন করা জরুরি। অভন্তরীণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই অপরাধের বিচার হলে অপরাধের শাস্তি লঘু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার মাধ্যমে সম্পন্ন করা জরুরি।”

প্রবন্ধে সিআরসির বহিরাগত সদস্যদের যোগ্যতা, নির্বাচন ও নিয়োগের সুস্পষ্ট বিধান, শ্রম আইনের ২৩ ও ২৪ ধারার বিভাগীয় কার্যধারার সঙ্গে সিআরসির সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নির্ধারণ এবং অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, শুনানি, গোপনীয়তা, আপিল ও প্রতিশোধমূলক আচরণ থেকে সুরক্ষাসহ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিস্তারিত প্রক্রিয়াগত বিধান প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জামিল আনসার বলেন, ‘আইএলও কনভেনশন ১৯০-এ স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু এই সংশোধনে এ ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়ের জন্য ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।

প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়, নিয়োগকর্তা বা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তা—যারা শ্রম আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘শ্রমিক’ নন—তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক প্রক্রিয়া প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনায় শাস্তি-সংক্রান্ত শ্রম আইনের নতুন ৩০৭ক ধারার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন আরো সুস্পষ্ট করার সুপারিশ করা হয়।