• ই-পেপার

তেল সংকটের গুজবে রাজশাহীতে পাম্পে ভিড়

বগুড়ায় ভারসাম্যহীন নারীকে সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ায় ভারসাম্যহীন নারীকে সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ায় সদর উপজেলার ফাঁপোড় পূর্বপাড়া এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের দাবি, নির্যাতনের শিকার নারী প্রায় ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আটকরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নের ফাঁপোড় পূর্বপাড়া গ্রামের আজিজুল সোনারের ছেলে আলমগীর হোসেন ও মৃত আকবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন ও একই এলাকার মৃত লাল চান ফকিরের ছেলে মাহবুবুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে ছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে এই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারী নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে আটক করে থানা পুলিশে সংবাদ দেন।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক অপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তবে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় কোনো দালাল চক্রের খপ্পরে না পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা মাত্রই দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ায় ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কাজ করার সময় একটি বহুতল ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে মিল্লাত হোসেন (৪২) নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

মৃত মিল্লাতের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায়। তিনি হাসনাবাদ এলাকার মুন্সিবাড়ির মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। 

মিল্লাতের বড় ভাই শরীফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মিল্লাত দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে রয়েছে। কাজ করতে গিয়ে একটি বহুতল ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে সে। কখনো ভাবিনি এভাবে তার মৃত্যুর খবর শুনতে হবে। পরিবারের কাউকে মানাতে পারছি না। খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর্তনাদ করছে।’

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে মরদেহ দেশে আনতে পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল্লাহ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের শাহবুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আলুকদিয়া বাজারে একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ করত আব্দুল্লাহ। একটি মোটরসাইকেলের ত্রুটি চিহ্নিত করতে পরীক্ষামূলক চালনা করে সে। এ সময় আলুকদিয়া বাজারের তেল পাম্পের অদূরে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গামুখী একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩০ টাকা বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

দিনাজপুর প্রতিনিধি
সপ্তাহের ব্যবধানে ১৩০ টাকা বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। 

দিনাজপুরের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার বাহাদুর বাজারসহ জেলা উপজেলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দিনাজপুরসহ আশেপাশের জেলা গুলোতে টানা বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে আমদানি কমে গেছে। সে কারণে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী বাজার, রামনগর বাজার, উপশহর বাজার, পুলহাট বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হলেও দেশে মরিচ এসে পৌঁছাবে আগামী শনিবার। আবার আমদানি হলেও এর প্রভাব দিনাজপুরে মরিচের দামের ওপর প্রভাব পড়ছে না। কারণ আমদানি হওয়া কাঁচা মরিচ দিনাজপুরের বাজারে পাওয়া যায় না। সব চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে। চাহিদার তুলনায় কাঁচামরিচ আমদানি কম হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে দেশে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় মশলা ও সবজি জাতীয় পণ্যেরও দাম বাড়ছে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও শসা ১০০ টাকা ও ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজি।

বাহাদুর বাজারে বাজার করতে আসা আতাউর রহমান বলেন, ‘সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। আগে এক পোয়া নিলেও আজকে ২৫ টাকা দিয়ে নিলাম ১০০ গ্রাম। এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চলা কঠিন হয়ে যাবে।’

এছাড়াও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, বিরল, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজার গুলোতেও খবর নিয়ে একই খবর পাওয়া গেছে।

বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে মরিচ নষ্ট হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে না। সে কারণে বাহির থেকে বেশি দামে কাঁচামরিচ কিনে আনতে হচ্ছে।’

বাহাদুর বাজারের সহরাফ আলী নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমদানি কম তাই দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনছি তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। শুনেছি হিলি স্থলবন্দ দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। তবে সেই এলসির মচির আগামী শনিবারের আগে স্থলবন্দরে এসে পৌঁছাবে না।’

ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিরাহাট গ্রামের কৃষক জনাব আলী বলেন, ‘বৃষ্টির এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে মরিচ গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। গাছ মরে যাচ্ছে। ফলে মরিচের উৎপাদন কম হচ্ছে। ১০ কাঠা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর মাত্র ২০ কেজি মরিচ তুলতে পেরেছি। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, ৫০ শতক জমিতে এবার মরিচ আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। মরিচের গাছ বৃষ্টির কারণে মরে যাচ্ছে। আজ ১ হাজার গাছ থেকে মরিচ তুলেছি মাত্র ৪৪ কেজি। পাইকারি ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। মরিচের গাছ নষ্টের কারণে ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক বলেন, মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘এ বছর দিনাজপুরে খরিব-১ মৌসুমে মরিচ আবাদ হয়েছে ৬৬৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৩২ টন। যা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও খরিব-২ মৌসুমের মরিচ চাষ শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে জেলায় ১০৩ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হবে।’

এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি বিপণন সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, ‘লাগাতার বৃষ্টির কারণে মরিচ চাষিদের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম দিন দিন বাড়ছে।’