• ই-পেপার

আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষ : দলটিকে শান্তিতে জিততে দেওয়া হয় না, হারতেও নয়

স্কালোনির পর কে হচ্ছেন আর্জেন্টিনার কোচ?

ক্রীড়া ডেস্ক
স্কালোনির পর কে হচ্ছেন আর্জেন্টিনার কোচ?
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের কাছে শিরোপা হারানোর ক্ষত এখনো টাটকা। তার ওপর এবার নতুন চিন্তার ভাঁজ আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের কপালে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ কী? চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে এই সফল কোচের চুক্তির মেয়াদ। কিন্তু এখনো চুক্তির নবায়ন কিংবা নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় চারদিকে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। তবে কি অধ্যায়ের ইতি টানছেন স্কালোনি?

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নাটকীয় সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছালেও বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বাধা টপকে ফাইনালে উঠলেও শেষ রক্ষায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ম্যাচ শেষে মাঠে স্কালোনির আবেগাপ্লুত উপস্থিতি যেন সেই বিদায়ের সুরকেই আরো ভারী করে তোলে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও টানা দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি এনে দেওয়া এই জাদুকরী কোচ যদি সত্যিই সরে দাঁড়ান, তবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন?

ইয়াহু স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, ডাগআউটে স্কালোনির উত্তরাধিকারী হতে ফুটবলের বাজারে জোরেশোরে ভেসে আসছে চার হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম।

পাবলো আইমার

আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই সাবেক মিডফিল্ডার শুরু থেকেই স্কালোনির ডানহাত হিসেবে সহকারী কোচের ভূমিকা পালন করছেন। গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনার সোনালী যাত্রার অন্যতম রূপকার তিনি। ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার নেপথ্যে ড্রেসিংরুমে আইমারের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। স্কালোনির তৈরি করা দলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিসিবির (এএফএ) পছন্দের তালিকার শীর্ষে আইমারকে রাখাটা একপ্রকার স্বাভাবিকই।

মার্সেলো গ্যালিয়ার্দো

খেলোয়াড় ও কোচ—উভয় ভূমিকাতেই রিভার প্লেটের কিংবদন্তি মার্সেলো গ্যালিয়ার্দো। দীর্ঘদিন ধরেই আলবিসেলেস্তেদের হটসিটে তার বসার গুঞ্জন রয়েছে। যদিও রিভারে তার দ্বিতীয় মেয়াদটা খুব একটা সুখে কাটেনি, তবুও লাতিন ফুটবলে তার অতীত সাফল্য ও ট্যাকটিক্যাল দক্ষতাই তাকে জাতীয় দলের প্রার্থীর দৌড়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

দিয়েগো সিমিওনে

অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের ডাগআউটে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছেন দিয়েগো সিমিওনে। ক্লাব ফুটবলে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্ভাব্য সব সাফল্য দেখা এই লড়াকু কোচ বহুবার আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার সুপ্ত বাসনা প্রকাশ করেছেন। স্কালোনি ছাড়লে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে সিমিওনের।

মাউরিসিও পোচেত্তিনো

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর আপাতত হাত গুটিয়ে বসে আছেন পোচেত্তিনো, বাজারে তিনি এখন ‘ফ্রি এজেন্ট’। টটেনহ্যাম, প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই (পিএসজি) কিংবা চেলসির মতো বড় ক্লাব সামলানোর বিশাল অভিজ্ঞতা আছে এই আর্জেন্টাইনের। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা এবং তরুণদের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনার সুখ্যাতি থাকায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর টেবিলে পোচেত্তিনো হতে পারেন বেশ আকর্ষণীয় এক বিকল্প! 

ফিফা ফুটবল ধ্বংস করছে, ইনফান্তিনোর সময় শেষ : স্প্যানিশ লিগ সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা ফুটবল ধ্বংস করছে, ইনফান্তিনোর সময় শেষ : স্প্যানিশ লিগ সভাপতি
ছবি : রয়টার্স

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা নিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে কড়া ভাষায় তুলাধোনা করেছেন স্প্যানিশ ফুটবল লিগের (লা লিগা) সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। বিশ্ব ফুটবলের নীতিনির্ধারকদের এমন চিন্তাভাবনা এবং একের পর এক সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি।

ইতালীয় ক্রীড়া দৈনিক ‘লা গাজ্জেত্তা দেলো স্পোর্ত’-এ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তেবাস সোজা ব্যাটে খেলেন। তিনি দাবি করেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মেয়াদকাল বা যুগ এখন ‘শেষ’ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ফিফার নেতৃত্ব নির্বাচনের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে একটি ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ ব্যবস্থা বলে আখ্যা দেন। তেবাসের জানান, এই ত্রুটিযুক্ত ব্যবস্থার ফাঁক গলেই এক দশক ধরে ফুটবলের ওপর নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন ইনফান্তিনো।

ফিফার অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে লা লিগা প্রধান বলেন, ‘বিশ্বকাপ যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক না কেন ফুটবল শিল্প বলতে শুধুই এই টুর্নামেন্টকে বোঝায় না। । বিশ্ব ফুটবলের এই বিশাল শিল্প হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জোগায়। অথচ মাত্র ৪০ দিনের একটা টুর্নামেন্ট আর গুটি কতক ফুটবলারের সুবিধার কথা ভেবে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকেই তারা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত জুনে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চেই ২০৩০ সালের শতবর্ষী আসরে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ‘৬৪ দল’ করার এক আলোচনার কথা সামনে এনেছিলেন ইনফান্তিনো। মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টানে দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনাতেও এর কিছু ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঘরোয়া ফুটবলের ওপর বাড়তি চাপ ও ফুটবলারদের ঠাসা সূচি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তেবাস আরো বলেন, ‘খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার ও ব্যস্ত সূচি নিয়ে আমরা বারবার নিজেদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছি। আর তারা কিনা এখন ৬৪ দলের বিশ্বকাপ করার পাঁয়তারা করছে!’ 

তিনি বলেন, ‘তারা ভুলে যাচ্ছে, ঘরোয়া লিগগুলোই মূলত ফুটবল খেলাটাকে টিকিয়ে রেখেছে। আমাদের এখন দরকার আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ কমানো এবং ঘরোয়া ফুটবলকে সুরক্ষা দেওয়া। তারা এই বাস্তব সত্যটা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং দিনের পর দিন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।’

তবে লা লিগা সভাপতির এমন কঠোর অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। 

এরিকসনের জীবন বাঁচানো রেফারিকে আর দেখা যাবে না মাঠে

ক্রীড়া ডেস্ক
এরিকসনের জীবন বাঁচানো রেফারিকে আর দেখা যাবে না মাঠে
রেফারির দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেন টেইলর। ছবি : রয়টার্স

মোবাইল নেটওয়ার্ক অপরাটর কোম্পানি রবির জনপ্রিয় অ্যাডটার কথা মনে হচ্ছে। শহর থাকা শিমুল নামে একজন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামে শিশুদের ইংরেজি শেখাচ্ছেন।

অ্যাডের শুরুটা হয়েছিল এভাবে, পুকুরের ঠান্ডা পানিতে গোসল করার পর সিরিতে বসে কাঁপছিল এক শিশু। ঠিক তখনই আরেক শিশু আসে গোসল করার জন্য। সিড়িতে বসে থাকা বালকটি অপরজনকে বলে, ‘পানিতে লাফ দিয়ে তো। খুব ঠান্ডা।’ তবে গোসলের জন্য আসা বালকটি প্রতি উত্তরে বলেন, ‘নিজের চরকায় তেল দাও।’

এটা বলেই পানিতে লাফ দেন সেই বালক। ডুব দিয়ে পানি থেকে মাথা ওপরে তুলতেই ঠান্ডায় জড়োসড়ো হয়ে বলতে থাকে, ‘পানি অসম্ভব ঠান্ডা।’ আর সিড়িতে বসে থাকা বালকটি তখন মুচকি হাসতে থাকেন। যেন হাসিতে বুঝিয়ে দিল—সে আমার থেকে যেন বেশি জানে।

অর্থাৎ, যেকোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে তারাই ভালো জানেন যাদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। কিংবা বলা যায়, ন্যাড়া বারবার বেল তলায় যায় না। রেফারি অ্যান্থনি টেইলরের ক্ষেত্রেও যেন তেমনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকায় আর রেফারিং করতে চান না তিনি। তাই বিশ্বকাপ শেষ হতেই রেফারির দায়িত্ব থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ‘বাস্তবে’ ন্যাড়া মাথার ইংলিশ রেফারি।

সর্বোচ্চ পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনায় অসম্ভব চাপ থাকায় আর এই দায়িত্ব পালন করতে চান না টেইলর। ৪৭ বছর বয়সী রেফারি বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা করাটা বিরাট সৌভাগ্যের। কিন্তু সব সময় অসম্ভব চাপ এবং কড়া নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়। দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এখনই সঠিক সময়। কর্মজীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করতে চাই।’

ইংল্যান্ডের নর্দান প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ২০০২ সালে টেইলরের রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। এর পর সবুজ মাঠটিতে কাটিয়ে দিয়েছেন ২ যুগ। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ বহু টুর্নামেন্টে বাঁশি বাজিয়েছেন। সবমিলিয়ে ৮৩১ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।

২০১৩ সালে ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হন টেইলর। যার শেষটা টানলেন এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে। শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হওয়া স্পেন-পর্তুগালের ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের শেষ। সবমিলিয়ে ১৬৩ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

ম্যাচ পরিচালনায় অনেক সুনাম রয়েছে টেইলরের। তবে সারাবিশ্বে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের জীবন বাঁচিয়ে। ২০২০ ইউরোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ড। সেই ম্যাচ দায়িত্ব পালন করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ডেনমার্কের ফরোয়ার্ড এরিকসন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা বন্ধ করেন তিনি। পরে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এরিকসনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন তিনি। সেই ঘটনার জন্যই পরে প্রশংসিত হন টেইলর।

স্পেনের বিশ্বজয়ের ‘লাকি চার্ম’ ফাবিয়ান রুইজ

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের বিশ্বজয়ের ‘লাকি চার্ম’ ফাবিয়ান রুইজ

ফাইনালে জয়সূচক গোল দিয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন ফেরান তোরেস, মাঝমাঠের লাগাম হাতে পথ দেখিয়েছেন রদ্রি। তবে স্পেনের বিশ্বজয়ের অন্যতম কারিগরদের একজন ফাবিয়ান রুইজ। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সেই মহারণে স্প্যানিশদের খেলায় ভারসাম্যের রসদ জুগিয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার।

সেমিফাইনালের পর হাইভোল্টেজ ফাইনালেও পেদ্রির বদলে ফাবিয়ানকে শুরুর একাদশে নামিয়ে বড় এক বাজি ধরেছিলেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। গুরুকে হতাশ করেননি ৩০ বছর বয়সী এই তারকা। মাঠে নেমে রদ্রির সঙ্গে নিখুঁত এক জুটি গড়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের দখলে নেন। ফলে আলবিসেলেস্তেদের ধারাল আক্রমণভাগ স্প্যানিশ দুর্গের সামনে এসে বারবার খেই হারিয়ে ফেলে।

ফাবিয়ানের এমন নিখুঁত ও শানিত পজিশনিংয়ের কারণে বলের খোঁজে বারবার নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন বিশ্বসেরা তারকা লিওনেল মেসি। শুধু তা-ই নয়, আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক পাসিং লেনগুলো ব্লক করে দিয়ে স্পেনের রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে এক অসাধারণ সাঁকো তৈরি করে দেন তিনি।

মাঠে নেমেই শুধু পারফরম্যান্সেই উজ্জ্বল ছিলেন না, নামের পাশে যোগ করেছেন অবিশ্বাস্য এক অনন্য নজিরও। লা রোখাদের জার্সিতে টানা ৫০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এই ৫০ ম্যাচে স্পেন জয় তুলে নিয়েছে ৩৫টিতে, আর সমতায় শেষ হয়েছে ১৫টি ম্যাচ। স্পেনের ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের ঝুলিতে এমন চমকপ্রদ রেকর্ড আর নেই।

বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জমকালো ও সফল মৌসুমের ইতি টানলেন ফাবিয়ান। ২০২২ সালে নাপোলি ছেড়ে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইয়ে (পিএসজি) নাম লেখানোর পর শুরুতে কিছুটা খাবি খেয়েছেন, একাদশে জায়গা পাওয়াটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকের অধীনে বদলে গিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন বিশ্বসেরা মিডফিল্ডারদের কাতারে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তিনি যেন জেতার এক নেশায় মেতেছিলেন। লিগ আঁ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ কিংবা ফিফা বিশ্বকাপ যে প্রতিযোগিতাতেই তিনি পা রেখেছেন, সেখানেই ঘরে তুলেছেন শিরোপা!

ধারাবাহিক সাফল্য আর দলের প্রতিটি শিরোপাজয়ে অসামান্য ভূমিকা রাখার কারণে সমর্থক ও ফুটবল বোদ্ধারা ফাবিয়ান রুইজকে এখন স্পেনের ‘লাকি চার্ম’ বলেই ডাকছেন। মাঠে তার এমন রাজকীয় বিচরণের পর ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও খুব ভালোভাবেই উঠছে এসেছে স্প্যানিশ এই তারকার নাম।