দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি রেস্তোরাঁর মালিক ডেজার্টের (মিষ্টি খাবার) সাজসজ্জায় পিঁপড়া ব্যবহার করায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে তার এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২ কোটি কোরিয়ান ওন (প্রায় ১৪ লাখ রুপি) জরিমানার আবেদন করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য স্যানিটেশন আইন অনুযায়ী, মানুষের খাদ্যে মাত্র ১০টি নির্দিষ্ট প্রজাতির পোকামাকড় ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল ও ঝিঁঝিঁ পোকার মতো কিছু প্রজাতি রয়েছে। তবে পিঁপড়া এই অনুমোদিত তালিকায় নেই। তাই ডেজার্টে পিঁপড়া ব্যবহার করায় রেস্তোরাঁটির মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে এই তদন্ত কোনো গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে রেস্তোরাঁটির খাবারের ছবিতে পিঁপড়া দিয়ে সাজানো একটি খাবার দেখতে পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেন।
বিবিসির উদ্ধৃত স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৪৯ হাজার পিঁপড়া চার বছরে রেস্তোরাঁটির বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়েছে।
আদালতে রেস্তোরাঁর মালিক স্বীকার করেন, তিনি খাবারে পিঁপড়া ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি বলেন, এটি ১৫ পদের টেস্টিং মেন্যুর একটি ছোট অংশ ছিল। তিনি আরো দাবি করেন, অতিথিদের পছন্দের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
যারা চাইতেন, তারা পিঁপড়া দিয়ে সাজানো খাবার খেতে পারতেন। আর যারা তা চাইতেন না, তাদের জন্য ভোজ্য ফুল বা গাঁজানো ভিনেগারের মতো বিকল্প পরিবেশন করা হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ অতিথি পিঁপড়া-সজ্জিত খাবার খেতে বেছে নিয়েছিলেন।
রেস্তোরাঁর মালিক আদালতে দাবি করেন, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নামকরা রেস্তোরাঁয় নিয়মিত খাবারে পিঁপড়া ব্যবহার করা হয়। তাই তার রেস্তোরাঁয়ও এটি নতুন বা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী অনুমোদনহীন কোনো উপাদান খাবারে ব্যবহার করা বেআইনি। তারা জানান, পিঁপড়া দিয়ে সাজানো ডেজার্টটি ১২ হাজার ২০০ বারের বেশি পরিবেশন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রেস্তোরাঁটি উল্লেখযোগ্য আয় করেছে। আদালতের নথিতে রেস্তোরাঁটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে জানা গেছে, সিউলে মাত্র ১০টি রেস্তোরাঁর দুটি করে মিশেলিন স্টার রয়েছে। এ মামলার রায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হতে পারে।




