• ই-পেপার

বিতর্কে ফ্রান্স তারকা ওলিসে

বিশ্বকাপ জিতে নিজ শহরের বিশেষ উপহার পেলেন গাভি-রুইজ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ জিতে নিজ শহরের বিশেষ উপহার পেলেন গাভি-রুইজ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। পেয়েছে বিশাল সংবর্ধনা। তারপর খেলোয়াড়রা ফিরেছেন নিজ নিজ শহরে। স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের তারকা গাভি এবং ফাবিয়ান রুইজ নিজ শহরে ফিরে পেয়েছেন এক অভিনব উপহার। তাদের ওজনের সমান টমেটো উপহার দেওয়া হয়েছে দুজনকে।

ইএসপিএন এফসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের লস পালাসিওস ই ভিলাফ্রাঙ্কা নামক ছোট শহরে এই দুই বিশ্বজয়ী তারকাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার গাভি উপহার হিসেবে ৬৮.৫ কেজি টমেটো পেয়েছেন। পিএসজির মিডফিল্ডার তার ওজনের সমান ৮৪.৫ কেজি টমেটো পেয়েছেন।

লস পালাসিওস শহরটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং উন্নতমানের টমেটো উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুযায়ী স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে বড় কোনো সাফল্য অর্জন করলে তাকে এই ‘বম্বন কলোরাডো’  নামের বিখ্যাত টমেটো দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

বিশ্বকাপজয়ী দুই খেলোয়াড়ের সম্মানে শহরের দুটি নগর ফুটবল স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে তাদের নামে রেখেছে। এ ছাড়া স্থানীয় ফুটবল কিংবদন্তি হেসুস নাভাসের সম্মানে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে নগর প্রশাসন। 

ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প

ক্রীড়া ডেস্ক
ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল সফলভাবে আয়োজনের পর ট্রাম্প মনে করছেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা সামর্থ্য জাতিসংঘের উপকারে আসতে পারে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন ইনফান্তিনো বিশ্বের সর্বমহলে সম্মানিত একজন ব্যক্তি। তার মতে, মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে ফিফা সভাপতির।

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির সময়ই ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। গত বছর ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার দেন। এর পর থেকে দুজনের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইনফান্তিনো জাতিসংঘের মহাসচিব হতে আগ্রহী কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া এই পদ পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ নয়। প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে, যেখানে ৫ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি ভেটো দিতে পারে। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। তবেই ইনফান্তিনো মহাসচিব হতে পারবেন।

ইনফান্তিনো বর্তমানে ফিফার সভাপতি হিসেবে বছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৪ কোটি টাকা) আয় করেন। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার (৫ কোটি টাকা)। ফলে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে গেলে ইনফান্তিনোকে বড় অঙ্কের আর্থিক ছাড় দিতে হবে।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। গুতেরেসের উত্তরসূরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব নেবেন।

‘এক ম্যাচের ভিত্তিতে মেসিকে বিচার করা অন্যায়’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এক ম্যাচের ভিত্তিতে মেসিকে বিচার করা অন্যায়’

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। গোটা টুর্নামেন্টে ছন্দে থাকলেও ফাইনালে একেবারে নিষ্প্রভ থেকেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় চারদিকে। এমন আবহে মেসির পাশে দাঁড়ালেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ফাইনালে হারলেও এক ম্যাচের ভিত্তিতে মহাতারকা মেসির ক্যারিয়ার বিচার করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। 

কলকাতাভিত্তিক নিউজআঠেরোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ জানিয়েছেন, একটা খারাপ ম্যাচ কোনোভাবেই মেসির অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ারকে ম্লান করতে পারে না। 

‘লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে কখনোই একটি ম্যাচের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, তিনিও একজন মানুষ। প্রতিদিন একই মানের পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। খারাপ দিন আসতেই পারে। মেসি ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ জিতেছেন, অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এবং নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই একটি ফাইনাল বা ম্যাচের ভিত্তিতে তার ক্যারিয়ারকে বিচার করা অন্যায়।’ বলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের সব ম্যাচ না দেখলেও সেমি ফাইনাল এবং ফাইনাল দেখেছেন বলে জানান সৌরভ। তাঁর মতে, ‘ফাইনালে পরিকল্পনার দিক থেকে স্পেন অনেক এগিয়ে ছিল। প্রথম থেকেই আর্জেন্তিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে দেয়নি স্পেন’ এমনটাই মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মতে, ট্যাকটিক্সের দিক থেকে স্পেন অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল। ওদের গেমপ্ল্যান ছিল নিখুঁত, আর জেতার খিদেও স্পষ্ট ছিল। সেই কারণেই ফাইনাল একপেশে ম্যাচ হয়েছে। দলগত ভাবে স্পেন অসাধারণ খেলেছে এবং যোগ্য দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে যোগ করেন এই ক্রিকেট কিংবদন্তি।

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটি গড়েছে এক অনন্য রেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটি গড়েছে এক অনন্য রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের শুরুতেই ভিসা ইস্যু, টিকিটের দামসহ বেশ কিছু বিষয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সব কিছু ছাপিয়ে তিনটি স্বাগতিক দেশ, ১৬টি স্টেডিয়াম, ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে দেওয়া এক গোলে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের নতুন রেকর্ড গড়েছে বলে জানিয়েছে নিলসেন মিডিয়া রিসার্চ।

সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স জানায়, স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক দেখেছেন। একপর্যায়ে দর্শকসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজারে পৌঁছায়। 

নিলসেন মিডিয়া রিসার্চ-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তাদের সম্প্রচারে ম্যাচটি দেখেছেন ২ কোটি ২৬ লাখ দর্শক। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাষার সম্প্রচার মিলিয়ে ফাইনাল ম্যাচটি ৬ কোটিরও বেশি মানুষ উপভোগ করেছেন।

আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা উত্তর আমেরিকার ঘরে ঘরে পরিচিত মুখে পরিনত হন। যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পরও দেশটিতে টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা উচ্চ পর্যায়েই ছিল। আর টিকিটের দাম বেশি হলেও অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্বাগতিক তিন দেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ফক্স তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইংরেজি ভাষায় টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ সম্প্রচার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পরও দর্শকদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য কোনো ভাটা পড়েনি।

এদিকে স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচার টেলেমুন্দোও ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি যাদের মাতৃভাষা স্প্যানিশ নয়, তাদের মধ্যেও এই সম্প্রচার ছিল সমাদৃত।

ফক্স জানিয়েছে, তাদের ফক্স, এফএসওয়ান এবং টুবি প্ল্যাটফর্মে ১০৪টি ম্যাচে গড়ে ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে এই গড় ছিল ৩৫ লাখ ৮৮ হাজার, আর ২০১৮ সালে ছিল ২৭ লাখ ৭০ হাজার।

যদিও নিলসেনের দর্শকসংখ্যা বিশ্বকাপ ফাইনালের জনপ্রিয়তার একটি ধারণা দেয়, তবু প্রকৃত দর্শকসংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ, অনেকেই বিভিন্ন ওয়াচ পার্টি বা দলবদ্ধভাবে খেলা দেখেছেন। আরও নির্ভুল হিসাব পেতে ২০২৫ সালে নিলসেন তাদের ঘরের বাইরের দর্শক পরিমাপের পদ্ধতিও সম্প্রসারণ করে।

শুরুর দিকে কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দর্শক উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।