• ই-পেপার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

ইরানের হামলায় জর্দানে একাধিক ড্রোনসহ মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের হামলায় জর্দানে একাধিক ড্রোনসহ মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

জর্দানে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানসহ একাধিক ড্রোন ও হেলিকপ্টার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা, ড্রোন অবকাঠামো এবং হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী বলছে, জর্দানের প্রিন্স হাসান এবং কিং ফয়সাল বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকরণ অবকাঠামো এবং একটি হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়, ওই হামলায় ৮টি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরো ২টি এমকিউ-৯ ড্রোন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে চালানো হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্দানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই এই নতুন দাবি সামনে এলো, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ম্যানিলায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মার্কো রুবিও

অনলাইন ডেস্ক
ম্যানিলায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মার্কো রুবিও
ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের লাভরভ বলেন, যেকোনো আলোচনা ইতিবাচক হতে পারে। 

তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন করা এবং উত্তর পাওয়া সব সময়ই ভালো।’

তিনি জানান, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা এখন অনেকটাই স্থবির।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে ওয়াশিংটনের বেশি মনোযোগ এবং ইউক্রেনের কাছে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়ার কঠোর অবস্থানের কারণে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

ম্যানিলায় সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘একটি নৈশভোজে লাভরভের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত কথা হয়েছে। তবে মূল আলোচনা হবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে।’ রুবিও বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগকে সীমিত করে দিয়েছে। তবু আমরা সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই, এই যুদ্ধের অবসান হোক। এ বিষয়ে আলোচনা করব এবং যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলাকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, এই ধরনের চাপ যুদ্ধের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। ইউক্রেনের এসব হামলার ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

পিঁপড়া দিয়ে ডেজার্ট সাজিয়ে বিপাকে দক্ষিণ কোরিয়ান শেফ

অনলাইন ডেস্ক
পিঁপড়া দিয়ে ডেজার্ট সাজিয়ে বিপাকে দক্ষিণ কোরিয়ান শেফ
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি রেস্তোরাঁর মালিক ডেজার্টের (মিষ্টি খাবার) সাজসজ্জায় পিঁপড়া ব্যবহার করায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে তার এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২ কোটি কোরিয়ান ওন (প্রায় ১৪ লাখ রুপি) জরিমানার আবেদন করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য স্যানিটেশন আইন অনুযায়ী, মানুষের খাদ্যে মাত্র ১০টি নির্দিষ্ট প্রজাতির পোকামাকড় ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে ঘাসফড়িং, পঙ্গপাল ও ঝিঁঝিঁ পোকার মতো কিছু প্রজাতি রয়েছে। তবে পিঁপড়া এই অনুমোদিত তালিকায় নেই। তাই ডেজার্টে পিঁপড়া ব্যবহার করায় রেস্তোরাঁটির মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে এই তদন্ত কোনো গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে রেস্তোরাঁটির খাবারের ছবিতে পিঁপড়া দিয়ে সাজানো একটি খাবার দেখতে পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেন।

বিবিসির উদ্ধৃত স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৪৯ হাজার পিঁপড়া চার বছরে রেস্তোরাঁটির বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়েছে।

আদালতে রেস্তোরাঁর মালিক স্বীকার করেন, তিনি খাবারে পিঁপড়া ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি বলেন, এটি ১৫ পদের টেস্টিং মেন্যুর একটি ছোট অংশ ছিল। তিনি আরো দাবি করেন, অতিথিদের পছন্দের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।

যারা চাইতেন, তারা পিঁপড়া দিয়ে সাজানো খাবার খেতে পারতেন। আর যারা তা চাইতেন না, তাদের জন্য ভোজ্য ফুল বা গাঁজানো ভিনেগারের মতো বিকল্প পরিবেশন করা হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ অতিথি পিঁপড়া-সজ্জিত খাবার খেতে বেছে নিয়েছিলেন।

রেস্তোরাঁর মালিক আদালতে দাবি করেন, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নামকরা রেস্তোরাঁয় নিয়মিত খাবারে পিঁপড়া ব্যবহার করা হয়। তাই তার রেস্তোরাঁয়ও এটি নতুন বা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী অনুমোদনহীন কোনো উপাদান খাবারে ব্যবহার করা বেআইনি। তারা জানান, পিঁপড়া দিয়ে সাজানো ডেজার্টটি ১২ হাজার ২০০ বারের বেশি পরিবেশন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রেস্তোরাঁটি উল্লেখযোগ্য আয় করেছে। আদালতের নথিতে রেস্তোরাঁটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তবে জানা গেছে, সিউলে মাত্র ১০টি রেস্তোরাঁর দুটি করে মিশেলিন স্টার রয়েছে। এ মামলার রায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হতে পারে।

দেশের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় না করে ‘বড় বিপদে’ আছে ইরান : রুবিও

অনলাইন ডেস্ক
দেশের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় না করে ‘বড় বিপদে’ আছে ইরান : রুবিও
ছবি : রয়টার্স

চলমান যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটি বর্তমানে ‘গভীর সংকটে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও এ মন্তব্য করেন।

ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উল্লেখ করে রুবিও দাবি করেন, ‘গত ২০ বছর ধরে তারা দেশের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় না করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তুলতেই তাদের অর্থ ব্যয় করেছে। ফলে দেশটির অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনী এখন বড় বিপদে আছে।’

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে—এক প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে থাকলে সব সময়ই ঝুঁকি থাকে।’