• ই-পেপার

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

বকেয়া বেতন ও চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা ওয়াসার কর্মচারীদের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বকেয়া বেতন ও চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা ওয়াসার কর্মচারীদের অবস্থান

ঢাকা ওয়াসায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৫৭ জন কর্মচারী ছয় মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) ওয়াসা ভবনের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনরত কর্মীদের দাবি, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ওয়াসা প্রশাসনের নির্দেশে তারা আউটসোর্সিংয়ের আওতায় বিভিন্ন জোনে যোগ দেন। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ২৪ হাজার ৬১০ টাকা বেতনে রাজস্ব আদায়, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব নিয়মিত পালন করলেও ছয় মাসে এক মাসের বেতনও পাননি।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিজনের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি। এখন প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসংগতির কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এক ভুক্তভোগী কর্মচারী বলেন, ওয়াসার পরিচয়পত্রসহ সব ধরনের অফিসিয়াল কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার পরও এখন বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ছয় মাস ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।

আরেক কর্মচারীর অভিযোগ, তারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে হাজিরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং পুনরায় কাজে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী কর্মচারীদের দাবি, দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ, হাজিরা পুনর্বহাল এবং চাকরির অনিশ্চয়তা দূর করে তাদের এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হোক।

ইউপি সচিবদের বদলিতে কোনো সুপারিশের সুযোগ রাখা হয়নি : ডিসি ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউপি সচিবদের বদলিতে কোনো সুপারিশের সুযোগ রাখা হয়নি : ডিসি ফরিদা

ঢাকা জেলার প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বদলি কার্যক্রমেও কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব বা সুপারিশের সুযোগ রাখা হয়নি। লটারির মাধ্যমে পদায়নের ফলে সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছেন এবং জনগণের আস্থা আরো বাড়বে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে লটারির আয়োজন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মিজ ফরিদা খানম আরো বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল প্রশাসন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

প্রশাসন সূত্র বলছে, ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৬২টি সচিবের পদ রয়েছে। বর্তমানে ৫৭ জন কর্মরত থাকলেও ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মরতদের মধ্যে ৫২ জন বদলি কার্যক্রমে অংশ নেন।

এর মধ্যে ৪৫ জন নিজ নিজ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে পদায়নের জন্য লটারিতে অংশ নেন। অপরদিকে, আবেদন ও যৌক্তিক কারণ বিবেচনায় ৭ জনকে অন্য উপজেলায় পদায়নের সুযোগ দেওয়া হয় এবং তারাও লটারিতে অংশ নেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্মরত বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় তাদের বদলি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একজনকে প্রশাসনিক কারণে এ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বদলি কার্যক্রমে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাবের সুযোগ বন্ধ করতে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে লটারির আয়োজন করা হয়। বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই
আবু হেনা রাসেল। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী, স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জানা গেছে, বুধবার রাজধানীর আসাদগেট সংলগ্ন তালুকদার ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে গিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন আবু হেনা রাসেল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে ক্র্যাব পরিবার। সংগঠনটির সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা এক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

আবু হেনা রাসেলের জানাজা বুধবার বিকেল পৌনে ৫টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আবু হেনা রাসেল সর্বশেষ দৈনিক খবর সংযোগের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি দৈনিক ভোরের কাগজ, সমকাল, কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ক্র্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

ভাসানটেকে কাওসার মোল্লা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভাসানটেকে কাওসার মোল্লা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি স্ত্রীর
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর ভাসানটেক এলাকার বাসিন্দা কাওসার মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী মোছা. সুমা।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সুমা অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই রাতে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে তার স্বামী কাওসার মোল্লাকে মারধর করা হয়। তার দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কল করে কাওসারকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাসানটেকের ৩ নম্বর দামালকোট এলাকা থেকে কাওসারকে তুলে নিয়ে রবিউল ইসলাম সুমনের নির্দেশে একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দামালকোট এলাকায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

কাওসার মোল্লার স্ত্রী বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ভাসানটেক থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যেতে বলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর আগে কাওসার মোল্লা হামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তালিকায় রবিউল ইসলাম সুমন, রাজু, শরিফ, সাইফুল, ওহিদুল, ইন্দ্রজিৎ, ইফাদ, ইমরান, সাদ্দাম, জুয়েল ও আব্দুলের নাম ছিল।

সুমা আরো দাবি করেন, মৃত্যুর আগে কাওসার মোল্লার দেওয়া বক্তব্য ভাষানটেক থানার তদন্ত পরিদর্শক সাজিদুল করিম সরকার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন।

তিনি জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসক কাওসার মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুমা অভিযোগ করেন, মামলা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে কাওসার যাদের নাম বলেছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানার কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি কাওসারের মৃত্যুর আগে দেওয়া বক্তব্য, কথিত ভিডিও রেকর্ড ও অন্যান্য আলামত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

এ ছাড়া প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।