সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সচল পোস্টপেইড মিটার খুলে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগে রংপুর জেলা প্রশাসক, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানির (নেসকো) পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ১৫ নাগরিক।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রংপুর সদর বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দীকের আদালতে ১৫ জন গ্রাহক মামলাটি করেন।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ।
মামলার আসামিরা হলেন নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ-১) মো. মোসাদ্দেক কবির, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ-২) মো. শরিফুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এনার্জি এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড মিটারিং) মো. মোশারফুজ্জামান ভূঁইয়া, নেসকো রংপুরের ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোছা. কানিজ ফাতেমা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক। তবে মামলায় জেলা প্রশাসক শব্দ ব্যবহার করা হলেও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বাদীদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে প্রতি মাসে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ, রিচার্জে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং মোবাইল ব্যাংকিং কমিশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। মিটার লক হয়ে গেলে আনলকের জন্যও গ্রাহকদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অন্যতম সমন্বয়কারী আব্দুল জব্বার বলেন, ‘সরকার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নতুন সংযোগ ও নষ্ট মিটার পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই শুধু প্রিপেইড মিটার বসানো যাবে। কিন্তু নেসকো সেই নির্দেশনা অমান্য করে সচল পোস্টপেইড মিটার খুলে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার বসাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা আদালতের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বন্ধ এবং গ্রাহকদের অধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রিপেইড মিটার নিয়ে আমাদের আপত্তি প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, আপত্তি হচ্ছে জোরপূর্বক বাস্তবায়ন, অতিরিক্ত চার্জ আদায় এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার বিরুদ্ধে।’
মামলার আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘মামলায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের চলমান কার্যক্রম বন্ধ, জোরপূর্বক পোস্টপেইড মিটার অপসারণে নিষেধাজ্ঞা, সরকারি নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।’
নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। মামলা করলে আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।’





