• ই-পেপার

‘এক ম্যাচের ভিত্তিতে মেসিকে বিচার করা অন্যায়’

আবার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, কবে-কখন

ক্রীড়া ডেস্ক
আবার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, কবে-কখন
আর্জেন্টিনার মেসি ও স্পেনের লামিনে ইয়ামাল আবার মুখোমুখি হতে পারেন। ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি। তবে আর্জেন্টিনাকে ‘প্রতিশোধের’ জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে নাও হতে পারে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এ বছরের শেষ দিকে আবার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এবার মঞ্চ ফিনালিসিমা।

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল) ও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) আবারো আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যকার এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তায় ছিল।

আগের সূচি অনুযায়ী, ম্যাচটি গত ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইলে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কাতারে তা আয়োজন সম্ভব হয়নি। 

কাতারে খেলা না হলে কোথায় হবে, তা নিয়ে পরবর্তীতে একমত হতে পারেনি ফিনালিসিমা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। স্পেনের পক্ষ থেকে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু বিবেচনায় ছিল, আর্জেন্টিনা ভেন্যু হিসেবে চেয়েছিল বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি। 

তবে এখন নতুন করে বছরের শেষ দিকে ফিনালিসিমা আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এতে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দুই দলের আরেকটি লড়াই দেখার সুযোগ পেতে পারেন ফুটবলপ্রেমীরা।

এখনো ম্যাচের তারিখ, ভেন্যু কিংবা আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করা হয়নি। কনমেবল, উয়েফা এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই সবকিছু নিশ্চিত হবে।

তবে মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো। এই সময়ের মধ্যেই ম্যাচটি হতে পারে।

নিউ জার্সিতে গত রবিবার ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। 

বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের ওজনের সমপরিমাণ টমেটো উপহার পেলেন গাভি ও রুইজ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের ওজনের সমপরিমাণ টমেটো উপহার পেলেন গাভি ও রুইজ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। পেয়েছে বিশাল সংবর্ধনা। তারপর খেলোয়াড়রা ফিরেছেন নিজ নিজ শহরে। স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের তারকা গাভি এবং ফাবিয়ান রুইজ নিজ শহরে ফিরে পেয়েছেন এক অভিনব উপহার। তাদের ওজনের সমান টমেটো উপহার দেওয়া হয়েছে দুজনকে।

ইএসপিএন এফসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের লস পালাসিওস ই ভিলাফ্রাঙ্কা নামক ছোট শহরে এই দুই বিশ্বজয়ী তারকাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার গাভি উপহার হিসেবে ৬৮.৫ কেজি টমেটো পেয়েছেন। পিএসজির মিডফিল্ডার তার ওজনের সমান ৮৪.৫ কেজি টমেটো পেয়েছেন।

লস পালাসিওস শহরটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং উন্নতমানের টমেটো উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুযায়ী স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে বড় কোনো সাফল্য অর্জন করলে তাকে এই ‘বম্বন কলোরাডো’  নামের বিখ্যাত টমেটো দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

বিশ্বকাপজয়ী দুই খেলোয়াড়ের সম্মানে শহরের দুটি নগর ফুটবল স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে তাদের নামে রেখেছে। এ ছাড়া স্থানীয় ফুটবল কিংবদন্তি হেসুস নাভাসের সম্মানে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে নগর প্রশাসন। 

ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প

ক্রীড়া ডেস্ক
ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল সফলভাবে আয়োজনের পর ট্রাম্প মনে করছেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা সামর্থ্য জাতিসংঘের উপকারে আসতে পারে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন ইনফান্তিনো বিশ্বের সর্বমহলে সম্মানিত একজন ব্যক্তি। তার মতে, মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে ফিফা সভাপতির।

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির সময়ই ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। গত বছর ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার দেন। এর পর থেকে দুজনের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইনফান্তিনো জাতিসংঘের মহাসচিব হতে আগ্রহী কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া এই পদ পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ নয়। প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে, যেখানে ৫ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি ভেটো দিতে পারে। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। তবেই ইনফান্তিনো মহাসচিব হতে পারবেন।

ইনফান্তিনো বর্তমানে ফিফার সভাপতি হিসেবে বছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৪ কোটি টাকা) আয় করেন। অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার (৫ কোটি টাকা)। ফলে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে গেলে ইনফান্তিনোকে বড় অঙ্কের আর্থিক ছাড় দিতে হবে।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। গুতেরেসের উত্তরসূরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব নেবেন।

বিতর্কে ফ্রান্স তারকা ওলিসে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিতর্কে ফ্রান্স তারকা ওলিসে
ছবি : এক্স

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। তৃতীয় স্থান ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে নজরকাড়া প্লেয়ারদের মধ্যে ছিলেন মাইকেল ওলিসে। এবার মাঠের বাইরের এক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এক জার্মান মহিলা দাবি করেছেন, তাঁর ২০ মাসের কন্যাসন্তানের বাবা ওলিসে। শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। ঘটনাটা কী? কেন বিপাকে ওলিসে?

জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী ফাতিমা জোনব্রিশার জানান, তাঁর সঙ্গে ওলিসের পরিচয় অনেকদিন আগে। ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলতেন তিনি। তখনই ফাতিমার সঙ্গে ওলিসের পরিচয় হয়। এর পরে দু’বছর সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। বিচ্ছেদের প্রায় দু’সপ্তাহ পর ফাতিমা জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।

 

ফাতিমার দাবি, মিউনিখে করা ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, তাঁর মেয়ে আলিয়া নূরের বাবা মাইকেল ওলিসেই। এরপর থেকেই তিনি অভিযোগ করছেন, ওলিসে কখনোই তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা করেননি। কোনোরকম আর্থিক সাহায্যও করেননি।

ফাতিমার অভিযোগ, প্রথমে ওলিসের আইনজীবীরা মাসে ৮৩৬ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯১ হাজার টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ২০০০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) করা হয়। কিন্তু গত দু’বছরে তিনি কোনো টাকাই পাননি বলে দাবি করেছেন। 

তিনি আরো বলেন, ‘আমার সন্তানের প্রতি ওঁর এই নিষ্ঠুর আচরণ আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। ওলিসে সরাসরি কথা বলেন না। সব যোগাযোগই আইনজীবীদের মাধ্যমে করে থাকে।’

ফাতিমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাইকেল ওলিসের আইনি টিম। তাঁদের দাবি, শুরু থেকেই সন্তানের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওলিসে এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো প্রস্তুত তিনি। পাশাপাশি ওলিসের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, ফাতিমা মাসে ৬০ হাজার ইউরো (প্রায় ৬৬ লাখ টাকা) ভরণপোষণ দাবি করেছেন।

ওলিসের কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আইনি বিতর্ক সামনে এলে। ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক অ্যাসিস্টও তাঁর নামে। কিন্তু ফ্রান্স ছিটকে যাওয়ার পরে এই বিতর্কে বিপাকে ওলিসে।