জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন ব্যাপক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষা, প্রশাসন ও সেবার মানোন্নয়নে সময়োপযোগী ও বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছে।
প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছ, গতিশীল ও দ্রুততর করতে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্পষ্ট।
বিশেষ করে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আনা হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, তথ্য-প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও দক্ষ সমন্বয়ের ফলে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রকাশের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে চলেছে।
সম্প্রতি মাত্র ৪২ কর্মদিবসের (ছুটিসহ ৫৩ দিন) মধ্যে ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রশাসনিক গতিশীলতার এক অভূতপূর্ব নজির।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৪২ কর্মদিবসের মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর সংযোজন, তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এই ফলাফল সেশনজট নিরসনের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২০ এপ্রিল ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৮ মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১১ দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রস্তুতের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এবার দেশের ১ হাজার ৯১৫টি কলেজের মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী ৬৪৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রকাশিত ফলাফলে গড় পাসের হার ৯৩.৫৩ শতাংশ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে অঙ্গীকার আমরা গ্রহণ করেছি, দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশ তারই এক বাস্তব প্রতিফলন। স্বচ্ছতা বজায় রেখে মাত্র ৪২ কর্মদিবসের মধ্যে নির্ভুলভাবে ফল প্রকাশ আমাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম বলেন, ‘পরীক্ষা-পরবর্তী প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর সংযোজন, তথ্য যাচাই এবং ফল প্রস্তুতের কাজ সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ে নির্ভুল ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কিভাবে আরো দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
রেকর্ড কম সময়ে ফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত সারাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এমন দ্রুততায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘আগে ফলাফলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন খুব দ্রুত ফল প্রকাশিত হওয়ায় আমাদের পরবর্তী বর্ষের প্রস্তুতি ও একাডেমিক পরিকল্পনা সহজ হয়েছে।’
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আবিদ ইসলাম বলেন, ‘ঈদের দীর্ঘ ছুটির পরও এত দ্রুত ফল প্রকাশ পাবে, তা ভাবিনি। এবার আমাদের আর সময় নষ্ট হয়নি, ফলে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির প্রস্তুতির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনেরাও। তারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একসময় দীর্ঘ সেশনজট ও ফল প্রকাশের বিলম্বের জন্য সমালোচিত হতো। তবে সাম্প্রতিককালে প্রশাসনের সদিচ্ছা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মদক্ষতার কারণে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ৪২ কর্মদিবসে ফল প্রকাশ অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে। এই অর্জন দেশের বৃহৎ শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।