• ই-পেপার

মাত্র একটি খাবারেই মুক্তি মিলবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে

ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ১০ চিত্রকর্ম

সৈয়দা আশাপূর্ণা
ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ১০ চিত্রকর্ম
নিলামে বিক্রি হওয়া ভ্যান গঘের সেরা ১০টি সবচেয়ে দামি চিত্রকর্ম।

জীবদ্দশায় দারিদ্র্য ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ বেঁচে থাকতে বিক্রি করতে পেরেছিলেন মাত্র একটি চিত্রকর্ম! অথচ মৃত্যুর শতবর্ষ পেরিয়ে আজ আন্তর্জাতিক নিলাম বাজারে ক্যানভাসে আঁকা তার একেকটি তুলির আচর মানেই শত শত কোটি টাকার মহাকাব্য। আর্ট সংগ্রাহকদের হাত ঘুরে বছরে দু-একটি ছবি আলোয় এলেই সেখানে তৈরি হয় টাকার পাহাড় আর নতুন ইতিহাস।

সম্প্রতি ভ্যান গঘের চিত্রকর্ম নিয়ে প্রকাশিত এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিলামের ইতিহাসে তার সবচেয়ে দামি ১০টি ছবির প্রতিটির মূল্যই চোখধাঁধানো ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে—বাংলা টাকায় যা প্রায় ছয়শো কোটি টাকারও বেশি!

তবে এই নিলামযুদ্ধের সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো—ভ্যান গঘ নাম বললেই চোখে ভেসে ওঠা বিশ্বখ্যাত ‘সানফ্লাওয়ার্স’ (সূর্যমুখী) স্থানই পায়নি সেরা ১০ দামি ছবির তালিকায়!

ক্যানভাসের ক্যানভাস টপকে কোটি টাকার রেকর্ড গড়ে তোলা ভ্যান গঘের সেই ১০টি মাস্টারপিসের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১০. ল্যান্ডস্কেপ আন্ডার স্টর্মি স্কাই ($৫৪ মিলিয়ন / প্রায় ৬ ৪৮ কোটি টাকা)

hhhh
ভ্যান গঘের ‘ল্যান্ডস্কেপ আন্ডার স্টর্মি স্কাই’ (এপ্রিল ১৮৮৯)

নিজের কান কাটার পর এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ১৮৮৯ সালের এপ্রিলে আরলেসে বসে এই ছবিটি একেছিলেন ভ্যান গঘ। বসন্তের ফুলে ভরা সবুজ মাঠ, বাম পাশে হেঁটে যাওয়া একটি দম্পতি এবং ওপরে এক নাটকীয় আকাশ ফুটে উঠেছে এই ক্যানভাসে। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের সোদেবিসে এটি ৫৪ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়।

৯. আইরিসেস ($৫৪ মিলিয়ন / প্রায় ৬ ৪৮ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘আইরিসেস’ (মে ১৮৮৯)

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় ভ্যান গঘের আঁকা প্রথম ছবিগুলোর একটি ‘আইরিসেস’ (মে ১৮৮৯)। ১৯৮৭ সালে সোদেবিসে এটি ৫৪ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হলেও বিজয়ী ক্রেতা অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী অ্যালান বন্ড অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ‘জে. পল গেটি মিউজিয়াম’ প্রাইভেট চুক্তিতে ছবিটি কিনে নেয়।

৮. পপিস অ্যান্ড ডেইজিস ($৬২ মিলিয়ন / প্রায় ৭৪৪ কোটি টাকা)

nnn
ভ্যান গঘের ‘পপিস অ্যান্ড ডেইজিস’ (জুন ১৮৯০)

১৮৯০ সালে আত্মহত্যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই রঙিন স্থিরচিত্রটি (Still Life) শেষ করেছিলেন শিল্পী। ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের সোদেবিসে এটি ৬২ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। ছবিটি কিনে নেন চীনের বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়াং ঝংজুন।

৭. প্যারিসিয়ান নভেলস ($৬৩ মিলিয়ন / প্রায় ৭৫৬ কোটি টাকা)

hh
ভ্যান গঘের ‘প্যারিসিয়ান নভেলস’ (নভেম্বর-ডিসেম্বর ১৮৮৭)

টেবিলে ছড়িয়ে থাকা হলুদ প্রচ্ছদের বই নিয়ে আঁকা চিত্রকর্মটি ২০২৫ সালের শেষে সোদেবিসের নিলামে ৬৩ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। সাধারণত প্রোভেন্স পর্বের ছবিগুলো চড়া দামে বিক্রি হলেও, এটি ভ্যান গঘের প্যারিস পর্বের ছবির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এটিও একজন এশীয় ক্রেতার কাছে গেছে বলে জানা যায়।

৬. দ্য এভিনিউ অব লে অ্যালিসক্যাম্পস ($৬৬ মিলিয়ন / প্রায় ৭৯২ কোটি টাকা)

jjj
ভ্যান গঘের ‘দ্য এভিনিউ অব লে অ্যালিসক্যাম্পস’ (নভেম্বর ১৮৮৮)

বন্ধু পল গগ্যাঁ আরলেসে আসার মাত্র কয়েক দিন পর ছবিটি এঁকেছিলেন ভ্যান গঘ। ২০০৩ সালে যা ক্রিস্টিসে মাত্র ১২ মিলিয়নে বিক্রি হয়েছিল, ২০১৫ সালের সোদেবিস নিলামে তার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ মিলিয়ন ডালারে! পাঁচ গুণেরও বেশি দামে ছবিটি কিনে নেন এক বেনামী চীনা সংগ্রাহক।

৫. উডেন কেবিনস এমং দ্য অলিভ ট্রিস অ্যান্ড সাইপ্রেসেস ($৭১ মিলিয়ন / প্রায় ৮৫২ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘উডেন কেবিনস এমং দ্য অলিভ ট্রিস অ্যান্ড সাইপ্রেসেস’ (অক্টোবর ১৮৮৯)

জলপাই গাছ ও সাইপ্রেসের মাঝে কাঠের কুঁড়েঘরের এই অসাধারণ ও কম পরিচিত ল্যান্ডস্কেপ চিত্রকর্মটি ২০২১ সালে ক্রিস্টিসের নিলামে ৭১ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। এটি লন্ডনের এক আর্ট অ্যাডভাইজরি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গোপন এক সংগ্রাহক কিনে নেন।

৪. সেলফ-পোর্ট্রেট উইদাউট আ বিয়ার্ড ($৭২ মিলিয়ন / প্রায় ৮৬৪ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘সেলফ-পোর্ট্রেট উইদাউট আ বিয়ার্ড’ (সেপ্টেম্বর ১৮৮৯)

১৯৯৮ সালে যখন এটি নিলামে ওঠে, তখন ‘দাড়ি ছাড়া আত্মপ্রতিকৃতি’ ছবিটির দাম ৭২ মিলিয়ন ডালারে পৌঁছেছিল (আজকের হিসেবে যা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বা ১৮০০ কোটি টাকা)। ভ্যান গঘের মাত্র দুটি আত্মপ্রতিকৃতি এখন ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। এটি তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে বসে তার মায়ের ৭০তম জন্মদিনের উপহার হিসেবে এঁকেছিলেন।

৩. লেবারার ইন আ ফিল্ড ($৮১ মিলিয়ন / প্রায় ৯৭২ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের ‘লেবারার ইন আ ফিল্ড’ (সেপ্টেম্বর ১৮৮৯)

আশ্রয়কেন্দ্রের শোবার ঘরের জানালার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবি টি এঁকেছিলেন ভ্যান গঘ। প্রখর সূর্যের নিচে এক চাষী কাজ করছেন—এমন দৃশ্য সংবলিত এই ছবিটি ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিসে ৮১ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়।

২. পোর্ট্রেট অব ডা. পল গ্যশে ($৮৩ মিলিয়ন / প্রায় ৯৯৬ কোটি টাকা)

yy
ভ্যান গঘের ‘পোর্ট্রেট অব ডা. পল গ্যশে’ (জুন ১৮৯০)

দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ছবির রেকর্ড ধরে রেখেছিল এটি। ১৯৯০ সালে ক্রিস্টিসের নিলামে ৮৩ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়ে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে দামি শিল্পের রেকর্ড গড়েছিল। মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে আজকের দিনে এর প্রকৃত দাম দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫২০ কোটি টাকা)! ফলে প্রকৃত মূল্যের বিচারে এটিই এখনও সবচেয়ে দামি ভ্যান গঘ।

১. অর্চার্ড উইথ সাইপ্রেসেস ($১১৭ মিলিয়ন / প্রায় ১৪০৪ কোটি টাকা)

ll
ভ্যান গঘের 'অর্চার্ড উইথ সাইপ্রেসেস' (এপ্রিল ১৮৮৮)

২০২২ সালে নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিসে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত পল অ্যালেনের সংগ্রহ থেকে ছবিটি ১১৭ মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হয়। ১৮৮৮ সালে আরলেসে পৌঁছানোর পর বসন্তের ফুল নিয়ে আঁকা সিরিজের অংশ এটি। বর্তমানে এটিই ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি চিত্রকর্মের শীর্ষে অবস্থান করছে।

তালিকায় কেন নেই ‘সানফ্লাওয়ার্স’?

tgtg
ভ্যান গঘের ‘সানফ্লাওয়ার্স’ (জানুয়ারি ১৮৮৯)

১৯৮৭ সালে যখন লন্ডনে ভ্যান গঘের বিখ্যাত ‘সানফ্লাওয়ার্স’ (সূর্যমুখী) নিলামে ওঠে, তখন সেটি বিক্রি হয়েছিল ৪০ মিলিয়ন ডালারে (বাংলা টাকায় প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা)। তৎকালীন সময়ে যেকোনো আধুনিক আর্টের জন্য এটি রেকর্ড সৃষ্টি করলেও, পরবর্তী দশকগুলোতে চিত্রকর্মের বাজার দর বহু গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি মূল শীর্ষ ১০ থেকে পিছিয়ে পড়েছে। ছবিটি বর্তমানে টোকিওর ‘সোম্পো মিউজিয়াম অব আর্ট’-এ সংরক্ষিত রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি যদি আবার কখনো নিলামে ওঠে, তবে নিশ্চিতভাবেই কয়েকশো মিলিয়ন ডালারে বিক্রি হবে।

প্রেমের সম্পর্কে নিখুঁত নয়, নিজের আসল রূপ দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রেমের সম্পর্কে নিখুঁত নয়, নিজের আসল রূপ দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে
সংগৃহীত ছবি

ডেটিং বা প্রেমের সম্পর্কে শুরুতেই অনেকেই নিজেকে যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নিজের দুর্বলতা, অদ্ভুত অভ্যাস কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু এখন জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন একটি ডেটিং ট্রেন্ড ‘গবলিনটিমেসি’। এই ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—অভিনয় নয়, নিজের বাস্তব রূপ নিয়েই সম্পর্ক শুরু করা।

সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এই ধারণা মানুষকে শুরু থেকেই নিজের ভালো-মন্দ, অভ্যাস, অপূর্ণতা এবং ব্যক্তিত্বের বাস্তব দিকগুলো সৎভাবে তুলে ধরতে উৎসাহ দেয়। এতে নিজেকে অন্য কারো মতো দেখানোর চাপ কমে। একই সঙ্গে সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে, কারণ শুরু থেকেই দুজন মানুষ একে অপরকে বাস্তবভাবে চিনতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানী রাশি গুরনানি বলেন, সম্পর্কে সৎ থাকলে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চাপ কমে যায়। এতে মানসিক স্বস্তি বাড়ে এবং সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের অনুভূতি তৈরি হয়। পাশাপাশি দুজন মানুষ একে অপরের সঙ্গে মানানসই কি না, সেটিও শুরুতেই অনেকটা বোঝা যায়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সৎ থাকা আর সব ব্যক্তিগত বিষয় একসঙ্গে বলে ফেলা এক নয়। পরিচয়ের শুরুতেই নিজের সব কষ্ট, অতীতের অভিজ্ঞতা বা ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিশ্বাস তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কে সত্যবাদিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা—এই তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ ও জীবনধারা সম্পর্কে সৎ থাকুন। তবে অপর পক্ষের ব্যক্তিগত পরিসরকেও সম্মান করুন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে অনেকেই নিজেদের জীবনকে নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে বাস্তব জীবনের সঙ্গে অনলাইনের ছবির মিল না থাকলে সম্পর্কে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই এখন অনেকেই এমন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেখানে ভান নয়, বাস্তব মানুষটিকেই গ্রহণ করা হয়।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—

সব সময় ‘পারফেক্ট’ দেখানোর মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া।
শুরুতেই দুজনের মানসিক ও ব্যক্তিত্বগত মিল বোঝা সহজ হওয়া।
সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় অভিনয় বা লুকোছাপা কমে যাওয়া।
দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়া।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, নিজের মতো থাকা মানে সবকিছু একদিনেই প্রকাশ করে দেওয়া নয়। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সময়, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপর। তাই নিজের আসল রূপ দেখানোর পাশাপাশি ধৈর্য ও ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ডেটিং অ্যাপ নয়, জীবনসঙ্গী খুঁজতে বাড়ছে ম্যাচমেকিংয়ের প্রতি আস্থা

জীবনযাপন ডেস্ক
ডেটিং অ্যাপ নয়, জীবনসঙ্গী খুঁজতে বাড়ছে ম্যাচমেকিংয়ের প্রতি আস্থা
ছবিঃ এআই জেনারেটেড

ডেটিং অ্যাপে অসংখ্য প্রোফাইল। একের পর এক ডান-বাম সুইপ। কিন্তু এত বিকল্পের মাঝেও অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না উপযুক্ত জীবনসঙ্গী। অনেকের মতে, শুধু ছবি আর ছোট্ট পরিচিতি দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই সংস্কৃতি মানুষকে আরো একা করে দিচ্ছে। তাই আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত আধুনিক ম্যাচমেকিং সেবা।

সোমবার (২০ জুলাই) দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে যারা বিয়ের উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক খুঁজছেন, তাদের মধ্যে এই সেবার চাহিদা বাড়ছে। কারণ, এখানে শুধু ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, জীবনধারা, পারিবারিক পরিবেশ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কর্মব্যস্ততা, বিদেশে বসবাস, ছোট হয়ে আসা সামাজিক পরিসর এবং অনলাইননির্ভর জীবনযাত্রার কারণে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় কমে গেছে। আবার প্রচলিত ঘটক ব্যবস্থায় অনেক সময় পরিবারের প্রভাব বেশি থাকে। এই দুই বাস্তবতার মাঝামাঝি সমাধান হিসেবেই আধুনিক ম্যাচমেকিং সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

বাংলাদেশে এমনই একটি ম্যাচমেকিং প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা নেরিসা নাশিন। তিনি জানান, এক বন্ধুর জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। পরে ইনস্টাগ্রামে আগ্রহ যাচাই করতে একটি স্টোরি দিলে মাত্র এক ঘণ্টায় ৭০টি সাড়া পান। প্রতিষ্ঠান চালুর আগেই ১৫০ জন নিবন্ধন করেন। কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি।

নেরিসা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শুধু অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে না। প্রতিটি প্রোফাইল মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। লিংকডইন, বায়োডাটা, ছবি, ভয়েস নোটসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য মিল খোঁজা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হয়।

তার মতে, শুধু শিক্ষা, চাকরি বা পেশা মিললেই একটি সম্পর্ক সফল হয় না। জীবনযাপন, পারিবারিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মিলও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়া হয়।

বর্তমানে একটি সম্ভাব্য মিল খুঁজে পেতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না হলে সেটিও গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়।

নেরিসার দাবি, শুধু বাংলাদেশ নয়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও চীনে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও তাদের এই সেবা নিচ্ছেন। বিদেশে থেকেও একই ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জীবনসঙ্গী খুঁজতে অনেকেই এমন প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটিং অ্যাপে মানুষ খুব দ্রুত অন্যকে বিচার করে ফেলেন। অনেক সময় একটি ছবি বা কয়েকটি লাইনের পরিচিতি দেখেই কাউকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এতে একজন মানুষকে গভীরভাবে জানার সুযোগ কমে যায়।

 

অন্যদিকে, আধুনিক ম্যাচমেকিং সেবায় সময় নিয়ে দুইজন মানুষের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ডেটিং অ্যাপ বা ম্যাচমেকিং—কোনোটিই সফল সম্পর্কের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। একটি সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, খোলামেলা যোগাযোগ এবং একে অপরকে বোঝার মানসিকতার ওপর।

বাড়ি-অফিসের বাইরে ‘তৃতীয় জায়গা’, একাকিত্ব কমানোর নতুন উপায়?

জীবনযাপন ডেস্ক
বাড়ি-অফিসের বাইরে ‘তৃতীয় জায়গা’, একাকিত্ব কমানোর নতুন উপায়?
ছবিঃ এআই জেনারেটেড

সারা দিনের কাজ শেষে অনেকেই বাড়ি ফিরে যান। আবার কেউ সময় কাটান ক্যাফে, লাইব্রেরি, পার্ক বা চায়ের দোকানে। এসব জায়গায় না থাকে অফিসের চাপ, না থাকে বাড়ির দায়িত্ব। শুধু একটু স্বস্তি, গল্প আর নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন জায়গাগুলোই হতে পারে একাকিত্ব কমানোর কার্যকর উপায়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা এই জায়গাগুলোকে ‘থার্ড স্পেস’বা ‘তৃতীয় জায়গা’বলেন। অর্থাৎ, বাড়ি ও কর্মস্থলের বাইরে এমন একটি নিরপেক্ষ জায়গা, যেখানে মানুষ কোনো চাপ ছাড়াই সময় কাটাতে পারে, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে বা শুধু কিছুক্ষণ নিজের মতো থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ও স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষক নারগিজা নইমান জান্ডার বলেন, থার্ড স্পেসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কাউকে কিছু প্রমাণ করতে হয় না। কেউ চাইলে একা আসতে পারেন, কিছুক্ষণ থাকতে পারেন বা নিয়মিত যাতায়াত করতে পারেন। ধীরে ধীরে সেখানকার মানুষের সঙ্গে পরিচিতিও তৈরি হয়।

এ ধরনের জায়গা নতুন কিছু নয়। আগে বাজার, চায়ের দোকান, লাইব্রেরি, পার্ক, ধর্মীয় প্রাঙ্গণ বা পাড়ার আড্ডার স্থানগুলোও মানুষের জন্য এমন সামাজিক মিলনকেন্দ্র ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনকার ব্যস্ত জীবন, দূর থেকে কাজের সুযোগ এবং মোবাইলনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি একা হয়ে পড়ছে। অনলাইনে সংযুক্ত থাকলেও বাস্তব জীবনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কমে যাচ্ছে।

২০২৬ সালের এক বৈশ্বিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে একাকী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিবারে একসঙ্গে থাকলেও অনেক মানুষ মানসিকভাবে নিজেকে একা অনুভব করেন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব শুধু মন খারাপের কারণ নয়। এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তাই তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কাছের বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো, কোনো বইপাঠের আসর, দৌড় ক্লাব বা স্থানীয় কোনো কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য শুধু ভালো খাবার বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন কিছু জায়গা, যেখানে মানুষ বিচারহীনভাবে কথা বলতে পারে, অন্যের কথা শুনতে পারে এবং নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটাতে পারে। অনেক সময় এমন ছোট ছোট সামাজিক যোগাযোগই একাকিত্ব দূর করার বড় শক্তি হয়ে ওঠে।