• ই-পেপার

ভ্যান গঘের সবচেয়ে দামি ১০ চিত্রকর্ম

জাতীয় আম দিবস আজ, ফলের রাজাকে ঘিরে যত জানা-অজানা

জীবনযাপন ডেস্ক
জাতীয় আম দিবস আজ, ফলের রাজাকে ঘিরে যত জানা-অজানা
সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলের নাম আম। স্বাদ, গন্ধ আর পুষ্টিগুণে ছোট-বড় সবার কাছেই এটি প্রিয়। শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেও আমকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। সেই গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ২২ জুলাই পালিত হয় জাতীয় আম দিবস।

দিবসটির সূচনা ভারতে হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ম্যাঙ্গো বোর্ড এটি উদযাপনে যুক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালন করা হয়।

ইতিহাস বলছে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতে প্রথম আমের চাষ শুরু হয়। পরে মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আম মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আম উৎপাদন হয় ভারতে।

বাংলাদেশ রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়। আর চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। 

আম শুধু একটি ফল নয়, অনেক দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের জাতীয় ফল হলো আম। আর বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ।

বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে আতাউলফো (হানি ম্যাঙ্গো), হেডেন, আরউইন ও টমি অ্যাটকিনস আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। কোনো আম খুব মিষ্টি, কোনোটি টক-মিষ্টি, আবার কোনোটি স্মুদি বা জুস তৈরির জন্য বেশি উপযোগী।

স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ আম। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একটি আম শরীরের দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর বড় অংশ পূরণ করতে পারে। এসব পুষ্টি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে।

বিশ্বে বছরে প্রায় ২ কোটি টন আম উৎপাদিত হয়। একটি আমগাছ ১০০ থেকে ১৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আবার অনেক আমগাছ ৩০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে ফল দিতে পারে।

ভারতে আমের ঝুড়ি বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। দেশটিতে ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর দিল্লিতে আন্তর্জাতিক আম উৎসবও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই দিবস উদযাপনের সহজ উপায় হলো প্রিয়জনদের সঙ্গে আম খাওয়া, নতুন নতুন আমের রেসিপি তৈরি করা বা স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত আম কেনা। চাইলে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ছোট্ট একটি 'ম্যাঙ্গো পার্টি'ও আয়োজন করা যেতে পারে।

জাতীয় আম দিবস শুধু একটি ফল উদযাপনের দিন নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি ফলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ, কৃষকের জীবিকা এবং সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ গল্প।

আধুনিক জীবনের জন্য তৈরি নয় মানুষের মস্তিষ্ক, বলছেন বিজ্ঞানীরা

জীবনযাপন ডেস্ক
আধুনিক জীবনের জন্য তৈরি নয় মানুষের মস্তিষ্ক, বলছেন বিজ্ঞানীরা
সংগৃহীত ছবি

আজকের দ্রুতগতির জীবন, সারাক্ষণ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারছে না। সিঙ্গাপুরের একদল গবেষকের নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক আজকের আধুনিক পরিবেশে নয়, বরং হাজার হাজার বছর আগে ছোট ছোট দল বা সম্প্রদায়ে বসবাসের পরিবেশে গড়ে উঠেছে। তখন মানুষের সামনে ছিল সীমিত মানুষ, পরিচিত পরিবেশ এবং তাৎক্ষণিক সমস্যার মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু এখনকার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বড় শহরের ব্যস্ততা, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা মানুষের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।

গবেষকদের মতে, এ কারণেই বর্তমানে অনেক মানুষ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং ক্লান্তিতে ভুগছেন। তাদের ভাষায়, এসব সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে নয়। মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে, আধুনিক জীবন তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মহামারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি—সব মিলিয়ে মানুষের ওপর একসঙ্গে নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে অনিরাপত্তাবোধ বাড়ছে, প্রতিযোগিতার চাপও বাড়ছে। অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত বা বার্নআউটের শিকার হচ্ছেন।

গবেষকদের পরামর্শ, মানুষের মানসিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে শহর, কর্মস্থল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিকল্পনা করা উচিত। শহরে আরো সবুজ জায়গা, কম চাপের পরিবেশ এবং এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দরকার, যেখানে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা কম থাকবে। এতে মানুষের মানসিক সুস্থতা উন্নত হতে পারে।

তবে গবেষকরা বলেছেন, এই বিষয়ে আরো বাস্তবভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, মানুষের বিবর্তন এবং আধুনিক জীবনের পার্থক্য ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় আরো কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হবে।

মাত্র একটি খাবারেই মুক্তি মিলবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে

অনলাইন ডেস্ক
মাত্র একটি খাবারেই মুক্তি মিলবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান, আঁশযুক্ত খাবারের অভাব কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। কখনো ওষুধের প্রয়োজন হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং কিছু প্রাকৃতিক খাবারই স্বস্তি দিতে পারে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস

ভারতের পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এমন একটি খাবারের কথা জানিয়েছেন, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাকৃতিক জোলাপের মতো কাজ করতে পারে। তার মতে, শুকনো কালো আলুবোখারা নিয়মিত খেলে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

কেন উপকারী শুকনো আলুবোখারা

দীপশিখা জৈনের ভাষ্য, শুকনো কালো আলুবোখারায় সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। এটি মলকে নরম করতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে। এ কারণে অনেকেই একে প্রাকৃতিক জোলাপ হিসেবে বিবেচনা করেন। শুকনো আলুবোখারা মূলত সংরক্ষণের জন্য পানি শূন্য করা বরইজাতীয় ফল। এটি রান্নায়, বিশেষ করে বিরিয়ানি বা বিভিন্ন মাংসের পদে ব্যবহার করা হলেও স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে এটি আলাদাভাবে খাওয়াই ভালো বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ।

দীপশিখা জৈনের পরামর্শ, চার থেকে পাঁচটি শুকনো কালো আলুবোখারা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

আলুবোখারার অন্যান্য উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে শুকনো আলুবোখারা খেলে—

  • হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
  • শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান দেয়।
  • অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ও মূত্রথলির সমস্যায় উপকার পেতে পারেন।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, তীব্র পেটব্যথা, রক্তপাত বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রেমের সম্পর্কে নিখুঁত নয়, নিজের আসল রূপ দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রেমের সম্পর্কে নিখুঁত নয়, নিজের আসল রূপ দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে
সংগৃহীত ছবি

ডেটিং বা প্রেমের সম্পর্কে শুরুতেই অনেকেই নিজেকে যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নিজের দুর্বলতা, অদ্ভুত অভ্যাস কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু এখন জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন একটি ডেটিং ট্রেন্ড ‘গবলিনটিমেসি’। এই ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—অভিনয় নয়, নিজের বাস্তব রূপ নিয়েই সম্পর্ক শুরু করা।

সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এই ধারণা মানুষকে শুরু থেকেই নিজের ভালো-মন্দ, অভ্যাস, অপূর্ণতা এবং ব্যক্তিত্বের বাস্তব দিকগুলো সৎভাবে তুলে ধরতে উৎসাহ দেয়। এতে নিজেকে অন্য কারো মতো দেখানোর চাপ কমে। একই সঙ্গে সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে, কারণ শুরু থেকেই দুজন মানুষ একে অপরকে বাস্তবভাবে চিনতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানী রাশি গুরনানি বলেন, সম্পর্কে সৎ থাকলে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চাপ কমে যায়। এতে মানসিক স্বস্তি বাড়ে এবং সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের অনুভূতি তৈরি হয়। পাশাপাশি দুজন মানুষ একে অপরের সঙ্গে মানানসই কি না, সেটিও শুরুতেই অনেকটা বোঝা যায়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সৎ থাকা আর সব ব্যক্তিগত বিষয় একসঙ্গে বলে ফেলা এক নয়। পরিচয়ের শুরুতেই নিজের সব কষ্ট, অতীতের অভিজ্ঞতা বা ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিশ্বাস তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কে সত্যবাদিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা—এই তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ ও জীবনধারা সম্পর্কে সৎ থাকুন। তবে অপর পক্ষের ব্যক্তিগত পরিসরকেও সম্মান করুন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে অনেকেই নিজেদের জীবনকে নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে বাস্তব জীবনের সঙ্গে অনলাইনের ছবির মিল না থাকলে সম্পর্কে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই এখন অনেকেই এমন সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেখানে ভান নয়, বাস্তব মানুষটিকেই গ্রহণ করা হয়।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ট্রেন্ড?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—

সব সময় ‘পারফেক্ট’ দেখানোর মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া।
শুরুতেই দুজনের মানসিক ও ব্যক্তিত্বগত মিল বোঝা সহজ হওয়া।
সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় অভিনয় বা লুকোছাপা কমে যাওয়া।
দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়া।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, নিজের মতো থাকা মানে সবকিছু একদিনেই প্রকাশ করে দেওয়া নয়। সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সময়, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপর। তাই নিজের আসল রূপ দেখানোর পাশাপাশি ধৈর্য ও ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।