বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মেসি-মার্তিনেজদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে এএফএর আইনজীবীরা কাজ শুরু করেছেন এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং বিশেষ করে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ভিত্তিহীন অভিযোগ, বিকৃত ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এএফএর দাবি, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল মেসির দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা। এ কারণে সংস্থাটির আইনজীবীরা ভুয়া তথ্য ছড়ানো পোস্ট, সম্পাদিত ছবি এবং মানহানিকর কনটেন্টের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন।
প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে মানহানিসহ সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি।
এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনায় আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। তবে সেই শৃঙ্খলাজনিত তদন্তের সঙ্গে এএফএর আইনি পদক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই।
এএফএ নেটিজেনদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চললেও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো অমূলক নয়।
এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠে বির্তকিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা। মাত্রই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট হারানো দলটিকে ফিফা বিশেষ সুবিধা দিয়েছে—এমন অভিযোগ বারবার করা হয়েছে।
আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও লিওনেল মেসি কোনো কার্ড না দেখায় বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন অভিযোগ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বির্তক হয়েছে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে। ফাউলের কারণে মিসরের গোল বাতিল করা হলেও একই কারণে আর্জেন্টিনার গোলকে ঠিকই বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
এরপর ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানো নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। এমবোলোকে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল বলেই আর্জেন্টিনা পরবর্তীতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।