• ই-পেপার

ইংলিশ ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের পক্ষে বাজি ধরে কত টাকা জিতলেন মিয়া খলিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের পক্ষে বাজি ধরে কত টাকা জিতলেন মিয়া খলিফা
বিশ্বকাপের খেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসেই দেখেছেন মিয়া খলিফা। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের শিরোপা জয়ের ওপর ১০ লাখ মার্কিন ডলার (১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা) বাজি ধরে বড় অংকের অর্থ জিতে আলোচনায় এসেছেন সাবেক পর্নো অভিনেত্রী ও বর্তমান কনটেন্ট নির্মাতা মিয়া খলিফা।

রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসেই আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল দেখেছেন মিয়া খলিফা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, স্পেন বিশ্বকাপ জিতবে—এমন বিশ্বাসে ১.৬৫ অডসে ১০ লাখ ডলার বাজি ধরেছিলেন।

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর ফলে মিয়া খলিফা বাজি ধরে সফল হন এবং তিনি মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার (২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা) ফেরত পান। অর্থাৎ, তার লাভ হয় ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার (৮ কোটি ৩ লাখ টাকা)।

ফাইনাল শেষে ইন্সটাগ্রামে বাজির রসিদ ও স্টেডিয়ামের কয়েকটি ছবি শেয়ার করে মিয়া খলিফা লেখেন, ‘বিশ্বাস রেখেছিলাম, বড় কিছু জিতেছি। আমার দেশ স্পেন নিয়ে খুবই গর্বিত (যদিও আমার শরীরে স্প্যানিশ রক্তের এক ফোঁটাও নেই)।’

মিয়া খলিফার জন্ম ১৯৯৩ সালে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে। ২০০১ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। লেবানন-যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই নাগরিকত্ব আছে তার। 

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে দলই খেলেছে, মিয়া খলিফা সেই দলকে সমর্থন দিয়েছেন। ফাইনালে আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জিতলেও শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে স্পেনের সঙ্গে পেরে ওঠেনি লিওনেল মেসির দল। 

অবশ্য বাজি জিতে মিয়া খলিফার বিপুল অর্থ পাওয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজিতে লাগানো ১০ লাখ ডলারের পুরোটা তার ব্যক্তিগত অর্থ ছিল কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

কারণ, বিশ্বকাপ চলাকালে মিয়া খলিফা একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের ভিআইপি অতিথি ছিলেন এবং তাদের লোগো ও অ্যাপ ব্যবহার করে বাজির তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। ফলে এটি কোনো প্রচারণামূলক কার্যক্রমের অংশ ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

নতুন টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কের নাম ঘোষণা করল আফগানিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক
নতুন টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কের নাম ঘোষণা করল আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের টেস্ট ও ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক রহমত শাহ। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকেই দুই সংস্করণের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে। 

আজ বুধবার (২২ জুলাই) এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এক দিন আগেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান সদ্য সাবেক অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি।

শহীদির নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে আফগানিস্তান। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলটি বেশ কয়েকটি স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফগানরা।

তবে ২০২৭ সালে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন শহীদি।

এ ব্যাপারে এসিবি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হাশমতউল্লাহ শহীদি যে নিষ্ঠা, নেতৃত্ব ও মূল্যবান অবদান রেখেছেন, সেজন্য আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমরা তার ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভ কামনা জানাই। একই সঙ্গে নতুন অধিনায়ক রহমত শাহ জুরমাতাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং তার নেতৃত্বে দলের সাফল্য কামনা করছি।’

Rahmat
আফগানিস্তানের নতুন টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক রহমত শাহ। ছবি: আইসিসি

৩৩ বছর বয়সী রহমত শাহর অধিনায়ক হওয়াটা অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। ২০২১ সালের মে মাসে শহীদি অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই তিনি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়া টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।

নতুন নেতৃত্ব কাঠামোয় উইকেটকিপার-ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে রহমত শাহর প্রথম ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ আগস্টে আয়ারল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। 

এর আগে গত মার্চে তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খানকে সরিয়ে টপ অর্ডার ব্যাটার ইব্রাহিম জাদরানকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক বানায় আফগানিস্তান।  

রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন ‘আর্জেন্টিনার মাস্তান’

ক্রীড়া ডেস্ক
রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন ‘আর্জেন্টিনার মাস্তান’

আর্জেন্টাইন তরুণ তারকা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোকে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন কোচ জোসে মরিনহো এতে সম্মতি দিয়েছেন। গত মৌসুমে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর প্রত্যাশামাফিক একাদশে সুযোগ পাননি এই ১৮ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। মরিনহোর নতুন পরিকল্পনায় নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৮ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তাই তরুণ এই প্রতিভার ওপর আস্থা থেকেই পর্যাপ্ত ম্যাচ টাইম ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিতে কেনার অপশন ছাড়া সরাসরি ধারে অন্য ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। 

এতে রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের ওপর নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চায়। গত মৌসুমে এন্ড্রিকের ক্ষেত্রেও তারা একই নীতি অনুসরণ করেছিল।

মাস্তানতুওনো ধারে যাওয়ার খবর সামনে আসতেই লা লিগা এবং ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। মাদ্রিদের প্রথম পছন্দও স্পেনের কোনো ক্লাবেই থাকুক এই আর্জেন্টাইন। বর্তমানে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়াল এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।

এদিকে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহাম মাস্তান্তুওনোকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া পর্তুগালের দুই পরাশক্তি বেনফিকা ও স্পোর্টিং লিসবনসহ ইতালির কিছু ক্লাবও তার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

খেলোয়াড় এবং রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আলোচনা করে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তার নতুন গন্তব্য চূড়ান্ত করবে।

মেসি-মার্তিনেজদের নিয়ে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি-মার্তিনেজদের নিয়ে অপপ্রচার, আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপজুড়ে মেসিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে দাবি আর্জেন্টিনার। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মেসি-মার্তিনেজদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। 

আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লা নাসিওনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে এএফএর আইনজীবীরা কাজ শুরু করেছেন এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং বিশেষ করে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ভিত্তিহীন অভিযোগ, বিকৃত ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এএফএর দাবি, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল মেসির দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা। এ কারণে সংস্থাটির আইনজীবীরা ভুয়া তথ্য ছড়ানো পোস্ট, সম্পাদিত ছবি এবং মানহানিকর কনটেন্টের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। 

প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে মানহানিসহ সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি।

এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনায় আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। তবে সেই শৃঙ্খলাজনিত তদন্তের সঙ্গে এএফএর আইনি পদক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই। 

এএফএ নেটিজেনদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চললেও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো অমূলক নয়। 

এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মাঠে বির্তকিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিল আর্জেন্টিনা। মাত্রই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট হারানো দলটিকে ফিফা বিশেষ সুবিধা দিয়েছে—এমন অভিযোগ বারবার করা হয়েছে। 

আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও লিওনেল মেসি কোনো কার্ড না দেখায় বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন অভিযোগ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বির্তক হয়েছে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে। ফাউলের কারণে মিসরের গোল বাতিল করা হলেও একই কারণে আর্জেন্টিনার গোলকে ঠিকই বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

এরপর ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানো নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। এমবোলোকে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল বলেই আর্জেন্টিনা পরবর্তীতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।