টানা বৃষ্টিতে পুরোদমে রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর নিয়ামতপুরের কৃষক। জমি প্রস্তুত, আগাছা পরিষ্কার, বৃষ্টির পানি জমিতে সংরক্ষণ করা, সার দেওয়াসহ নানা কাজে এখন দারুণ ব্যস্ত তারা।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে দুই দিন সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় সেচবিহীন কম খরচে আমন ধান চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। সময়মতো বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণে নেমে পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৩১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮ মেট্রিক টন।
এবার উপজেলায় স্বর্ণা ব্রি ধান ৩৪, ৪৯, ৫১, ৭৫, ৮৭, ৯০, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ১০৩, বিনা ৭, ১৭, ২০, ২২, ও ২৬ জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে বেশি। ফলন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৫.৭ মেট্রিক টন অর্থাৎ এক লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬৩৬ কোটি ৯৪ লাখ আট হাজার টাকা। দর প্রতিকেজি ৩৬ টাকা।
উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক তোতা জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২৪ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে সব জমিতে চারা রোপণ করা শেষ। আষাঢ় মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টির দেখা না পেলেও তিনি পানি সেচ দিয়ে চারা রোপণের কাজ শুরু করেন। পরে বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় দ্রুত চারা রোপণের কাজ শেষ করেন তিনি।
উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের তুলারবাঐল গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমরা আমন চাষ করি। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় চারা রোপণের কাজ শেষ করছি। এখন শুধু বীজতলা রোপণের কাজ বাকি।
উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের জায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করব। জমি চাষের কাজ শেষ। এখন শুধু চারা রোপণ করতে হবে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় তিন দিন থেকে শ্রমিকের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি। তবু মিলাতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘এখন শ্রমিকের মজুরি চলছে বীজ তোলা থেকে লাগানো পর্যন্ত বিঘাপ্রতি ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা। আমি দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে চাইছি। তবু শ্রমিক পাচ্ছি না।’
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত অনেক কৃষক। এখন পর্যন্ত উপজেলায় কৃষকরা প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষক চারা রোপণ করতে পেরেছে। তবে একটু দেরিতে হলেও শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝিতে চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ হবে। প্রত্যেক ইউনিয়নে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। এখন আর কৃষকের কোনো সমস্যা নেই।