• ই-পেপার

ইরানের হামলায় জর্দানে একাধিক ড্রোনসহ মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’

অনলাইন ডেস্ক
আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’
ছবি : রয়টার্স

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক হয়েছিলেন দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিক্ষোভ চলাকালীন ওই সময় পুলিশ যখন রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নিচ্ছিল, তখন পুলিশ সদস্যরা তার কানে ফিসফিস করে বললেন, ‘এই (মোদি) সরকারকে হটাও।’

দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন রাহুল।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের সামনে চলা বিক্ষোভে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের হস্তক্ষেপেও রাহুল সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে সেখান থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ জোরপূর্বক দুই হাত ও দুই পায়ে ধরে টেনেহিঁচড়ে রাহুল গান্ধীকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় তার নাক থেকে রক্ত ঝরছে।

রাহুলের দাবি, এই হট্টগোলের মধ্যেই পুলিশ সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে মোদি সরকারের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এ সময় তারা আমার কানে কানে বলছিল, এই সরকারকে হটাও। আমি রাজস্থান থেকে এসেছি। আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমরা শুধু গায়ে ইউনিফর্ম পরে আছি।’

এই বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, ‘ওদের (পুলিশের) নির্দেশ মানতে হয়, তাই ওরা তা করছে। যা ঘটছে তাতে পুলিশও খুশি নয়। তারা জানে একটি অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তারা এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের সন্তানদের দেখতে পাচ্ছে।’

যে শর্তে অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
যে শর্তে অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে সুস্পষ্ট একটি শর্ত সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নিলে তিনি অনশন ভাঙার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সরকার এমন স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন চালিয়ে যাবেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংকে লেখা এক চিঠিতে ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাই যে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো তরুণের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আন্দোলনকারীরা কেবল একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আয়োজিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি দিল্লির জন্তর মন্তরে অনশন করছিলেন। 

টানা তিন সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিলেও তিনি অনশন ভাঙতে অস্বীকৃতি জানান। বর্তমানে তিনি গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা ২৫তম দিনের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিঠিতে ওয়াংচুক জানান, নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সম্প্রতি হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে তারা নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করা এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ও জবাবদিহি নিয়ে সংসদে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘সাদা সোনা’র পতনে বিপাকে পাকিস্তানের অর্থনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি
‘সাদা সোনা’র পতনে বিপাকে পাকিস্তানের অর্থনীতি
সংগৃহীত ছবি

একসময় পাকিস্তানের কৃষি ও রপ্তানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল তুলা। দেশটির গ্রামীণ অর্থনীতি, সুতা ও বস্ত্রশিল্প এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ফসল এখন বড় সংকটে। তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় নিজেদের চাহিদা মেটাতে পাকিস্তানকে ক্রমেই বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একসময়ের তুলা উৎপাদনকারী দেশটি এখন বিপুল পরিমাণ তুলা ও সুতা আমদানি করছে।

সংকটের গভীরতা কতটা ভয়াবহ, তা স্পষ্ট হয়েছে সম্প্রতি পাকিস্তানের রেকর্ড পরিমাণ তুলা আমদানির ক্র্যাশ অর্ডারে। স্থানীয় তুলা বাজারে ওঠার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২ লাখা ৬ হাজার বেল তুলা ক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে দেশটি—যা ওই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিক্রির প্রায় পুরোটাই। পাশাপাশি ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও তুলা আমদানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়েছে তারা।

পাকিস্তানে তুলার উৎপাদন একসময় ছিল কয়েক কোটি বেলের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে প্রায় ৫০ লাখ বেলে নেমে এসেছে। ফলে দেশের সুতা ও বস্ত্র কারখানাগুলোকে উৎপাদন চালিয়ে নিতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এটি সাধারণ কোনো ঋতুভিত্তিক ঘাটতি নয়; বরং পাকিস্তানের নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার এক স্পষ্ট দলিল।

পাকিস্তানের তুলা খাত বছরের পর বছর ধরে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হলেও চলতি মৌসুমে তা চরম রূপ নিয়েছে। এক সময়ের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী এই দেশটির উৎপাদন সম্প্রতি নেমে এসেছে মাত্র ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) বেলে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানাগুলো মৌসুমের শুরুতেই বিদেশি কাঁচামালের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

শিল্প খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু চাষের জমি কমে যাওয়াই নয়, বরং সরকারের ভুল নীতিমালা ও গাফিলতিই আজকের এই সংকটের মূল কারণ। সার ও বীজের আকাশছোঁয়া দাম, মানহীন বীজ সরবরাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় কৃষকরা দিশেহারা। 

এ ছাড়া তুলার তুলনায় ধান, ভুট্টা ও আখের মতো ফসলকে অনেক কৃষক বেশি লাভজনক মনে করছেন। ফলে তুলা চাষের জমিও কমছে। কৃষকেরা উচ্চমূল্যের সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে তুলার ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তাও চাষিদের নিরুৎসাহিত করছে।

এই তুলা সংকটের সরাসরি আঘাত এসে পড়ছে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। দেশটিতে যখন তীব্র ডলার-সংকট ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) বজায় রয়েছে, ঠিক তখনই কোটি কোটি ডলার ঢালতে হচ্ছে বিদেশি তুলা কিনতে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের সরাসরি শিকার হচ্ছে পাকিস্তান।

শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তুলা খাতের বর্তমান সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে বীজ ব্যবস্থাপনা, কৃষি গবেষণা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে।

বিশেষ করে নিম্নমানের ও অনিবন্ধিত বীজের ব্যবহার তুলা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষকদের জন্য কার্যকর কৃষি পরামর্শ সেবা এবং সমন্বিত কীট ব্যবস্থাপনার অভাবও উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে সরকার কৃষি উন্নয়ন ও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির কথা বললেও তুলা চাষে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাময়িক সহায়তা বা আমদানি নির্ভরতার মাধ্যমে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও মূল সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতগুলোর একটি বস্ত্রশিল্প। এই শিল্পের বড় অংশই তুলার ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাজারে তুলার সরবরাহ কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোকে বেশি দামে বিদেশ থেকে কাঁচামাল কিনতে হচ্ছে।

এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং মুনাফা কমছে। শিল্প মালিকরা শুল্ক ছাড়, কম দামে জ্বালানি এবং কর সুবিধার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, একদিকে স্থানীয় তুলার উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে আমদানির খরচ বাড়ছে। ফলে শিল্পের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কেবল কর ছাড় বা সাময়িক প্রণোদনা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তুলার উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষি গবেষণা, উন্নতমানের বীজ, সেচব্যবস্থা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

পাকিস্তানের তুলা উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ ও অসময়ের বন্যা তুলা চাষে বড় ধরনের ক্ষতি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং পুরোনো চাষপদ্ধতি। ফলে উৎপাদনশীলতা কমছে। অনেক কৃষক তুলা চাষ থেকে সরে গিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুলা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজারে স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তুলা আমদানির কারণে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ বাড়ছে। দেশের বস্ত্রশিল্প রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও সেই শিল্পের কাঁচামালের একটি বড় অংশ এখন বিদেশ থেকে কিনতে হচ্ছে।

ফলে রপ্তানি আয়ের একটি অংশ আবার কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বাড়লে বা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে পাকিস্তানের শিল্প খাত আরো ঝুঁকির মুখে পড়বে।

একসময় যে তুলা দেশের কৃষকদের আয় এবং শিল্পের কাঁচামালের প্রধান উৎস ছিল, সেই তুলাই এখন পাকিস্তানের জন্য আমদানি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাকিস্তানের তুলা খাত এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। উৎপাদন কমছে, চাষের জমি সংকুচিত হচ্ছে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষক, সুতা কল, বস্ত্র কারখানা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে।

তুলা পাকিস্তানের রপ্তানি অর্থনীতির জন্য এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশটির বস্ত্রশিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে আরো বেশি আমদানিনির্ভর হতে হবে।

একসময়ের ‘সাদা সোনা’ পাকিস্তানের অর্থনীতির শক্তি ছিল। এখন সেই তুলাই দেশটির কৃষি ও শিল্প খাতের দুর্বলতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধে জড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরো তীব্র করে তুলেছে লোহিত সাগরে নতুন করে শুরু হওয়ার উত্তেজনা। এ অঞ্চলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরেক দফায় প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে, ইরান বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই ফ্রন্টে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পুরনো সংঘাত নতুন করে উজ্জীবিত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

গত সোমবার হুথিরা ঘোষণা দেয়, তারা কোনো জাহাজকে সৌদি আরবের বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানোর অনুমতি দেবে না। এই হুমকি কার্যকর হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হয়। অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে লোহিত সাগরপথের এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে।

হুথিদের এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক সামরিক সহায়তা চায়নি সৌদি আরব।

তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হুথিরা যদি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘এ ধরনের কিছু ঘটলে আমরা সেটি মোকাবিলা করব। এর আগেও আমরা হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি বাস্তবে এতটা সহজ নয়।

দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন আরেকটি সামরিক ফ্রন্টে জড়াতে হতে পারে, যা ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বহু বছর ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মুখেও হুথিরা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানকে ঘিরে পরিচালিত সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি আরেকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা জেসন ক্যাম্পবেল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সঙ্গে দুটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সম্পদ ভাগ করে ব্যবহার করতে হবে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি অংশ ইয়েমেন উপকূলের দিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, যাতে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

হুথিদের পুরনো পদক্ষেপে ট্রাম্পের নতুন চ্যালেঞ্জ

হুথিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যও নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে দ্রুত তেহরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার আশা করেছিলেন। কিন্তু সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে।

সতর্ক করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করতে হবে। এতে ইতোমধ্যেই চাপের মুখে থাকা মার্কিন অস্ত্রভান্ডার আরও সংকুচিত হতে পারে।

হুথিদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সাবেক মার্কিন উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় রয়টার্সকে বলেন, অতীতেও তারা একাধিকবার প্রমাণ করেছে যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা এবং ইচ্ছা—দুটিই তাদের রয়েছে।

পুরনো সংঘাতের জটিল রূপ

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ সচল রাখতে হুথিদের অবস্থানে একাধিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে ট্রাম্প প্রশাসনও ইয়েমেন উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে সেই অভিযান আরও জোরদার করে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযানের পরও হুথিদের নৌপথে হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। বরং গত বছরের দুই মাসব্যাপী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি বিমানবাহী রণতরী, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং বি-২ কৌশলগত বোমারু বিমান মোতায়েন করতে হয়েছিল।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় আরও সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে ইয়েমেনকেন্দ্রিক নতুন সংঘাত শুরু হলে প্রয়োজনীয় নৌ ও আকাশ শক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক সম্পদ বণ্টন আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

তবে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সামরিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্মকর্তা মার্ক ক্যানসিয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হলেও হুথিরাও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ ইরানের ওপর চলমান অবরোধের কারণে তাদের প্রধান সমর্থক থেকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শতভাগ কার্যকর না হলেও যথেষ্ট কার্যকর। ফলে হুথিদের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে এমন অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে।